আজ ১৭ ডিসেম্বর। এদিনে রাইট ভ্রাতৃদ্বয় প্রথমবারের মতো ইঞ্জিনচালিত উড়োজাহাজে আকাশে উড়েছিলেন। মাত্র ১২ সেকেন্ডের প্রথম সেই উড্ডয়ন বদলে দিয়েছিল মানুষের যাতায়াতের ইতিহাস। সাইকেলের দোকান থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষা, ব্যর্থতা আর জেদের ফলেই মানুষ প্রথমবার বাতাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছিল।
ফাবিহা বিনতে হক

মানুষের মনে আকাশে ওড়ার স্বপ্নটা কিন্তু নতুন নয়, হাজার বছরের পুরোনো। আদিমকাল থেকেই পাখির মত ডানা মেলে আকাশে উড়ে বেড়ানোর সাধ মানুষের! গ্রিক পুরাণের ইকারাসের মোমের ডানা লাগিয়ে ওড়ার গল্প তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু বাস্তবে সেটা ছিল শুধুই অলীক কল্পনা।
১৮শ শতকের শেষভাগে মানুষ বেলুনে চড়ে আকাশে ভাসতে শিখেছিল ঠিকই, কিন্তু সেটাকে ঠিক ‘ওড়া’বলা যেত না। কারণ বেলুন বাতাসের গতিতে ভেসে বেড়াত, মানুষ নিজের ইচ্ছামতো সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না। মানুষ চাইছিলো এমন এক যন্ত্র, যা তাঁকে নিজের চাহিদামতো আকাশে ভেসে বেড়াতে সাহায্য করবে। সেই অসম্ভব স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন দুই ভাই, অরভিল রাইট এবং উইলবার রাইট।
যাঁরা মানুষকে উড়তে শিখিয়েছিলেন, তাঁরা কোনো বড় বিজ্ঞানী বা নামকরা ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন আমেরিকার ওহাইও রাজ্যের সাধারণ দুইজন সাইকেল মেকানিক। তাঁদের একটা সাইকেল মেরামতের দোকান ছিল।
সাইকেল চালাতে গেলে যেমন ভারসাম্যের প্রয়োজন হয়, রাইট ভাইয়েরা বুঝতে পেরেছিলেন আকাশে উড়তে গেলেও এই ‘ভারসাম্য’ বা ব্যালেন্সটাই আসল। তাঁরা দিনের পর দিন পাখিদের ওড়া পর্যবেক্ষণ করতেন। লক্ষ্য করলেন, পাখিরা বাতাসের মধ্যে দিক বদলানোর জন্য ডানার কোণ পরিবর্তন করে।

