স্ট্রিম ডেস্ক

আমাদের চারপাশে এমন অনেক দম্পতি দেখা যায়, যাদের দুজনের স্বভাব সম্পূর্ণ বিপরীত। দেখা যায়, হয়তো ছুটির দিনে স্বামী পাড়ার মোড়ে বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। কিংবা অচেনা কোনো মানুষের সঙ্গেও আড্ডা জমিয়েছেন। অন্যদিকে, স্ত্রী হয়তো খুব শান্ত ও চুপচাপ। বাইরে পরিচিত কাউকে দেখলেও তিনি এড়িয়ে চলেন বা ভিড় এড়িয়ে আড়ালে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। কিংবা এর উল্টোটাও হতে পারে। হয়তো স্ত্রী খুবই মিশুকে, সবার সঙ্গে হাসিখুশি প্রাণবন্ত আড্ডা দিতে ভালোবাসেন; অন্যদিকে স্বামী হয়তো খুব অন্তর্মুখী, ঘরেই থাকতে পছন্দ করেন কিংবা ভিড়ের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন।
এমন বিপরীত স্বভাবের সঙ্গীদের আমরা প্রায়ই দেখতে পাই। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষায় এমন দম্পতির মধ্যে চুপচাপ মানুষটি ‘ব্ল্যাক ক্যাট’ আর মিশুকে মানুষটি ‘গোল্ডেন রিট্রিভার’। এই ধারণাটা মূলত সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই জনপ্রিয় হয়েছে।
‘ব্ল্যাক ক্যাট’ স্বভাবের মানুষ সাধারণত একটু অন্তর্মুখী, চুপচাপ এবং রহস্যময় হন। তাঁরা সাধারণত সহজে সবার সঙ্গে মিশতে পারেন না, নিজের মতো থাকতে ভালোবাসেন এবং নতুন কাউকে বিশ্বাস করতে কিছুটা সময় নেন। বাইরে থেকে অনেক সময় তাঁদের একটু গম্ভীর বা দূরত্ব বজায় স্বভাবের মানুষ মনে হতে পারে। কিন্তু একবার যদি তাঁরা কাউকে আপন করে নেন, তখন খুবই বিশ্বস্ত, যত্নশীল এবং গভীরভাবে সম্পর্ককে মূল্য দেন। তাঁরা ভালো শ্রোতা হন এবং ভেবে-চিন্তে কথা বলেন।
অন্যদিকে ‘গোল্ডেন রিট্রিভার’ স্বভাবের মানুষরা বেশ খোলামেলা, বন্ধুসুলভ এবং মিশুক। সাধারণত তাঁরা সহজেই নতুন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন এবং দ্রুত কারও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারেন। তাঁরা নিজের অনুভূতি সহজেই প্রকাশ করেন এবং অন্যকে খুশি করতে আগ্রহী থাকেন।
এই দুই বিপরীত স্বভাবের মানুষ অনেক সময় একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হন। কারণ তাঁরা একে অপরের মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পান, যা তাঁদের নিজের মধ্যে নেই। ফলে সম্পর্কের মধ্যে একটা আকর্ষণ তৈরি হয়, যা অনেক সময় সম্পর্ককে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এই ধরনের সম্পর্কে আরও কিছু সুন্দর দিক আছে। যেমন, মিশুক মানুষটি সঙ্গীকে একটু বেশি সামাজিক হতে উৎসাহ দিতে পারেন। আবার শান্ত স্বভাবের মানুষটি তাঁকে শেখাতে পারেন কীভাবে ধীরে চলতে হয়, অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতে হয়। এই পারস্পরিক সমঝোতার কারণে সম্পর্কে একে অপরের প্রতি সম্মানও বাড়ে।
তবে এমন সম্পর্কের চ্যালেঞ্জও কম নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় যোগাযোগের ধরনে। যারা বেশি মিশুক, তাঁরা অনেক সময় না ভেবেই কিছু কথা বলে ফেলেন, যা পরে ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, যারা অন্তর্মুখী, তাঁরা আগে ভাবেন, তারপর কথা বলেন। এই দুই স্বভাবের কারণে ছোট ছোট বিষয়েও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এই ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে সবচেয়ে জরুরি হলো বোঝাপড়া আর সম্মান। একে অপরকে বদলানোর চেষ্টা না করে, তাঁদের স্বভাবটা বোঝার চেষ্টা করা দরকার। সঙ্গীর কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা জরুরি। নিজের চাহিদা এবং অনুভূতিগুলো পরিষ্কারভাবে জানানোও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই ‘ব্ল্যাক ক্যাট’ আর ‘গোল্ডেন রিট্রিভার’ ধারণার সমালোচনাও আছে। অনেকেই মনে করেন, এগুলো কখনো কখনো এমন সম্পর্ককে বৈধতা দেয়, যেখানে একজন দূরত্ব বজায় রাখেন আর অন্যজন সবসময় তার মনোযোগ পেতে চেষ্টা করেন। এতে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে।
