চলতি বছরের আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় লেখক, আইনজীবী ও অধিকারকর্মী বানু মুশতাক। তাঁর লেখা ছোটগল্পের সংকলন ‘হার্ট ল্যাম্প’–এর জন্য বুকার পেলেন তিন। অথচ জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে এই নারী গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মারুফ ইসলাম
স্ট্রিম ডেস্ক

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, লন্ডনের টেট মডার্ন গ্যালারিতে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন বানু মুশতাক। তিনি বলেন, ‘মহান এ সম্মান আমি কোনো ব্যক্তি হিসেবে গ্রহণ করছি না, বরং এমন এক কণ্ঠস্বর হিসেবে গ্রহণ করছি, যা আরও বহু কণ্ঠের সঙ্গে সমবেতভাবে উচ্চারিত হয়েছে।’
‘হার্ট ল্যাম্প’ কান্নাড়া ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন দীপা ভাস্তি। গল্প বাছাইয়ে তিনি বানু মুশতাককে সাহায্য করেছেন। বইটিতে ১২টি গল্প সংকলিত হয়েছে, যেগুলো ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত হয়।
বিবিসি জানিয়েছে, পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার পাউন্ড (৬৭ হাজার ডলার), যা অনুবাদক দীপা ভাস্তির সঙ্গে তিনি সমান ভাগ করে নেবেন।
৭৭ বছর বয়সী বানু মুশতাক কান্নাড়া ভাষায় লেখালেখি করেন। এ ভাষার লেখকদের মধ্যে তিনি প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি পেলেন। তিনি ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমের কর্ণাটক রাজ্যে বসবাস করেন। নারী অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা ও বৈষম্যবিরোধী আইনি লড়াইয়ের জন্য বানু মুশতাক সুপরিচিত।
বানু মুশতাক কর্নাটকের একটি ছোট শহরের মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় বড় হয়েছেন। অন্য প্রতিবেশীদের মতোই তিনি স্কুলে উর্দুতে কুরআন পড়তে শিখেছিলেন। তাঁর সরকারি কর্মচারী বাবা চাইতেন তাকে উচ্চশিক্ষিত করে তুলতে। তাই আট বছর বয়সে বানু মুশতাককে ভর্তি করেছিলেন কন্নড় মাধ্যমিক স্কুলে।
তার বয়সী অন্য মেয়েদের যখন বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, তারা সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, তখন বানু মুশতাকস্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছেন। নিজের পছন্দ করা পুরুষটিকেই তিনি ২৬ বছর বয়সে বিয়ে করেন। বিয়ের বছর খানেক পরে তার প্রথম ছোট গল্প ছাপা হয় একটি স্থানীয় পত্রিকায়।
ভালবেসে বিয়ে করলেও শ্বশুরবাড়িতে তাকে বোরখা পড়তে বাধ্য করা হত, ঘরের কাজ করতে বলা হতো। জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে বানু মুশতাক একবার নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর নিজের কথায়, ‘আমার স্বামী কিছু একটা আন্দাজ করে জড়িয়ে ধরেন, দেশলাইয়ের বাক্সটা নিয়ে নেন। আমাদের সন্তানকে পায়ের কাছে রেখে কাতরভাবে বলেছিলেন, আমাদের ছেড়ে যেও না।’
লেখালেখির জন্য বানু মুশতাকের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি হয়েছিল এবং একবার এক ব্যক্তি চাকু দিয়ে আক্রমণও করেছিল। তবে তার স্বামী তখন তাকে বাঁচান।
বানু মুশতাকের লেখার ব্যাপারে ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, মূলধারা ভারতীয় সাহিত্যে মুসলমান নারীদের আসলে একটা রূপক হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে – যারা হয় নিঃশব্দে সহ্য করে যায় অথবা ব্যঙ্গ শুনতে হয়। বানু মুশতাকের লেখা এই দুই ধরনের চরিত্রকেই বর্জন করে। তার চরিত্রগুলো মানিয়ে চলে, কখনও আলোচনা করে এগোতে চায়, কখনও আবার বিদ্রোহ করে বসে। তবে সেগুলো এমন চরিত্র না, যারা সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম দ্য উইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বানু মুশতাক বলেন, ‘ধর্মের পুরুষতান্ত্রিক ব্যাখ্যাকে আমি এক নাগাড়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছি। এগুলোই আমার লেখার মূল বিষয়।
