স্ট্রিম প্রতিবেদক

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত ১১ দিন ধরে সংকট চলছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। শিল্পকারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গেছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি টার্মিনাল সচলে অপেক্ষা বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি। তবে এর আগেই পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে অক্ষত বয়লারটি চালুর চেষ্টা চলছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন স্ট্রিমকে বলেন, টার্মিনালটিতে দুটি বয়লার রয়েছে। এর একটিতে অগ্নিকাণ্ড থেকে হওয়া কারিগরি ত্রুটির কারণে পুরো টার্মিনাল বন্ধ রাখা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে একটি বয়লার চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা বলতে পারি– আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে টার্মিনাল চালু করা যাবে এবং দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু সম্ভব হবে। পরের সপ্তাহে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হতে পারে।
আরপিজিসিএলের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হতো, যা দৈনিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৭-৩৮ শতাংশ। তবে টার্মিনাল বন্ধের পর এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। গত ১৯ জুলাই ২ হাজার ৬০৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। ৩০ জুলাই তা কমে ২ হাজার ১২১ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে।
এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। স্বাভাবিক সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এই কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, শুক্রবার মাঝরাতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। স্ট্রিমের স্থানীয় প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যে, সাভার-আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীর বহু শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা রান্নার জন্য গ্যাস পাচ্ছেন না। অনেক এলাকায় টানা কয়েকদিন ধরে চুলা জ্বলছে না বলে গ্রাহকেরা অভিযোগ করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকেই বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করছেন, যা বিদ্যুতের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এজন্য অবশ্য একাধিকবার দুঃখপ্রকাশ করেছে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
বর্তমান সংকটের সময়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অধ্যাপক এম শামসুল আলম, ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা
গ্যাসের এই সংকট চলাকালেই বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য পেট্রোবাংলা থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, জালালাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির বিতরণ মাশুল বাড়ানোর আবেদনও মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে পেট্রোবাংলা।
জ্বালানি বিভাগের নীতিগত সম্মতি পেলে পেট্রোবাংলার প্রস্তাব যাবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে। কমিশন আবেদন যাচাইবাছাই ও গণশুনানি শেষে সিদ্ধান্ত দেবে। যদিও গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেছেন, বর্তমান সংকটের সময়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
সম্প্রতি রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, গত ১৫ বছরের সমস্যা বর্তমান সরকারের মাত্র ৬ মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা না করে বিগত সময়ে দেশকে এলএনজি আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত ১১ দিন ধরে সংকট চলছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। শিল্পকারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গেছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি টার্মিনাল সচলে অপেক্ষা বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি। তবে এর আগেই পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে অক্ষত বয়লারটি চালুর চেষ্টা চলছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন স্ট্রিমকে বলেন, টার্মিনালটিতে দুটি বয়লার রয়েছে। এর একটিতে অগ্নিকাণ্ড থেকে হওয়া কারিগরি ত্রুটির কারণে পুরো টার্মিনাল বন্ধ রাখা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে একটি বয়লার চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা বলতে পারি– আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে টার্মিনাল চালু করা যাবে এবং দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু সম্ভব হবে। পরের সপ্তাহে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হতে পারে।
আরপিজিসিএলের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হতো, যা দৈনিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৭-৩৮ শতাংশ। তবে টার্মিনাল বন্ধের পর এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। গত ১৯ জুলাই ২ হাজার ৬০৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। ৩০ জুলাই তা কমে ২ হাজার ১২১ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে।
এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। স্বাভাবিক সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৫০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এই কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, শুক্রবার মাঝরাতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। স্ট্রিমের স্থানীয় প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যে, সাভার-আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীর বহু শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা রান্নার জন্য গ্যাস পাচ্ছেন না। অনেক এলাকায় টানা কয়েকদিন ধরে চুলা জ্বলছে না বলে গ্রাহকেরা অভিযোগ করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকেই বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করছেন, যা বিদ্যুতের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এজন্য অবশ্য একাধিকবার দুঃখপ্রকাশ করেছে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
বর্তমান সংকটের সময়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অধ্যাপক এম শামসুল আলম, ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা
গ্যাসের এই সংকট চলাকালেই বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য পেট্রোবাংলা থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, জালালাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির বিতরণ মাশুল বাড়ানোর আবেদনও মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে পেট্রোবাংলা।
জ্বালানি বিভাগের নীতিগত সম্মতি পেলে পেট্রোবাংলার প্রস্তাব যাবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে। কমিশন আবেদন যাচাইবাছাই ও গণশুনানি শেষে সিদ্ধান্ত দেবে। যদিও গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেছেন, বর্তমান সংকটের সময়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
সম্প্রতি রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, গত ১৫ বছরের সমস্যা বর্তমান সরকারের মাত্র ৬ মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা না করে বিগত সময়ে দেশকে এলএনজি আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
.png)

সারা দেশে পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা চালাতে পারে– এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বর্তমানে সরকারের গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
১ ঘণ্টা আগে
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে স্থানীয় একটি চুন কারখানার অবৈধ সংযোগের চেষ্টায় পাইপ ফেটে যায় বলে। এই বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও, তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
৩ ঘণ্টা আগে
ওসি জানান, পর্নগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে সন্ধ্যার দিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে