চ্যাপলিনের জন্মদিনে স্মরণ
আজ চার্লি চ্যাপলিনের জন্মদিন। হাসির আড়ালে সমাজের বেদনা তুলে ধরা তাঁর ‘ট্রাম্প’ চরিত্র কীভাবে হয়ে উঠল গণমানুষের প্রতীক? শিল্পবিপ্লব থেকে বলিউড পর্যন্ত এই ভবঘুরের যাত্রা, প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতার গল্প জানতে পড়ুন এই লেখা।
ফাবিহা বিনতে হক

শিল্পবিপ্লবের চাকায় ততদিনে দুনিয়া বদলাতে শুরু করেছে। বড় বড় শহরের আকাশে তখন কারখানার কালো ধোঁয়া আর রাস্তায় মানুষের ঢল। এই মানুষগুলো নিজের বাসভূমি ছেড়ে উন্নত শহরে ভিড় করছে কাজের সন্ধানে। ইউরোপসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো অভিবাসী ‘আমেরিকান ড্রিম’-এর আশায় পাড়ি জমাচ্ছে আমেরিকায়।
কিন্তু সেখানে গিয়ে বাস্তবতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে তাঁদের সেই স্বপ্ন যেন মুখ থুবড়ে পড়ছে। মুখোমুখি হতে হচ্ছে চরম দারিদ্র্য, অমানবিক পরিশ্রম আর নিম্নমানের জীবনের। একদিকে মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির হাতে জমছে পাহাড়সম সম্পদ, অন্যদিকে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনে কেবলই বেঁচে থাকার হাহাকার।
এমন এক দমবন্ধ করা, বৈষম্যমূলক আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পর্দায় জন্ম নেয় সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক চরিত্রটি। যে মানুষটি এক হতাশাগ্রস্ত সমাজকে নতুন করে হাসতে শেখাল, সে কোনো সুপারহিরো না; সে ছিল সামান্য এক ‘ভবঘুরে’। নাম ট্রাম্প। অভিনেতার নাম চার্লি চ্যাপলিন।
কে এই ভবঘুরে
চ্যাপলিনের ভাষায়, ‘চরিত্রটি বহুমুখী—সে একাধারে একজন ভবঘুরে, একজন ভদ্রলোক, একজন কবি, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। সে সারাক্ষণ রোমান্স আর অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে থাকে। আবার সে চাইলে বিজ্ঞানীর মতো জ্ঞানগর্ভ কথাও বলতে পারে। সে সবার লাথি খায়, কিন্তু সুযোগ পেলে সেও পাল্টা লাথি মারতে ছাড়ে না।’

‘দ্য ট্রাম্প’ চলচ্চিত্রের এই ট্রাম্প মূলত পুঁজিবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষের প্রতীক। সে দরিদ্র, পকেটে কানাকড়িও নেই। তার ভেতরে বাস করে নিখুঁত ‘ভদ্রলোক’ বা জেন্টলম্যান। শত অভাব ও অপমানের মাঝেও সে নিজের আত্মমর্যাদা ধরে রাখতে চায়। পুলিশ বা ক্ষমতাবানদের তাড়া খেয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার পরও সে উঠে দাঁড়ায়, নিজের টুপিটা ঝেড়ে আবার সোজা হয়ে হাঁটা শুরু করে।
এই চরিত্র সমাজের ক্ষমতাবানদের ব্যঙ্গ করেছে, যন্ত্রসভ্যতার অমানবিকতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রমাণ করেছে—অভাবের তাড়নায় মানুষ হয়ত রাস্তায় থাকতে বাধ্য হয়, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তার ভেতরের মানবিকতা শেষ হয়ে যায়। ট্রাম্প হয়ে ওঠে সেই লাখো শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর, যাদের নিজেদের কোনো ভাষা ছিল না।
‘ট্রাম্প’-এর প্রভাব যখন বলিউডে
আমেরিকার প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া এই চরিত্র খুব দ্রুতই সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া বা ভারতীয় উপমহাদেশের সিনেমায় এই ‘ট্রাম্প’ চরিত্রের প্রভাব ছিল বেশ গভীর। ১৯৫০-এর দশকে ভারতীয় সিনেমা যখন নিজস্ব ভাষা খুঁজছে, ঠিক তখনই চ্যাপলিনের ভবঘুরেকে নতুন রূপে পর্দায় নিয়ে এলেন কিংবদন্তি অভিনেতা ও নির্মাতা রাজ কাপুর।
ভারত তখন সদ্য ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হয়েছে। দেশভাগের ক্ষত তখনও শুকায়নি। দারিদ্র্য, বেকারত্ব আর শহরমুখী ছিন্নমূল মানুষের ভিড়। এই প্রেক্ষাপটেই রাজ কাপুর নির্মাণ করলেন ‘আওয়ারা’ (১৯৫১) ও ‘শ্রী ৪২০’ (১৯৫৫)-এর মতো জনপ্রিয় ছবি। শ্রী ৪২০ সিনেমায় রাজ কাপুর অভিনীত চরিত্রটির নাম ‘রণবীর রাজ’। সবাই ডাকে ‘রাজ’ নামে। এই চরিত্রকে চ্যাপলিনের ‘ট্রাম্প’-এর ভারতীয় সংস্করণ বললেও ভুল হবে না।