যদিও রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের আগে আকাশের ওড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন জার্মানির অটো লিলিয়েনথাল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ১৮৯৬ সালে নিজের বানানো গ্লাইডার নিয়ে উড়তে গিয়ে প্রাণ হারান তিনি।
এই ঘটনা দুই ভাইকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাঁরা বুঝলেন, নিয়ন্ত্রণ রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বাতাসের গতিবিধি বোঝার জন্য তাঁরা নিজেদের দোকানেই ছোটখাটো একটা পরীক্ষাগার বানিয়ে সেখানে ২০০ রকমের ডানার মডেল পরীক্ষা করলেন। বইয়ের তথ্যের ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে তাঁরা নিজেরাই হিসাব কষলেন, ভুল ধরলেন, আবার নতুন করে নকশা বানালেন।
১৮৯৯ সালে তাঁরা প্রথম ছোট ঘুড়ির মতো বানালেন, যেখানে ডানার কোণ বদলে দিক নিয়ন্ত্রণের কৌশল পরীক্ষা করা হয়। এরপর ১৯০০ ও ১৯০১ সালে কিটি হকে নিয়ে যান বড় গ্লাইডার। প্রথম দিকের গ্লাইডারগুলো ঠিকমতো ভাসছিল না, কখনো হঠাৎ নিচের দিকে যাচ্ছিল, কখনো আবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ছিল। এই ব্যর্থতাগুলোই তাঁদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়ে ওঠে।
ভুল থেকে শিখে ১৯০২ সালে তাঁরা বানান একটি উন্নত গ্লাইডার, যেখানে প্রথমবারের মতো তিনটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখেন। ডানার মোচড়, দিকনির্দেশ আর ওঠা-নামার নিয়ন্ত্রণ—একসঙ্গে কাজ করা। এই গ্লাইডার দিয়েই তাঁরা শত শতবার সফলভাবে আকাশে ভেসে দেখান যে, মানুষ চাইলে সত্যিই উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
এই আত্মবিশ্বাসের পরেই তাঁরা ভাবলেন, এবার ডানায় ইঞ্জিন বসানোর সময় এসেছে।
অবশেষে এল সেই দিন। ১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর। বিমান ওড়ানোর জন্য তাঁরা বেছে নিলেন নির্জন বালুকাময় এলাকা। কারণ আটলান্টিক মহাসাগরের তীরের এই জায়গাটিতে প্রচুর বাতাস ছিল, যা উড়ার জন্য জরুরি।
মনের মত জায়গা খুঁজে পেলেও সেদিনের আবহাওয়া মোটেও সুবিধাজনক ছিল না। হাড়কাঁপানো শীতের সঙ্গে প্রচণ্ড বাতাস। তবুও রাইট ভাইরা দমে যাননি। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন, আজই তাঁদের তৈরি করা বিমান ‘রাইট ফ্লায়ার’ওড়াবেন।

কে আগে বিমানটি চালাবেন, তা ঠিক করতে দুই ভাই টস করলেন। টসে জিতলেন ছোট ভাই অরভিল রাইট। সকাল তখন ১০টা ৩৫ মিনিট। অরভিল বিমানের চালকের জায়গায় শুয়ে পড়লেন, কারণ তখনকার বিমানে বসে চালানোর ব্যবস্থা ছিল না। ইঞ্জিন চালু হলো। কাঠের তৈরি সরু রানওয়ে ধরে বিমানটি ধীরে ধীরে এগোতে লাগল। ডানার ভারসাম্য ঠিক রাখতে পাশে পাশে দৌড়াচ্ছিলেন উইলবার রাইট।
হঠাৎই ঘটল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ‘রাইট ফ্লায়ার’মাটি ছেড়ে বাতাসে ভেসে উঠল। খুব বেশি সময় নয়, মাত্র ১২ সেকেন্ড। এই অল্প সময়েই বিমানটি প্রায় ১২০ ফুট দূরত্ব পেরিয়ে গেল।
শুনতে কম মনে হলেও এই ১২ সেকেন্ডই ইতিহাস। কারণ, এটিই ছিল মানুষের বানানো ইঞ্জিনচালিত ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য উড়োজাহাজের প্রথম সফল উড্ডয়ন। প্রথমবার উড়েই তাঁরা থেমে যাননি। সেদিন তাঁরা আরও তিনবার বিমান ওড়ান। একেকবার একেক ভাই চালকের দায়িত্ব নেন।
সেদিনের শেষ অর্থাৎ চতুর্থ উড্ডয়নটি করেছিলেন উইলবার রাইট। তিনি প্রায় ৫৯ সেকেন্ড আকাশে ভেসে থেকে ৮৫২ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করেন।
রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের সেই ১২ সেকেন্ডের দিগন্তকারী প্রচেষ্টাই আজকের আধুনিক বিমান চলাচলের পথ খুলে দেয়। তাদের সেই জেদ আর সাহসের কারণেই আজ আমরা ইঞ্জিনের ডানায় ভরে করে উড়ে যেতে পারি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