বুকার পুরস্কারে বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি ম্যাক্স পোর্টার ‘হার্ট ল্যাম্প’কে ইংরেজি পাঠকদের জন্য ‘সত্যিকারের নতুন কিছু’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি বিপ্লবাত্মক অনুবাদ, যা ভাষার গতিপথ বদলে দেয়, ভিন্ন ভিন্ন ইংরেজির মধ্যে নতুন রূপ ও ছোঁয়া তৈরি করে। এটি আমাদের অনুবাদের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায় ও বিস্তৃত করে।’
জুরি বোর্ডের সদস্যরা বলেন, গল্পগুলোতে দক্ষিণ ভারতের মুসলিম সমাজের দৈনন্দিন জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। গল্পগুলোতে বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের অভিজ্ঞতা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুকার পুরস্কারের অনুষ্ঠানে বানু মুশতাক বলেন, ‘আমার গল্পগুলো নারীদের ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। ধর্ম, সমাজ ও রাজনীতি কীভাবে তাঁদের থেকে নিঃশর্ত আনুগত্য দাবি করে; ফলাফল হিসেবে কীভাবে নিষ্ঠুরতার শিকার হন তাঁরা—এসব আমি গল্পে বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, লন্ডনের টেট মডার্ন গ্যালারিতে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন বানু মুশতাক। তিনি বলেন, ‘মহান এ সম্মান আমি কোনো ব্যক্তি হিসেবে গ্রহণ করছি না, বরং এমন এক কণ্ঠস্বর হিসেবে গ্রহণ করছি, যা আরও বহু কণ্ঠের সঙ্গে সমবেতভাবে উচ্চারিত হয়েছে।’
‘হার্ট ল্যাম্প’ কান্নাড়া ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন দীপা ভাস্তি। গল্প বাছাইয়ে তিনি বানু মুশতাককে সাহায্য করেছেন। বইটিতে ১২টি গল্প সংকলিত হয়েছে, যেগুলো ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত হয়।
বিবিসি জানিয়েছে, পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার পাউন্ড (৬৭ হাজার ডলার), যা অনুবাদক দীপা ভাস্তির সঙ্গে তিনি সমান ভাগ করে নেবেন।
৭৭ বছর বয়সী বানু মুশতাক কান্নাড়া ভাষায় লেখালেখি করেন। এ ভাষার লেখকদের মধ্যে তিনি প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি পেলেন। তিনি ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমের কর্ণাটক রাজ্যে বসবাস করেন। নারী অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা ও বৈষম্যবিরোধী আইনি লড়াইয়ের জন্য বানু মুশতাক সুপরিচিত।
বানু মুশতাক কর্নাটকের একটি ছোট শহরের মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় বড় হয়েছেন। অন্য প্রতিবেশীদের মতোই তিনি স্কুলে উর্দুতে কুরআন পড়তে শিখেছিলেন। তাঁর সরকারি কর্মচারী বাবা চাইতেন তাকে উচ্চশিক্ষিত করে তুলতে। তাই আট বছর বয়সে বানু মুশতাককে ভর্তি করেছিলেন কন্নড় মাধ্যমিক স্কুলে।
তার বয়সী অন্য মেয়েদের যখন বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, তারা সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, তখন বানু মুশতাকস্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছেন। নিজের পছন্দ করা পুরুষটিকেই তিনি ২৬ বছর বয়সে বিয়ে করেন। বিয়ের বছর খানেক পরে তার প্রথম ছোট গল্প ছাপা হয় একটি স্থানীয় পত্রিকায়।
ভালবেসে বিয়ে করলেও শ্বশুরবাড়িতে তাকে বোরখা পড়তে বাধ্য করা হত, ঘরের কাজ করতে বলা হতো। জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে বানু মুশতাক একবার নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর নিজের কথায়, ‘আমার স্বামী কিছু একটা আন্দাজ করে জড়িয়ে ধরেন, দেশলাইয়ের বাক্সটা নিয়ে নেন। আমাদের সন্তানকে পায়ের কাছে রেখে কাতরভাবে বলেছিলেন, আমাদের ছেড়ে যেও না।’