তবে বাস্তবতা হলো, কোনো সম্পর্কই এত সরল নয় যে একটিমাত্র লেবেল দিয়ে তাকে ব্যাখ্যা করা যাবে। অনেক সময় দেখা যায়, যে মানুষটি সাধারণত চুপচাপ, সেও কোনো কোনো পরিস্থিতিতে খুব মিশুক হয়ে ওঠেন। আবার খুব সামাজিক মানুষও কখনো কখনো একা থাকতে চান।
সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলায়। নতুন অভিজ্ঞতা, পরিবেশ, দায়িত্ব—সবকিছুই মানুষের স্বভাবকে প্রভাবিত করে। তাই একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে সম্পর্ককে আটকে না রেখে, সময়ের সঙ্গে একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে, যেটা সবচেয়ে বেশি জরুরি, তা হলো যোগাযোগের পথ খোলা রাখা। একে অপরের কথা মন দিয়ে শোনা, না বলা কথা অনুমান না করা এবং পার্থক্যগুলোকে সমস্যা না ভাবা। আর হ্যাঁ, সম্পর্কের ব্যাপারে পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে ৩০ সেকেন্ডের সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওর ওপর ভরসা না করাই ভালো।

আমাদের চারপাশে এমন অনেক দম্পতি দেখা যায়, যাদের দুজনের স্বভাব সম্পূর্ণ বিপরীত। দেখা যায়, হয়তো ছুটির দিনে স্বামী পাড়ার মোড়ে বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। কিংবা অচেনা কোনো মানুষের সঙ্গেও আড্ডা জমিয়েছেন। অন্যদিকে, স্ত্রী হয়তো খুব শান্ত ও চুপচাপ। বাইরে পরিচিত কাউকে দেখলেও তিনি এড়িয়ে চলেন বা ভিড় এড়িয়ে আড়ালে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। কিংবা এর উল্টোটাও হতে পারে। হয়তো স্ত্রী খুবই মিশুকে, সবার সঙ্গে হাসিখুশি প্রাণবন্ত আড্ডা দিতে ভালোবাসেন; অন্যদিকে স্বামী হয়তো খুব অন্তর্মুখী, ঘরেই থাকতে পছন্দ করেন কিংবা ভিড়ের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন।
এমন বিপরীত স্বভাবের সঙ্গীদের আমরা প্রায়ই দেখতে পাই। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষায় এমন দম্পতির মধ্যে চুপচাপ মানুষটি ‘ব্ল্যাক ক্যাট’ আর মিশুকে মানুষটি ‘গোল্ডেন রিট্রিভার’। এই ধারণাটা মূলত সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই জনপ্রিয় হয়েছে।
‘ব্ল্যাক ক্যাট’ স্বভাবের মানুষ সাধারণত একটু অন্তর্মুখী, চুপচাপ এবং রহস্যময় হন। তাঁরা সাধারণত সহজে সবার সঙ্গে মিশতে পারেন না, নিজের মতো থাকতে ভালোবাসেন এবং নতুন কাউকে বিশ্বাস করতে কিছুটা সময় নেন। বাইরে থেকে অনেক সময় তাঁদের একটু গম্ভীর বা দূরত্ব বজায় স্বভাবের মানুষ মনে হতে পারে। কিন্তু একবার যদি তাঁরা কাউকে আপন করে নেন, তখন খুবই বিশ্বস্ত, যত্নশীল এবং গভীরভাবে সম্পর্ককে মূল্য দেন। তাঁরা ভালো শ্রোতা হন এবং ভেবে-চিন্তে কথা বলেন।
অন্যদিকে ‘গোল্ডেন রিট্রিভার’ স্বভাবের মানুষরা বেশ খোলামেলা, বন্ধুসুলভ এবং মিশুক। সাধারণত তাঁরা সহজেই নতুন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন এবং দ্রুত কারও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারেন। তাঁরা নিজের অনুভূতি সহজেই প্রকাশ করেন এবং অন্যকে খুশি করতে আগ্রহী থাকেন।
এই দুই বিপরীত স্বভাবের মানুষ অনেক সময় একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হন। কারণ তাঁরা একে অপরের মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পান, যা তাঁদের নিজের মধ্যে নেই। ফলে সম্পর্কের মধ্যে একটা আকর্ষণ তৈরি হয়, যা অনেক সময় সম্পর্ককে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এই ধরনের সম্পর্কে আরও কিছু সুন্দর দিক আছে। যেমন, মিশুক মানুষটি সঙ্গীকে একটু বেশি সামাজিক হতে উৎসাহ দিতে পারেন। আবার শান্ত স্বভাবের মানুষটি তাঁকে শেখাতে পারেন কীভাবে ধীরে চলতে হয়, অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতে হয়। এই পারস্পরিক সমঝোতার কারণে সম্পর্কে একে অপরের প্রতি সম্মানও বাড়ে।