‘শ্রী ৪২০’ সিনেমার সেই কালজয়ী গানের কথা স্মরণ করা যাক। ‘মেরা জুতো হ্যায় জাপানি, ইয়ে পাতলুন ইংলিশস্তানি, সার পে লাল টুপি রুসি, ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি।’ গানটির দৃশ্যপট খেয়াল করলেই চ্যাপলিনের ট্রাম্পের সঙ্গে এর নিখুঁত সাদৃশ্য পাওয়া যায়। ছেঁড়া জামা, বেমানান জুতো নিয়ে সে রাস্তায় হাঁটছে। পকেটে টাকা নেই, কিন্তু মুখে বিশ্বজয়ের হাসি। রাজ কাপুর শুধু বাহ্যিক রূপই ধার করেননি; চরিত্রটির আত্মাকেও ভারতীয় প্রেক্ষাপটে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
শুধু রাজ কাপুর নন, দক্ষিণ এশিয়ার অনেক নির্মাতাই চ্যাপলিনের প্রভাব থেকে নিজেদের সিনেমা নির্মাণ করেছেন। বলিউডের বিখ্যাত কমেডিয়ান মেহমুদ এবং জনি ওয়াকারের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ও এক্সপ্রেশনে চ্যাপলিনের সুস্পষ্ট প্রভাব ছিল। তাদের হাঁটার ভঙ্গি থেকে শুরু করে শত দুঃখের মাঝেও কৌতুক তৈরি করার ক্ষমতা— সবই সেই ভবঘুরেরই প্রতিচ্ছবি।
১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া কমল হাসানের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘পুষ্পক’ (পেসুম পদম) ছিল চ্যাপলিনের নির্বাক যুগের প্রতি ট্রিবিউট। সম্পূর্ণ সংলাপবিহীন সিনেমায় কমল হাসান কেবল শরীরি ভাষা ও অভিব্যক্তির মাধ্যমে পুরো সমাজের চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। বেকারত্ব, দারিদ্র্য আর শহরের নিষ্ঠুর বাস্তবতার মাঝে বেঁচে থাকার যে লড়াই তিনি পর্দায় দেখিয়েছিলেন, তা চার্লি চ্যাপলিনের ‘সিটি লাইটস’ বা ‘মডার্ন টাইমস’-এর কথাই মনে করিয়ে দেয়।

ভবঘুরে কেন হয়ে উঠল গণমানুষের হিরো
দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে এই চরিত্রের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল এর গভীর সংযোগ বা ‘রিলেটেবিলিটি’। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশগুলোর সাধারণ নাগরিকরা যখন দেখল, পর্দায় তাদের মতোই ছেঁড়া জামা পরা, ক্ষুধার্ত মানুষ হাসিমুখে জীবনের সঙ্গে লড়ছে, তখন তারা এই চরিত্রে নিজেদের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেল।
চ্যাপলিনের ‘ট্রাম্প’ এশিয়ার খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষদের যেন বুঝিয়েছিল, গরিব হওয়াটা কোনো অপরাধ বা লজ্জার বিষয় নয়, টাকার অভাবে মানুষের সম্মান কমে যায় না। চরিত্রটি শিখিয়েছে, শত দুঃখের মাঝেও কীভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়।
আর এ কারণেই, যতদিন পৃথিবীতে অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকবে, যতদিন সাধারণ মানুষ টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাবে, ততদিন চার্লি চ্যাপলিনের এই ভবঘুরে চরিত্র দেশ ও কালের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়েই প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে।