মানুষের মনে আকাশে ওড়ার স্বপ্নটা কিন্তু নতুন নয়, হাজার বছরের পুরোনো। আদিমকাল থেকেই পাখির মত ডানা মেলে আকাশে উড়ে বেড়ানোর সাধ মানুষের! গ্রিক পুরাণের ইকারাসের মোমের ডানা লাগিয়ে ওড়ার গল্প তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু বাস্তবে সেটা ছিল শুধুই অলীক কল্পনা।
১৮শ শতকের শেষভাগে মানুষ বেলুনে চড়ে আকাশে ভাসতে শিখেছিল ঠিকই, কিন্তু সেটাকে ঠিক ‘ওড়া’বলা যেত না। কারণ বেলুন বাতাসের গতিতে ভেসে বেড়াত, মানুষ নিজের ইচ্ছামতো সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না। মানুষ চাইছিলো এমন এক যন্ত্র, যা তাঁকে নিজের চাহিদামতো আকাশে ভেসে বেড়াতে সাহায্য করবে। সেই অসম্ভব স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন দুই ভাই, অরভিল রাইট এবং উইলবার রাইট।
যাঁরা মানুষকে উড়তে শিখিয়েছিলেন, তাঁরা কোনো বড় বিজ্ঞানী বা নামকরা ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন আমেরিকার ওহাইও রাজ্যের সাধারণ দুইজন সাইকেল মেকানিক। তাঁদের একটা সাইকেল মেরামতের দোকান ছিল।
সাইকেল চালাতে গেলে যেমন ভারসাম্যের প্রয়োজন হয়, রাইট ভাইয়েরা বুঝতে পেরেছিলেন আকাশে উড়তে গেলেও এই ‘ভারসাম্য’ বা ব্যালেন্সটাই আসল। তাঁরা দিনের পর দিন পাখিদের ওড়া পর্যবেক্ষণ করতেন। লক্ষ্য করলেন, পাখিরা বাতাসের মধ্যে দিক বদলানোর জন্য ডানার কোণ পরিবর্তন করে।

যদিও রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের আগে আকাশের ওড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন জার্মানির অটো লিলিয়েনথাল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ১৮৯৬ সালে নিজের বানানো গ্লাইডার নিয়ে উড়তে গিয়ে প্রাণ হারান তিনি।
এই ঘটনা দুই ভাইকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাঁরা বুঝলেন, নিয়ন্ত্রণ রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বাতাসের গতিবিধি বোঝার জন্য তাঁরা নিজেদের দোকানেই ছোটখাটো একটা পরীক্ষাগার বানিয়ে সেখানে ২০০ রকমের ডানার মডেল পরীক্ষা করলেন। বইয়ের তথ্যের ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে তাঁরা নিজেরাই হিসাব কষলেন, ভুল ধরলেন, আবার নতুন করে নকশা বানালেন।
১৮৯৯ সালে তাঁরা প্রথম ছোট ঘুড়ির মতো বানালেন, যেখানে ডানার কোণ বদলে দিক নিয়ন্ত্রণের কৌশল পরীক্ষা করা হয়। এরপর ১৯০০ ও ১৯০১ সালে কিটি হকে নিয়ে যান বড় গ্লাইডার। প্রথম দিকের গ্লাইডারগুলো ঠিকমতো ভাসছিল না, কখনো হঠাৎ নিচের দিকে যাচ্ছিল, কখনো আবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ছিল। এই ব্যর্থতাগুলোই তাঁদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়ে ওঠে।
ভুল থেকে শিখে ১৯০২ সালে তাঁরা বানান একটি উন্নত গ্লাইডার, যেখানে প্রথমবারের মতো তিনটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখেন। ডানার মোচড়, দিকনির্দেশ আর ওঠা-নামার নিয়ন্ত্রণ—একসঙ্গে কাজ করা। এই গ্লাইডার দিয়েই তাঁরা শত শতবার সফলভাবে আকাশে ভেসে দেখান যে, মানুষ চাইলে সত্যিই উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
এই আত্মবিশ্বাসের পরেই তাঁরা ভাবলেন, এবার ডানায় ইঞ্জিন বসানোর সময় এসেছে।
অবশেষে এল সেই দিন। ১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর। বিমান ওড়ানোর জন্য তাঁরা বেছে নিলেন নির্জন বালুকাময় এলাকা। কারণ আটলান্টিক মহাসাগরের তীরের এই জায়গাটিতে প্রচুর বাতাস ছিল, যা উড়ার জন্য জরুরি।
মনের মত জায়গা খুঁজে পেলেও সেদিনের আবহাওয়া মোটেও সুবিধাজনক ছিল না। হাড়কাঁপানো শীতের সঙ্গে প্রচণ্ড বাতাস। তবুও রাইট ভাইরা দমে যাননি। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন, আজই তাঁদের তৈরি করা বিমান ‘রাইট ফ্লায়ার’ওড়াবেন।

