বিশ্ব পেঙ্গুইন দিবসে তারেক অণু
তারেক অণু

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন শহর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে ‘ফিলিপ আইল্যান্ড’ নামের এক অপূর্ব নৈসর্গিক জায়গায় আমরা এসেছি পেঙ্গুইনের খোঁজে! জি হ্যাঁ, পেঙ্গুইন! পেঙ্গুইন মানেই তো সেই কোট পরা ‘ভদ্রলোক’ পাখি! এর নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে, বরফ মহাদেশে হেঁটে যাচ্ছে গুটি গুটি পায়ে।
কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে পৃথিবীতে এখন ১৮ প্রজাতির পেঙ্গুইন আছে। এদের অনেকে বরফে নয়, বরং মরুভূমিতে বা আমাদের মতো এলাকাতেও থাকে। এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট প্রজাতির নাম হলো ‘নীলাভ পেঙ্গুইন’ বা ‘লিটল পেঙ্গুইন’। ফুট খানেক উচ্চতার এ বিস্ময়েরা থাকে অস্ট্রেলিয়ায় ও নিউজিল্যান্ডের উপকূল ঘেঁষে নানা জায়গায়।
আমরা ফিলিপ আইল্যান্ডে পৌঁছালাম বিকেল বেলা। রওনা দিয়েছিলাম জিলং শহর থেকে। সেখানেই থাকেন আমাদের প্রিয় ‘পাড়াতো মামা’ রুবেল মামা। আমি ও আমার বড় ভাই তানভীর অপু তাঁর ডেরাতেই এসেছি ক’দিনের জন্য। মামা অস্ট্রেলিয়াতে থিতু হয়েছেন অনেক বছর হলো। ভ্রমণপ্রিয় মানুষ, সময় পেলেই এদিকে ওদিকে ঘুরতে যাচ্ছেন আমাদের নিয়ে। তিনিই বলেছিলেন যে ফিলিপ আইল্যান্ডে আসতেই হবে। বলেছিলেন, শুধু বুনো পেঙ্গুইন নয়, এখানের নৈসর্গিক সৌন্দর্যও নাকি তুলনাহীন।

যাইহোক, পেঙ্গুইন প্যারেড দেখার জন্য বেশ চড়া দামে টিকিট কেটে আমরা সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকলাম। নানা রঙের ঘাস ও গুলে ঢাকা অপূর্ব সব ঢিবির মতো ল্যান্ডস্কেপ ও সমুদ্র যেন আমাদের আসলেই এক ভিনগ্রহে নিয়ে গেল! একরত্তি এক জায়গায় যে এত রঙের ছড়াছড়ি, তাও আবার জীবন্ত রং! ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে এখানকার ঘাস আর ল্যান্ডস্কেপের রংও বদলে যায়। সমুদ্রের ঢেউ যেখানে আছড়ে পড়ছে, সেখানে পাথুরে দেয়ালে প্রচুর গাংচিল আর পানকৌড়ি। অধিকাংশ জায়গায়ই মানুষের প্রবেশ নিষেধ, কারণে সেখানে পেঙ্গুইনের বাসা। তাদের নিজেদের তৈরি গর্ত-বাড়ি তো আছেই, আবার মানুষের দেওয়া বাক্স-বাড়িও আছে, যাতে খুদে পেঙ্গুইনরা নিশ্চিন্তে ডিম ফুটাতে পারে।
এমন জায়গাতেই নীলাভ পেঙ্গুইনদের সঙ্গে দেখা। তারা নির্লিপ্ত মুখে আরামরত। হয়ত চিন্তা করছে সমুদ্রযাত্রার। বেশি কিউট পাখি, দেখলেই তাদের কোলে নিয়ে আদর করতে ইচ্ছা করবে। তাই হয়ত সবখানে লেখা, ‘পেঙ্গুইনদের ছোঁয়া যাবে না, এতে তাদের ক্ষতি হয়।’ তবে তাদের ছানারা দেখতে খুব একটা সুন্দর নয়, কারণ শরীর ভরা তুলো তুলো বাদামি পালকে। কেমন হতশ্রী লাগে দেখত! কিন্তু কয়েক মাস পর এরাই ‘কুচ্ছিত হাঁসের ছানা’ গল্পের মতো সুন্দর সব পেঙ্গুইনের পরিণত হবে।

