স্ট্রিম ডেস্ক

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার (১৩ মে) চীন যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাণিজ্য, তাইওয়ান এবং ইরান সংকট নিরসনে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (১১ মে) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর পর কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফরে যাচ্ছেন।
এই সফর এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে যখন মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত, হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং তাইওয়ান ও বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কের টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে।
সূচি অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিং পৌঁছাবেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার পর প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় ট্রাম্পের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার দুই নেতা চা-চক্র এবং ওয়ার্কিং লাঞ্চে অংশ নেবেন। চলতি বছরের শেষ দিকে সি চিন পিংকেও ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বৈরিতা কেবল ট্যারিফ বা শুল্ক যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যদিও বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সোলার প্যানেলের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ নিয়ে দুই দেশ মুখোমুখি, তবে এর নেপথ্যে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক সংকট। বিশেষত তাইওয়ানে চীনের সামরিক চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে। এছাড়া সেমিকন্ডাক্টর চিপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীনের তেল ক্রয় এবং রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্ক ওয়াশিংটনকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তার নামে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এই বৈরিতাকে আরও জটিল করেছে।
ট্রাম্প বেইজিং পৌঁছানোর আগেই দুই দেশের প্রস্তুতির কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী ১২ ও ১৩ মে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেং এবং মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা হবে। এই বৈঠক ট্রাম্প ও চিন পিংয়ের সমঝোতার পথ প্রশস্ত করবে। আলোচনায় শুল্ক বিবাদ, কৃষিপণ্য ক্রয়, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বোয়িং বিমান বিক্রির মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই বৈঠকে ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে চাপ দেবেন। বেইজিং বর্তমানে ইরানি তেলের অন্যতম ক্রেতা এবং মস্কোর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ওয়াশিংটনের মাথাব্যথার কারণ। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, চীনের আর্থিক সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত উপাদান ইরান ও রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখছে।
পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করবেন ট্রাম্প। চীনের এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং এর সামরিক ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই পক্ষ অভিন্ন নীতিমালায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্প ও চিন পিংয়ের এই বৈঠক তাইওয়ানকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং জানিয়েছেন, তাঁরা এই সম্মেলনের ওপর নজর রাখছেন এবং আশা করছেন তাইওয়ান নিয়ে কোনো ‘অপ্রীতিকর সিদ্ধান্ত’ থাকবে না।
অন্যদিকে, চীন তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, তারা ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র কোনো প্রচেষ্টা বরদাশত করবে না। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং প্রতিরক্ষা বাজেট কাটছাঁট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চীন সফর কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং বর্তমান অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে টেকসই শান্তির পথ খোঁজার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার (১৩ মে) চীন যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাণিজ্য, তাইওয়ান এবং ইরান সংকট নিরসনে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (১১ মে) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর পর কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফরে যাচ্ছেন।
এই সফর এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে যখন মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত, হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং তাইওয়ান ও বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কের টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে।
সূচি অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিং পৌঁছাবেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার পর প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় ট্রাম্পের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার দুই নেতা চা-চক্র এবং ওয়ার্কিং লাঞ্চে অংশ নেবেন। চলতি বছরের শেষ দিকে সি চিন পিংকেও ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বৈরিতা কেবল ট্যারিফ বা শুল্ক যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যদিও বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সোলার প্যানেলের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ নিয়ে দুই দেশ মুখোমুখি, তবে এর নেপথ্যে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক সংকট। বিশেষত তাইওয়ানে চীনের সামরিক চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে। এছাড়া সেমিকন্ডাক্টর চিপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীনের তেল ক্রয় এবং রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্ক ওয়াশিংটনকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তার নামে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এই বৈরিতাকে আরও জটিল করেছে।
ট্রাম্প বেইজিং পৌঁছানোর আগেই দুই দেশের প্রস্তুতির কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী ১২ ও ১৩ মে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেং এবং মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা হবে। এই বৈঠক ট্রাম্প ও চিন পিংয়ের সমঝোতার পথ প্রশস্ত করবে। আলোচনায় শুল্ক বিবাদ, কৃষিপণ্য ক্রয়, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বোয়িং বিমান বিক্রির মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই বৈঠকে ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে চাপ দেবেন। বেইজিং বর্তমানে ইরানি তেলের অন্যতম ক্রেতা এবং মস্কোর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ওয়াশিংটনের মাথাব্যথার কারণ। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, চীনের আর্থিক সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত উপাদান ইরান ও রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখছে।
পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করবেন ট্রাম্প। চীনের এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং এর সামরিক ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই পক্ষ অভিন্ন নীতিমালায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্প ও চিন পিংয়ের এই বৈঠক তাইওয়ানকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং জানিয়েছেন, তাঁরা এই সম্মেলনের ওপর নজর রাখছেন এবং আশা করছেন তাইওয়ান নিয়ে কোনো ‘অপ্রীতিকর সিদ্ধান্ত’ থাকবে না।
অন্যদিকে, চীন তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, তারা ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র কোনো প্রচেষ্টা বরদাশত করবে না। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং প্রতিরক্ষা বাজেট কাটছাঁট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চীন সফর কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং বর্তমান অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে টেকসই শান্তির পথ খোঁজার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে অযৌক্তিক ও একপাক্ষিক বলে অভিহিত করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ ও অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ খুলে দিতে চাইলেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরিতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার।
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এই উত্তর পাঠানো হয়েছে।
২১ ঘণ্টা আগে
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিটের কন্যাসন্তানের জন্মে অভিনন্দন জানিয়েছে ইরান। তবে একই সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের একটি স্কুলে মার্কিন হামলায় ১৬৮ শিশুর মৃত্যুর নির্মম স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে দেশটি।
১ দিন আগে