তারেক অণু

প্রায় ২০ কোটি বছর ধরে কচ্ছপেরা পৃথিবীতে টিকে আছে। কুমির কিংবা সাপের চেয়েও এরা অনেক বেশি প্রাচীন। অথচ এর তুলনায় অনেক অনেক বছর পরে আসা মানুষ খাদ্যের প্রয়োজনে তো বটেই, এমনকি স্রেফ বিনোদন বা শখের বশেও কোটি কোটি কচ্ছপ হত্যা করেছে।
নানা মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোতে গত ১০০ বছরে নাবিকেরা পাল্লাপাল্লি করে কে কত শত কাছিমকে উল্টে দিতে পারে, এমন নির্মম খেলায় মেতে লাখো সামুদ্রিক কাছিম হত্যা করেছে।
সামুদ্রিক কাছিম না থাকলে মহাসাগর আমাদের চিরচেনা রূপ ধরে রাখতে পারবে না। যত দিন যাচ্ছে, আমরা এদের গুরুত্ব বুঝতে পারছি। বিষ্ণুর দশ অবতারের মধ্যে অন্যতম কূর্ম অবতার যেন আমাদের সামনে ধীরে ধীরে মূর্ত হয়ে উঠছে।

নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে। রাজশাহীতে আমাদের বাড়ির পাশের ডোবায় প্রচুর কচ্ছপ পাওয়া যেত, আমরা আদর করে সেগুলোকে ‘কাউট্টা’ ডাকতাম। কখনো কখনো সেগুলো ঘরের বেড়ার নিচ দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ত। আমরা শুনেছিলাম যত জোরে আঘাত করা যাক না কেন, খোলস ভেদ করে ব্যথা তার গায়ে লাগবে না। তাই না বুঝে অনেক সময় ধারালো বস্তু দিয়ে পিঠ আঘাত করলে সে শো শো শব্দ করত। শখ করে একবার নওগাঁ থেকে একটি খুব সুন্দর কচ্ছপ এনে আমাদের কুয়োয় ছেড়েছিলাম। কিন্তু একদল সাঁওতাল শ্রমিক গোপনে সেটিকে ধরে খেয়ে ফেলেছিল। সেই দুঃখ আমি আজও ভুলতে পারিনি।
কচ্ছপের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি অসংখ্য জায়গায় ঘুরেছি নানা প্রজাতির কচ্ছপ দেখার জন্য। এখনো অনেকগুলো প্রজাতি দেখা বাকি। আশা করি, বুনো প্রকৃতিতে তাদের কারো কারো সাথে হয়তো আবারও দেখা হবে।

শেষ কবে বুনো কাছিম বা কচ্ছপ দেখেছেন আপনি?
যদি আপনি প্রকৃতিকে ভালোবাসেন এবং এদের রক্ষা করতে চান, তবে উৎসবের দিনে কখনোই গ্যাস বেলুন ওড়াবেন না। আপনার ছেড়ে দেওয়া বেলুনটি যখন আকাশে ফেটে সাগরে পড়ে, তখন কাছিমেরা ভুল করে সেটিকে জেলিফিশ মনে করে খেয়ে ফেলে। এর ফলে তারা অসহ্য যন্ত্রণায় মারা যায়। একই কথা প্রযোজ্য আপনার ফেলে দেওয়া সিগারেটের ফিল্টার, প্লাস্টিকের গ্লাস কিংবা পাইপের ক্ষেত্রেও। এগুলোও জলজ প্রাণীদের জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একসময় বাংলাদেশের প্রতিটি নদী, বিল, ঝিল ও পুকুরে কচ্ছপের বিচরণ ছিল। কিন্তু এখন তারা প্রায় বিলুপ্ত। এদের বিলুপ্তির ফলে আমাদের জলাশয়গুলো যে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা পরিমাপ করার মতো সচেতনতা এখনো আমাদের হয়নি।
আসুন, কাছিমদের টিকিয়ে রাখতে আমরা সচেতন হই। যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক বা সিগারেটের টুকরো না ফেলে পরিবেশ রক্ষা করি। আমাদের বঙ্গোপসাগরেও জেলেদের জালে প্রতিনিয়ত মারা পড়ছে অসংখ্য সাগর কাছিম। খুবই সাধারণ ও সস্তা একটি প্রযুক্তি বা মেকানিজম জালের সাথে ব্যবহার করলেই কিন্তু এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু যথাযথ প্রচার ও উদ্যোগের অভাবে আমাদের প্রান্তিক জেলে ভাইয়েরা এটি জানেন না। ফলে কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার সৈকতে প্রায়ই দেখা মেলে মৃত কাছিমের লাশ।
আমাদের সাগর কাছিমশূন্য হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নেবে—মাছের বদলে সাগরে জেলিফিশের রাজত্ব শুরু হবে, যা আমাদের বাস্তুসংস্থানকে ধ্বংস করে দেবে। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের সচেতন হতে হবে।