এটা আমার তৃতীয় বুনো পেঙ্গুইন দেখা। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখেছিলাম ‘আফ্রিকান পেঙ্গুইন’। আর গ্যালোপাগোস দ্বীপপুঞ্জে দেখেছিলাম ‘গ্যালাপাগোস পেঙ্গুইন’। আগের দুইবারের মতো এখানেও মাছের কড়া গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল, কারণ এরা মূলত মাছ খেয়েই বাঁচে।
ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নেমে আসছে। আর তখনই শুরু হবে এখানের মূল আকর্ষণ, যার কথা বলেছি প্রথমেই। একের পর এক মহাসমুদ্র থেকে উঠে আসবে বীর খুদে পেঙ্গুইনেরা। তারা গোধূলি বেলায় তীরে ফেরে যাতে স্কুয়া ধরনের শিকারি পাখি বা অন্যান্য প্রাণীর কবলে না পড়তে হয়। কোটি বছরের বিবর্তন ও অভিজ্ঞতা এই অভ্যাস গড়ে দিয়েছে টিকে থাকার তাগিদে। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, খুদে পেঙ্গুইনেরা সমুদ্র নেমে একটানা কয়েকদিনও থাকে। যথেষ্ট খাবার সংগ্রহ হলে তখনই কেবল তীরে ফিরে। আর ফেরার সময় সবসময় কয়েকজন মিলে দল বেঁধে আসে। এই ফেরার দৃশ্যটিকেই সবাই বলে ‘পেঙ্গুইন প্যারেড’।
মহাবিশ্ব তখন এক রঙ্গমঞ্চ হয়ে আমার সম্মুখে। সঙ্গে শ’খানেক মানব সন্তান। বেলাভূমির বালিতে নিশ্চুপ বসে আছি, সামনে প্রশান্ত মহাসাগর। ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে সাদা ফেনায় স্নান করিয়ে দিচ্ছে। আর দখল করে যাবার চেষ্টা করছে ভূভাগ। তারপর ফের টগবগ করে অক্ষম ক্রোধে ফুঁসতে ফুঁসতে নেমে যাচ্ছে সফেদ স্মৃতি রেখে। আর মাথার উপরে খোলা বিশাল সীমাহীন আকাশ। সন্ধ্যা নামল বলে আঁধার ডানা মেলে ধেয়ে আসছে নিশ্চিন্ত গতিতে। সূর্যের শেষ আলোটুকু সাগরের পানিতে ঝিলমিল করছে। মনে হচ্ছে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের কোনো নাটকের দৃশ্য ঢুকে পড়েছি আলগোছে। সব দৃশ্য আসবে এখন একে একে আমাদের সামনে। আর সাগর, আকাশ, বেলাভূমি মিলিয়েই সেই বিশাল মঞ্চ।

আমরা সবাই সারিবদ্ধ ভাবে বসা, নিশ্চুপ। কড়াভাবে বলা হয়েছে কোনো রকম ছবি বা ভিডিও তোলা যাবে না। আর শব্দ করা যাবে না। সামান্য শব্দেই পেঙ্গুইনেরা ভড়কে যেতে পারে। দেখা যাবে, এতে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে অনেক সময় সাগরের দিকে ফিরে যায়! সে এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা! এতগুলো মানুষ নিস্তব্ধ হয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। এই সময় মৃদু গুঞ্জন উঠল, ‘ঐ যে, ঐ যে, ওরা আসছে’। দেখা গেল ছোট ছোট দলে পেঙ্গুইনরা হেলেদুলে বালির ওপর দিয়ে আসছে। টেলিভিশনের পর্দার চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত, ছবির চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর। খুব ভিআইপি মেজাজে হেলেদুলে আমাদের মুগ্ধ করে রেখে তারা চলে গেল যে যার গর্ত-বাড়ির দিকে।
পৃথিবীর সব প্রজাতির পেঙ্গুইনদেরই পিঠের দিকে কালো বা গাঢ় বর্ণের আর পেটের দিকে সাদা। কারণ সম্ভবত পরিবেশের সঙ্গে মিশে শিকারি প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া। পেটের দিকটা সাদা হওয়ায় পানির নিচের শত্রু যেমন সীল বা হাঙ্গর তাদের সহজে চিনতে পারে না। আবার পিঠের রঙ কালো হওয়ায় ওপর থেকে ইগল বা অন্য শিকারি পাখিরা তাদের পানির রঙের সাথে গুলিয়ে ফেলে। কোটি বছরের বিবর্তন এই অপূর্ব ক্ল্যামোফোজ এনে দিয়েছে তাদের।