কে আগে বিমানটি চালাবেন, তা ঠিক করতে দুই ভাই টস করলেন। টসে জিতলেন ছোট ভাই অরভিল রাইট। সকাল তখন ১০টা ৩৫ মিনিট। অরভিল বিমানের চালকের জায়গায় শুয়ে পড়লেন, কারণ তখনকার বিমানে বসে চালানোর ব্যবস্থা ছিল না। ইঞ্জিন চালু হলো। কাঠের তৈরি সরু রানওয়ে ধরে বিমানটি ধীরে ধীরে এগোতে লাগল। ডানার ভারসাম্য ঠিক রাখতে পাশে পাশে দৌড়াচ্ছিলেন উইলবার রাইট।
হঠাৎই ঘটল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ‘রাইট ফ্লায়ার’মাটি ছেড়ে বাতাসে ভেসে উঠল। খুব বেশি সময় নয়, মাত্র ১২ সেকেন্ড। এই অল্প সময়েই বিমানটি প্রায় ১২০ ফুট দূরত্ব পেরিয়ে গেল।
শুনতে কম মনে হলেও এই ১২ সেকেন্ডই ইতিহাস। কারণ, এটিই ছিল মানুষের বানানো ইঞ্জিনচালিত ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য উড়োজাহাজের প্রথম সফল উড্ডয়ন। প্রথমবার উড়েই তাঁরা থেমে যাননি। সেদিন তাঁরা আরও তিনবার বিমান ওড়ান। একেকবার একেক ভাই চালকের দায়িত্ব নেন।
সেদিনের শেষ অর্থাৎ চতুর্থ উড্ডয়নটি করেছিলেন উইলবার রাইট। তিনি প্রায় ৫৯ সেকেন্ড আকাশে ভেসে থেকে ৮৫২ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করেন।
রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের সেই ১২ সেকেন্ডের দিগন্তকারী প্রচেষ্টাই আজকের আধুনিক বিমান চলাচলের পথ খুলে দেয়। তাদের সেই জেদ আর সাহসের কারণেই আজ আমরা ইঞ্জিনের ডানায় ভরে করে উড়ে যেতে পারি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

ভালোবাসা মানে যার কাছে ঋণী, তাকে স্বীকার করা। যে নীরবে রক্ষা করে, তাকে কৃতজ্ঞতা জানানো। এই বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তাই ভালোবাসার তালিকায় থাকুক সুন্দরবনও।
৬ ঘণ্টা আগে
১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে পহেলা ফাল্গুন কিংবা ভালবাসা দিবস হিসেবেই আমরা জানি। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে আমাদের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৮৩ সালের এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের জন্য এক অগ্নিঝরা দিন।
৬ ঘণ্টা আগে
আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন। শীতের জীর্ণতা সরিয়ে প্রকৃতিতে লেগেছে নতুনের ছোঁয়া। বসন্তে প্রকৃতিতে ঠিক কী কী পরিবর্তন হয়? আর বসন্তের সঙ্গে মনের কোনো সম্পর্ক আছে কি?
৭ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে এই ধারণা ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে। মিলেনিয়াল এবং জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে স্টেরিওটাইপ ভাঙার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের বড় একটা কারণ সোশ্যাল মিডিয়া ও পপ কালচার।
১০ ঘণ্টা আগে