তবে এমন সম্পর্কের চ্যালেঞ্জও কম নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় যোগাযোগের ধরনে। যারা বেশি মিশুক, তাঁরা অনেক সময় না ভেবেই কিছু কথা বলে ফেলেন, যা পরে ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, যারা অন্তর্মুখী, তাঁরা আগে ভাবেন, তারপর কথা বলেন। এই দুই স্বভাবের কারণে ছোট ছোট বিষয়েও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এই ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে সবচেয়ে জরুরি হলো বোঝাপড়া আর সম্মান। একে অপরকে বদলানোর চেষ্টা না করে, তাঁদের স্বভাবটা বোঝার চেষ্টা করা দরকার। সঙ্গীর কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা জরুরি। নিজের চাহিদা এবং অনুভূতিগুলো পরিষ্কারভাবে জানানোও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই ‘ব্ল্যাক ক্যাট’ আর ‘গোল্ডেন রিট্রিভার’ ধারণার সমালোচনাও আছে। অনেকেই মনে করেন, এগুলো কখনো কখনো এমন সম্পর্ককে বৈধতা দেয়, যেখানে একজন দূরত্ব বজায় রাখেন আর অন্যজন সবসময় তার মনোযোগ পেতে চেষ্টা করেন। এতে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে।
তবে বাস্তবতা হলো, কোনো সম্পর্কই এত সরল নয় যে একটিমাত্র লেবেল দিয়ে তাকে ব্যাখ্যা করা যাবে। অনেক সময় দেখা যায়, যে মানুষটি সাধারণত চুপচাপ, সেও কোনো কোনো পরিস্থিতিতে খুব মিশুক হয়ে ওঠেন। আবার খুব সামাজিক মানুষও কখনো কখনো একা থাকতে চান।
সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলায়। নতুন অভিজ্ঞতা, পরিবেশ, দায়িত্ব—সবকিছুই মানুষের স্বভাবকে প্রভাবিত করে। তাই একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে সম্পর্ককে আটকে না রেখে, সময়ের সঙ্গে একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে, যেটা সবচেয়ে বেশি জরুরি, তা হলো যোগাযোগের পথ খোলা রাখা। একে অপরের কথা মন দিয়ে শোনা, না বলা কথা অনুমান না করা এবং পার্থক্যগুলোকে সমস্যা না ভাবা। আর হ্যাঁ, সম্পর্কের ব্যাপারে পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে ৩০ সেকেন্ডের সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওর ওপর ভরসা না করাই ভালো।
.png)

একসঙ্গে থাকতে থাকতে অনেক দম্পতির জীবনেই একটা সময় আসে, যখন দুজনের মধ্যে আগের মতো ঘনিষ্ঠতা থাকে না। ভালোবাসা হয়তো আছে, কিন্তু কথা বলার সময় কমে যায়। কারও অফিস শেষ হতে রাত হয়ে যায়, কেউ আবার সারাদিন ঘরের কাজ সামলে ক্লান্ত। এর সঙ্গে যোগ হয় অভিমান, মানসিক চাপ কিংবা সম্পর্কের ছোট ছোট দূরত্ব। একসময় দেখা যায়,
১ ঘণ্টা আগে
ভাবা যায়, মাত্র চব্বিশ বছরের কাছাকাছি বয়সে শহীদ কাদরী তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম রেখেছিলেন উত্তরাধিকার। আর জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ গোধূলির গান-এর প্রথম কবিতাটি তিনি শুরু করেন দুটো অনিশ্চয়ক শব্দে—‘জানি না’।
৫ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহ শহরের ভাটিকাশর কবরস্থান হাজারো মানুষের শেষ ঠিকানার গল্প বলে। আর সেই গল্পের নিত্যদিনের সাক্ষী মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল কাদের লিটন। প্রায় সাড়ে তিন একর জমির এই সরকারি কবরস্থানে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি ইমাম ও রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কাছ থেকেই জানা গেল, কবরস্থানের নীরবতার
৮ ঘণ্টা আগে
বন্ধুর কথা শুনে আমি তারেক মাসুদের সিনেমা দেখলাম। এরপর তারেকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ‘ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্সের’ মাধ্যমে অনেক তরুণ ও প্রতিভাবান চলচ্চিত্র নির্মাতা উঠে এসেছেন। তাদের মধ্যে তারেক মাসুদ ছিলেন অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিভা।
১৩ আগস্ট ২০২৬