চুক্তি না হলে ফের যুদ্ধের হুঙ্কার যুক্তরাষ্ট্রের

তথ্যসূত্র:
তথ্যসূত্র:
বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হলে আবার পুরোদমে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পেন্টাগনের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই হুমকি দেন।

হেগসেথ বলেন, ‘আমরা এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর সমাধান চাই। তবে ইরান যদি “ভুল সিদ্ধান্ত” নেয় এবং আলোচনায় ব্যর্থ হয়, তবে আমাদের কাছে “কঠিন পথ” খোলা রয়েছে। আমাদের বাহিনী পুনরায় হামলা চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’

হেগসেথ জানান, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে যুক্তরাষ্ট্র তা নিশ্চিত করবে। তিনি ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে ‘বুদ্ধিমানের মতো’ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমরা আপনাদের ওপর নজর রাখছি। আমেরিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আমাদের প্রেসিডেন্ট আদেশ দিলে এবং একটি বাটনে চাপ দিলেই আমরা পুনরায় হামলা শুরু করতে পারি।’

হেগসেথ দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতার সঙ্গে ইরানের কোনো তুলনা হয় না, এই লড়াই মোটেই সমানে সমান নয়। তিনি আরও বলেন, ‘ইরান তাদের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী লঞ্চারগুলো খুঁড়ে বের করছে, কিন্তু সেগুলো প্রতিস্থাপন করার কোনো সক্ষমতা তাদের নেই।’

হেগসেথ ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের দাবি করে, কিন্তু তাদের কোনো নৌবাহিনীই নেই।’

সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীন ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই প্রসঙ্গে হেগসেথ বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভালো যোগাযোগ রয়েছে। এই নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছে এবং চীন আমাদের নিশ্চিত করেছে, ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করা হবে না।

এ সময় সংবাদমাধ্যমকে ‘ট্রাম্প-বিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে হেগসেথ বলেন, ‘আপনারা কোন পক্ষে আছেন বোঝা কঠিন। আপনাদের আচরণ দেশপ্রেমের সঙ্গে যায় না।’

সংবাদ সম্মেলনে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, গত ১৩ এপ্রিল থেকে মার্কিন বাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌঅবরোধ কার্যকর করেছে। এই অবরোধ হরমুজ প্রণালিতে নয়, বরং ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় জলসীমায় সীমাবদ্ধ।

সম্পর্কিত