লেখালেখির জন্য বানু মুশতাকের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি হয়েছিল এবং একবার এক ব্যক্তি চাকু দিয়ে আক্রমণও করেছিল। তবে তার স্বামী তখন তাকে বাঁচান।
বানু মুশতাকের লেখার ব্যাপারে ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, মূলধারা ভারতীয় সাহিত্যে মুসলমান নারীদের আসলে একটা রূপক হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে – যারা হয় নিঃশব্দে সহ্য করে যায় অথবা ব্যঙ্গ শুনতে হয়। বানু মুশতাকের লেখা এই দুই ধরনের চরিত্রকেই বর্জন করে। তার চরিত্রগুলো মানিয়ে চলে, কখনও আলোচনা করে এগোতে চায়, কখনও আবার বিদ্রোহ করে বসে। তবে সেগুলো এমন চরিত্র না, যারা সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম দ্য উইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বানু মুশতাক বলেন, ‘ধর্মের পুরুষতান্ত্রিক ব্যাখ্যাকে আমি এক নাগাড়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছি। এগুলোই আমার লেখার মূল বিষয়।
বুকার পুরস্কারে বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি ম্যাক্স পোর্টার ‘হার্ট ল্যাম্প’কে ইংরেজি পাঠকদের জন্য ‘সত্যিকারের নতুন কিছু’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি বিপ্লবাত্মক অনুবাদ, যা ভাষার গতিপথ বদলে দেয়, ভিন্ন ভিন্ন ইংরেজির মধ্যে নতুন রূপ ও ছোঁয়া তৈরি করে। এটি আমাদের অনুবাদের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায় ও বিস্তৃত করে।’
জুরি বোর্ডের সদস্যরা বলেন, গল্পগুলোতে দক্ষিণ ভারতের মুসলিম সমাজের দৈনন্দিন জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। গল্পগুলোতে বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের অভিজ্ঞতা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুকার পুরস্কারের অনুষ্ঠানে বানু মুশতাক বলেন, ‘আমার গল্পগুলো নারীদের ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। ধর্ম, সমাজ ও রাজনীতি কীভাবে তাঁদের থেকে নিঃশর্ত আনুগত্য দাবি করে; ফলাফল হিসেবে কীভাবে নিষ্ঠুরতার শিকার হন তাঁরা—এসব আমি গল্পে বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি।’

সাহিত্য সমালোচকদের মতে, ফররুখ আহমদ কাব্যের মাধ্যমে ইসলামি ভাবধারাকে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি রাষ্ট্রের কোনো আনুকূল্য পাননি। বরং তাঁকে শিকার হতে হয়েছে তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিহিংসার। তবুও ক্ষুরধার কলম থেমে থাকেনি।
৮ ঘণ্টা আগে
বরফভাঙা জাহাজে টানা আট দিনের এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় তাঁরা ৮২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ অতিক্রম করেন। উত্তাল সমুদ্র আর কনকনে ঠান্ডার মাঝে ‘বরফের জঙ্গল’ পেরিয়ে তাঁরা বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন।
১১ ঘণ্টা আগে
আজ ৯ জুন, আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারকগুলো সংরক্ষণের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। মূলত প্রাচীন নথি, দলিলাদি এবং আমাদের জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই দিবসটির মূল লক্ষ্য।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের মানুষের কাছে রাজনীতি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়। রাষ্ট্রের বিন্যাস আর গঠনকাঠামো বুঝতে চাওয়া পাঠকের সংখ্যা প্রচুর। এ ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়। তবে বিগত কয়েক দশকে রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই বিশেষ বিষয়কেন্দ্রিক বই প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক স
২ দিন আগে