তবে পেঙ্গুইন প্যারেড দেখার অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত মনের মতো হলো না। হঠাৎ কোথা থেকে দমকা বাতাসের সাথে ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো! আমরা আর পেঙ্গুইনরা সবাই তখন তড়িঘড়ি করে ছুটতে শুরু করলাম। আমরা মানুষের জন্য তৈরি কাঠের রাস্তা দিয়ে দ্রুত হাঁটছিলাম, কারণ এই অসময়ে বৃষ্টির জন্য আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। সেই বৃষ্টির মধ্যেও যতটুকু পারলাম, পেঙ্গুইন দেখার আনন্দটা নিয়ে নিলাম। এরপর খুদে পেঙ্গুইনদের তাদের নিজের পরিবেশে দেখার এক দারুণ স্মৃতি নিয়ে আমরা জিলং শহরের দিকে ছুটে চললাম।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন শহর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে ‘ফিলিপ আইল্যান্ড’ নামের এক অপূর্ব নৈসর্গিক জায়গায় আমরা এসেছি পেঙ্গুইনের খোঁজে! জি হ্যাঁ, পেঙ্গুইন! পেঙ্গুইন মানেই তো সেই কোট পরা ‘ভদ্রলোক’ পাখি! এর নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে, বরফ মহাদেশে হেঁটে যাচ্ছে গুটি গুটি পায়ে।
কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে পৃথিবীতে এখন ১৮ প্রজাতির পেঙ্গুইন আছে। এদের অনেকে বরফে নয়, বরং মরুভূমিতে বা আমাদের মতো এলাকাতেও থাকে। এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট প্রজাতির নাম হলো ‘নীলাভ পেঙ্গুইন’ বা ‘লিটল পেঙ্গুইন’। ফুট খানেক উচ্চতার এ বিস্ময়েরা থাকে অস্ট্রেলিয়ায় ও নিউজিল্যান্ডের উপকূল ঘেঁষে নানা জায়গায়।
আমরা ফিলিপ আইল্যান্ডে পৌঁছালাম বিকেল বেলা। রওনা দিয়েছিলাম জিলং শহর থেকে। সেখানেই থাকেন আমাদের প্রিয় ‘পাড়াতো মামা’ রুবেল মামা। আমি ও আমার বড় ভাই তানভীর অপু তাঁর ডেরাতেই এসেছি ক’দিনের জন্য। মামা অস্ট্রেলিয়াতে থিতু হয়েছেন অনেক বছর হলো। ভ্রমণপ্রিয় মানুষ, সময় পেলেই এদিকে ওদিকে ঘুরতে যাচ্ছেন আমাদের নিয়ে। তিনিই বলেছিলেন যে ফিলিপ আইল্যান্ডে আসতেই হবে। বলেছিলেন, শুধু বুনো পেঙ্গুইন নয়, এখানের নৈসর্গিক সৌন্দর্যও নাকি তুলনাহীন।

যাইহোক, পেঙ্গুইন প্যারেড দেখার জন্য বেশ চড়া দামে টিকিট কেটে আমরা সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকলাম। নানা রঙের ঘাস ও গুলে ঢাকা অপূর্ব সব ঢিবির মতো ল্যান্ডস্কেপ ও সমুদ্র যেন আমাদের আসলেই এক ভিনগ্রহে নিয়ে গেল! একরত্তি এক জায়গায় যে এত রঙের ছড়াছড়ি, তাও আবার জীবন্ত রং! ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে এখানকার ঘাস আর ল্যান্ডস্কেপের রংও বদলে যায়। সমুদ্রের ঢেউ যেখানে আছড়ে পড়ছে, সেখানে পাথুরে দেয়ালে প্রচুর গাংচিল আর পানকৌড়ি। অধিকাংশ জায়গায়ই মানুষের প্রবেশ নিষেধ, কারণে সেখানে পেঙ্গুইনের বাসা। তাদের নিজেদের তৈরি গর্ত-বাড়ি তো আছেই, আবার মানুষের দেওয়া বাক্স-বাড়িও আছে, যাতে খুদে পেঙ্গুইনরা নিশ্চিন্তে ডিম ফুটাতে পারে।