প্রায় ২০ কোটি বছর ধরে কচ্ছপেরা পৃথিবীতে টিকে আছে। কুমির কিংবা সাপের চেয়েও এরা অনেক বেশি প্রাচীন। অথচ এর তুলনায় অনেক অনেক বছর পরে আসা মানুষ খাদ্যের প্রয়োজনে তো বটেই, এমনকি স্রেফ বিনোদন বা শখের বশেও কোটি কোটি কচ্ছপ হত্যা করেছে।
নানা মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোতে গত ১০০ বছরে নাবিকেরা পাল্লাপাল্লি করে কে কত শত কাছিমকে উল্টে দিতে পারে, এমন নির্মম খেলায় মেতে লাখো সামুদ্রিক কাছিম হত্যা করেছে।
সামুদ্রিক কাছিম না থাকলে মহাসাগর আমাদের চিরচেনা রূপ ধরে রাখতে পারবে না। যত দিন যাচ্ছে, আমরা এদের গুরুত্ব বুঝতে পারছি। বিষ্ণুর দশ অবতারের মধ্যে অন্যতম কূর্ম অবতার যেন আমাদের সামনে ধীরে ধীরে মূর্ত হয়ে উঠছে।

নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে। রাজশাহীতে আমাদের বাড়ির পাশের ডোবায় প্রচুর কচ্ছপ পাওয়া যেত, আমরা আদর করে সেগুলোকে ‘কাউট্টা’ ডাকতাম। কখনো কখনো সেগুলো ঘরের বেড়ার নিচ দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ত। আমরা শুনেছিলাম যত জোরে আঘাত করা যাক না কেন, খোলস ভেদ করে ব্যথা তার গায়ে লাগবে না। তাই না বুঝে অনেক সময় ধারালো বস্তু দিয়ে পিঠ আঘাত করলে সে শো শো শব্দ করত। শখ করে একবার নওগাঁ থেকে একটি খুব সুন্দর কচ্ছপ এনে আমাদের কুয়োয় ছেড়েছিলাম। কিন্তু একদল সাঁওতাল শ্রমিক গোপনে সেটিকে ধরে খেয়ে ফেলেছিল। সেই দুঃখ আমি আজও ভুলতে পারিনি।
কচ্ছপের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি অসংখ্য জায়গায় ঘুরেছি নানা প্রজাতির কচ্ছপ দেখার জন্য। এখনো অনেকগুলো প্রজাতি দেখা বাকি। আশা করি, বুনো প্রকৃতিতে তাদের কারো কারো সাথে হয়তো আবারও দেখা হবে।