শিল্পবিপ্লবের চাকায় ততদিনে দুনিয়া বদলাতে শুরু করেছে। বড় বড় শহরের আকাশে তখন কারখানার কালো ধোঁয়া আর রাস্তায় মানুষের ঢল। এই মানুষগুলো নিজের বাসভূমি ছেড়ে উন্নত শহরে ভিড় করছে কাজের সন্ধানে। ইউরোপসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো অভিবাসী ‘আমেরিকান ড্রিম’-এর আশায় পাড়ি জমাচ্ছে আমেরিকায়।
কিন্তু সেখানে গিয়ে বাস্তবতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে তাঁদের সেই স্বপ্ন যেন মুখ থুবড়ে পড়ছে। মুখোমুখি হতে হচ্ছে চরম দারিদ্র্য, অমানবিক পরিশ্রম আর নিম্নমানের জীবনের। একদিকে মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির হাতে জমছে পাহাড়সম সম্পদ, অন্যদিকে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনে কেবলই বেঁচে থাকার হাহাকার।
এমন এক দমবন্ধ করা, বৈষম্যমূলক আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পর্দায় জন্ম নেয় সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক চরিত্রটি। যে মানুষটি এক হতাশাগ্রস্ত সমাজকে নতুন করে হাসতে শেখাল, সে কোনো সুপারহিরো না; সে ছিল সামান্য এক ‘ভবঘুরে’। নাম ট্রাম্প। অভিনেতার নাম চার্লি চ্যাপলিন।
কে এই ভবঘুরে
চ্যাপলিনের ভাষায়, ‘চরিত্রটি বহুমুখী—সে একাধারে একজন ভবঘুরে, একজন ভদ্রলোক, একজন কবি, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। সে সারাক্ষণ রোমান্স আর অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে থাকে। আবার সে চাইলে বিজ্ঞানীর মতো জ্ঞানগর্ভ কথাও বলতে পারে। সে সবার লাথি খায়, কিন্তু সুযোগ পেলে সেও পাল্টা লাথি মারতে ছাড়ে না।’

‘দ্য ট্রাম্প’ চলচ্চিত্রের এই ট্রাম্প মূলত পুঁজিবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষের প্রতীক। সে দরিদ্র, পকেটে কানাকড়িও নেই। তার ভেতরে বাস করে নিখুঁত ‘ভদ্রলোক’ বা জেন্টলম্যান। শত অভাব ও অপমানের মাঝেও সে নিজের আত্মমর্যাদা ধরে রাখতে চায়। পুলিশ বা ক্ষমতাবানদের তাড়া খেয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার পরও সে উঠে দাঁড়ায়, নিজের টুপিটা ঝেড়ে আবার সোজা হয়ে হাঁটা শুরু করে।
এই চরিত্র সমাজের ক্ষমতাবানদের ব্যঙ্গ করেছে, যন্ত্রসভ্যতার অমানবিকতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রমাণ করেছে—অভাবের তাড়নায় মানুষ হয়ত রাস্তায় থাকতে বাধ্য হয়, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তার ভেতরের মানবিকতা শেষ হয়ে যায়। ট্রাম্প হয়ে ওঠে সেই লাখো শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর, যাদের নিজেদের কোনো ভাষা ছিল না।
‘ট্রাম্প’-এর প্রভাব যখন বলিউডে
আমেরিকার প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া এই চরিত্র খুব দ্রুতই সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া বা ভারতীয় উপমহাদেশের সিনেমায় এই ‘ট্রাম্প’ চরিত্রের প্রভাব ছিল বেশ গভীর। ১৯৫০-এর দশকে ভারতীয় সিনেমা যখন নিজস্ব ভাষা খুঁজছে, ঠিক তখনই চ্যাপলিনের ভবঘুরেকে নতুন রূপে পর্দায় নিয়ে এলেন কিংবদন্তি অভিনেতা ও নির্মাতা রাজ কাপুর।
ভারত তখন সদ্য ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হয়েছে। দেশভাগের ক্ষত তখনও শুকায়নি। দারিদ্র্য, বেকারত্ব আর শহরমুখী ছিন্নমূল মানুষের ভিড়। এই প্রেক্ষাপটেই রাজ কাপুর নির্মাণ করলেন ‘আওয়ারা’ (১৯৫১) ও ‘শ্রী ৪২০’ (১৯৫৫)-এর মতো জনপ্রিয় ছবি। শ্রী ৪২০ সিনেমায় রাজ কাপুর অভিনীত চরিত্রটির নাম ‘রণবীর রাজ’। সবাই ডাকে ‘রাজ’ নামে। এই চরিত্রকে চ্যাপলিনের ‘ট্রাম্প’-এর ভারতীয় সংস্করণ বললেও ভুল হবে না।