এমন জায়গাতেই নীলাভ পেঙ্গুইনদের সঙ্গে দেখা। তারা নির্লিপ্ত মুখে আরামরত। হয়ত চিন্তা করছে সমুদ্রযাত্রার। বেশি কিউট পাখি, দেখলেই তাদের কোলে নিয়ে আদর করতে ইচ্ছা করবে। তাই হয়ত সবখানে লেখা, ‘পেঙ্গুইনদের ছোঁয়া যাবে না, এতে তাদের ক্ষতি হয়।’ তবে তাদের ছানারা দেখতে খুব একটা সুন্দর নয়, কারণ শরীর ভরা তুলো তুলো বাদামি পালকে। কেমন হতশ্রী লাগে দেখত! কিন্তু কয়েক মাস পর এরাই ‘কুচ্ছিত হাঁসের ছানা’ গল্পের মতো সুন্দর সব পেঙ্গুইনের পরিণত হবে।

এটা আমার তৃতীয় বুনো পেঙ্গুইন দেখা। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখেছিলাম ‘আফ্রিকান পেঙ্গুইন’। আর গ্যালোপাগোস দ্বীপপুঞ্জে দেখেছিলাম ‘গ্যালাপাগোস পেঙ্গুইন’। আগের দুইবারের মতো এখানেও মাছের কড়া গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল, কারণ এরা মূলত মাছ খেয়েই বাঁচে।
ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নেমে আসছে। আর তখনই শুরু হবে এখানের মূল আকর্ষণ, যার কথা বলেছি প্রথমেই। একের পর এক মহাসমুদ্র থেকে উঠে আসবে বীর খুদে পেঙ্গুইনেরা। তারা গোধূলি বেলায় তীরে ফেরে যাতে স্কুয়া ধরনের শিকারি পাখি বা অন্যান্য প্রাণীর কবলে না পড়তে হয়। কোটি বছরের বিবর্তন ও অভিজ্ঞতা এই অভ্যাস গড়ে দিয়েছে টিকে থাকার তাগিদে। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, খুদে পেঙ্গুইনেরা সমুদ্র নেমে একটানা কয়েকদিনও থাকে। যথেষ্ট খাবার সংগ্রহ হলে তখনই কেবল তীরে ফিরে। আর ফেরার সময় সবসময় কয়েকজন মিলে দল বেঁধে আসে। এই ফেরার দৃশ্যটিকেই সবাই বলে ‘পেঙ্গুইন প্যারেড’।
মহাবিশ্ব তখন এক রঙ্গমঞ্চ হয়ে আমার সম্মুখে। সঙ্গে শ’খানেক মানব সন্তান। বেলাভূমির বালিতে নিশ্চুপ বসে আছি, সামনে প্রশান্ত মহাসাগর। ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে সাদা ফেনায় স্নান করিয়ে দিচ্ছে। আর দখল করে যাবার চেষ্টা করছে ভূভাগ। তারপর ফের টগবগ করে অক্ষম ক্রোধে ফুঁসতে ফুঁসতে নেমে যাচ্ছে সফেদ স্মৃতি রেখে। আর মাথার উপরে খোলা বিশাল সীমাহীন আকাশ। সন্ধ্যা নামল বলে আঁধার ডানা মেলে ধেয়ে আসছে নিশ্চিন্ত গতিতে। সূর্যের শেষ আলোটুকু সাগরের পানিতে ঝিলমিল করছে। মনে হচ্ছে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের কোনো নাটকের দৃশ্য ঢুকে পড়েছি আলগোছে। সব দৃশ্য আসবে এখন একে একে আমাদের সামনে। আর সাগর, আকাশ, বেলাভূমি মিলিয়েই সেই বিশাল মঞ্চ।