শেষ কবে বুনো কাছিম বা কচ্ছপ দেখেছেন আপনি?
যদি আপনি প্রকৃতিকে ভালোবাসেন এবং এদের রক্ষা করতে চান, তবে উৎসবের দিনে কখনোই গ্যাস বেলুন ওড়াবেন না। আপনার ছেড়ে দেওয়া বেলুনটি যখন আকাশে ফেটে সাগরে পড়ে, তখন কাছিমেরা ভুল করে সেটিকে জেলিফিশ মনে করে খেয়ে ফেলে। এর ফলে তারা অসহ্য যন্ত্রণায় মারা যায়। একই কথা প্রযোজ্য আপনার ফেলে দেওয়া সিগারেটের ফিল্টার, প্লাস্টিকের গ্লাস কিংবা পাইপের ক্ষেত্রেও। এগুলোও জলজ প্রাণীদের জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একসময় বাংলাদেশের প্রতিটি নদী, বিল, ঝিল ও পুকুরে কচ্ছপের বিচরণ ছিল। কিন্তু এখন তারা প্রায় বিলুপ্ত। এদের বিলুপ্তির ফলে আমাদের জলাশয়গুলো যে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা পরিমাপ করার মতো সচেতনতা এখনো আমাদের হয়নি।
আসুন, কাছিমদের টিকিয়ে রাখতে আমরা সচেতন হই। যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক বা সিগারেটের টুকরো না ফেলে পরিবেশ রক্ষা করি। আমাদের বঙ্গোপসাগরেও জেলেদের জালে প্রতিনিয়ত মারা পড়ছে অসংখ্য সাগর কাছিম। খুবই সাধারণ ও সস্তা একটি প্রযুক্তি বা মেকানিজম জালের সাথে ব্যবহার করলেই কিন্তু এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু যথাযথ প্রচার ও উদ্যোগের অভাবে আমাদের প্রান্তিক জেলে ভাইয়েরা এটি জানেন না। ফলে কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার সৈকতে প্রায়ই দেখা মেলে মৃত কাছিমের লাশ।
আমাদের সাগর কাছিমশূন্য হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নেবে—মাছের বদলে সাগরে জেলিফিশের রাজত্ব শুরু হবে, যা আমাদের বাস্তুসংস্থানকে ধ্বংস করে দেবে। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের সচেতন হতে হবে।
.png)

২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে পা রেখেছিলেন। গন্তব্য ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল দীর্ঘ পথচলা, যা দুই দশক পর এসে পৌঁছেছে ১০০ দেশ ভ্রমণের মাইলফলকে। আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ায় পা রেখে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসু তানভীর অপু।
০৫ আগস্ট ২০২৬
তানজানিয়ার সেরেঙ্গেটি ন্যাশনাল পার্ক। সোনালী সাভানার বুকে মা চিতা ও তার চার শাবকের সঙ্গে সাক্ষাৎ। বন্যপ্রাণীর রাজ্যে রোমাঞ্চ, বিস্ময় আর আজীবন মনে রাখার মতো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন ভূ-পর্যটক তানভীর অপু।
৩১ জুলাই ২০২৬
বিখ্যাত ‘গ্রেট মাইগ্রেশন’ সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছেন ভ্রমণপিপাসু তানভীর অপু। এটি মূলত সবুজ ঘাস ও পানির সন্ধানে লাখ লাখ ওয়াইল্ডবিস্ট এবং জেব্রার এক দেশ থেকে আরেক দেশে দলবেঁধে ছুটে চলার বার্ষিক মহাযাত্রা। বিশেষ করে মারা নদী পার হওয়ার সময় বন্যপ্রাণীদের জীবন-মৃত্যুর সেই রোমাঞ্চকর লড়াই তিনি খুব
২৮ জুলাই ২০২৬
আজ ‘শার্ক অ্যাওয়ারনেস ডে’ বা আন্তর্জাতিক হাঙর সচেতনতা দিবস। হাঙর সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে তাদের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরা এবং বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীটিকে রক্ষা করাই এই দিবসের প্রধান লক্ষ্য। ভূ-পর্যটক তারেক অণু ২০১০ সালের জুনের শেষ দিকে গিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। মহ
১৪ জুলাই ২০২৬