‘শ্রী ৪২০’ সিনেমার সেই কালজয়ী গানের কথা স্মরণ করা যাক। ‘মেরা জুতো হ্যায় জাপানি, ইয়ে পাতলুন ইংলিশস্তানি, সার পে লাল টুপি রুসি, ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি।’ গানটির দৃশ্যপট খেয়াল করলেই চ্যাপলিনের ট্রাম্পের সঙ্গে এর নিখুঁত সাদৃশ্য পাওয়া যায়। ছেঁড়া জামা, বেমানান জুতো নিয়ে সে রাস্তায় হাঁটছে। পকেটে টাকা নেই, কিন্তু মুখে বিশ্বজয়ের হাসি। রাজ কাপুর শুধু বাহ্যিক রূপই ধার করেননি; চরিত্রটির আত্মাকেও ভারতীয় প্রেক্ষাপটে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
শুধু রাজ কাপুর নন, দক্ষিণ এশিয়ার অনেক নির্মাতাই চ্যাপলিনের প্রভাব থেকে নিজেদের সিনেমা নির্মাণ করেছেন। বলিউডের বিখ্যাত কমেডিয়ান মেহমুদ এবং জনি ওয়াকারের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ও এক্সপ্রেশনে চ্যাপলিনের সুস্পষ্ট প্রভাব ছিল। তাদের হাঁটার ভঙ্গি থেকে শুরু করে শত দুঃখের মাঝেও কৌতুক তৈরি করার ক্ষমতা— সবই সেই ভবঘুরেরই প্রতিচ্ছবি।
১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া কমল হাসানের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘পুষ্পক’ (পেসুম পদম) ছিল চ্যাপলিনের নির্বাক যুগের প্রতি ট্রিবিউট। সম্পূর্ণ সংলাপবিহীন সিনেমায় কমল হাসান কেবল শরীরি ভাষা ও অভিব্যক্তির মাধ্যমে পুরো সমাজের চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। বেকারত্ব, দারিদ্র্য আর শহরের নিষ্ঠুর বাস্তবতার মাঝে বেঁচে থাকার যে লড়াই তিনি পর্দায় দেখিয়েছিলেন, তা চার্লি চ্যাপলিনের ‘সিটি লাইটস’ বা ‘মডার্ন টাইমস’-এর কথাই মনে করিয়ে দেয়।

ভবঘুরে কেন হয়ে উঠল গণমানুষের হিরো
দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে এই চরিত্রের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল এর গভীর সংযোগ বা ‘রিলেটেবিলিটি’। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশগুলোর সাধারণ নাগরিকরা যখন দেখল, পর্দায় তাদের মতোই ছেঁড়া জামা পরা, ক্ষুধার্ত মানুষ হাসিমুখে জীবনের সঙ্গে লড়ছে, তখন তারা এই চরিত্রে নিজেদের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেল।
চ্যাপলিনের ‘ট্রাম্প’ এশিয়ার খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষদের যেন বুঝিয়েছিল, গরিব হওয়াটা কোনো অপরাধ বা লজ্জার বিষয় নয়, টাকার অভাবে মানুষের সম্মান কমে যায় না। চরিত্রটি শিখিয়েছে, শত দুঃখের মাঝেও কীভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়।
আর এ কারণেই, যতদিন পৃথিবীতে অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকবে, যতদিন সাধারণ মানুষ টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাবে, ততদিন চার্লি চ্যাপলিনের এই ভবঘুরে চরিত্র দেশ ও কালের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়েই প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে।

ক্যানসার নিরাময়ে বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে চেষ্টা করছেন। কখনো অপারেশন, কখনো যন্ত্রণাদায়ক কেমোথেরাপি কিংবা রেডিয়েশন। তবে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ‘ইমিউনোথেরাপি’ নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।
৩ ঘণ্টা আগে
আনোয়ার পাশার (১৯২৮-৭১) ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ (১৯৭৩ প্রকাশকাল) উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন চিত্রের এক অনন্য দলিল। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে-নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনি, এর নজির পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
২১ ঘণ্টা আগে
সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন অনেকেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। কিন্তু সবাই কি সফল হতে পারছে? এর উত্তর কেবল ভালো এডিটিং, আকর্ষণীয় রঙ বা ঝকঝকে গ্রাফিক্সে লুকিয়ে নেই। এর পেছনে কাজ করে মানুষের মন, আবেগ, অভ্যাস, কৌতূহল এবং সামাজিক আচরণ। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে কন্টেন্ট তৈরি করা আসলে শুধু প্রযুক্তির কাজ নয়, মানুষের মন বোঝ
১ দিন আগে
ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর দশম পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
১ দিন আগে