আমরা সবাই সারিবদ্ধ ভাবে বসা, নিশ্চুপ। কড়াভাবে বলা হয়েছে কোনো রকম ছবি বা ভিডিও তোলা যাবে না। আর শব্দ করা যাবে না। সামান্য শব্দেই পেঙ্গুইনেরা ভড়কে যেতে পারে। দেখা যাবে, এতে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে অনেক সময় সাগরের দিকে ফিরে যায়! সে এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা! এতগুলো মানুষ নিস্তব্ধ হয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। এই সময় মৃদু গুঞ্জন উঠল, ‘ঐ যে, ঐ যে, ওরা আসছে’। দেখা গেল ছোট ছোট দলে পেঙ্গুইনরা হেলেদুলে বালির ওপর দিয়ে আসছে। টেলিভিশনের পর্দার চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত, ছবির চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর। খুব ভিআইপি মেজাজে হেলেদুলে আমাদের মুগ্ধ করে রেখে তারা চলে গেল যে যার গর্ত-বাড়ির দিকে।
পৃথিবীর সব প্রজাতির পেঙ্গুইনদেরই পিঠের দিকে কালো বা গাঢ় বর্ণের আর পেটের দিকে সাদা। কারণ সম্ভবত পরিবেশের সঙ্গে মিশে শিকারি প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া। পেটের দিকটা সাদা হওয়ায় পানির নিচের শত্রু যেমন সীল বা হাঙ্গর তাদের সহজে চিনতে পারে না। আবার পিঠের রঙ কালো হওয়ায় ওপর থেকে ইগল বা অন্য শিকারি পাখিরা তাদের পানির রঙের সাথে গুলিয়ে ফেলে। কোটি বছরের বিবর্তন এই অপূর্ব ক্ল্যামোফোজ এনে দিয়েছে তাদের।
তবে পেঙ্গুইন প্যারেড দেখার অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত মনের মতো হলো না। হঠাৎ কোথা থেকে দমকা বাতাসের সাথে ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো! আমরা আর পেঙ্গুইনরা সবাই তখন তড়িঘড়ি করে ছুটতে শুরু করলাম। আমরা মানুষের জন্য তৈরি কাঠের রাস্তা দিয়ে দ্রুত হাঁটছিলাম, কারণ এই অসময়ে বৃষ্টির জন্য আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। সেই বৃষ্টির মধ্যেও যতটুকু পারলাম, পেঙ্গুইন দেখার আনন্দটা নিয়ে নিলাম। এরপর খুদে পেঙ্গুইনদের তাদের নিজের পরিবেশে দেখার এক দারুণ স্মৃতি নিয়ে আমরা জিলং শহরের দিকে ছুটে চললাম।

হজযাত্রীদের মধ্যে বড় অংশই থাকেন বয়স্করা। হজে গিয়ে যেন সুস্থ থাকা যায়, সেদিকে তাঁদের নজর দেওয়া জরুরি। কারণ প্রতিবছর হজে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসল্লি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকে মারাও যান।
৭ ঘণ্টা আগে
১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল বেরিয়েছিল কবীর সুমনের প্রথম অ্যালবাম ‘তোমাকে চাই’। এখনও তিনি গানে নিয়মিত। বাধা পেরিয়ে অ্যালবাম প্রকাশের গল্প, কেন শ্রোতারা গ্রহণ করেছিল এবং ‘তোমাকে চাই’-এর ‘তুমি’র সন্ধান করেই এই লেখা।
১ দিন আগে
কবে থেকে দেশে গুপ্ত শব্দটি এত আলোচিত হয়ে উঠল? আবার এদিকে ভারতীয় উপমহাদেশে দীর্ঘদিন গুপ্ত সাম্রাজ্য শাসন করেছে। তবে কি এই ‘গুপ্ত সাম্রাজ্য’ থেকেই এই শব্দের উৎপত্তি?
১ দিন আগে
আজ সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। এ দিনে তাঁর অনুরাগীরা নানা কাজের মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করেন। তিনি অসামান্য প্রতিভাবান একজন চলচ্চিত্রকার হিসেবেই সবচেয়ে পরিচিত। স্বল্প যন্ত্রপাতি ও বাজেটে তিনি বানিয়েছেন অসাধারণ সব সিনেমা। রেখে গিয়েছেন হাতে করা নিখুঁত ইলাস্ট্রেশন। তবে গল্পকার সত্যজিৎ যেন অনেকটাই আলোচন
২ দিন আগে