leadT1ad

আজ বিশ্ব সামুদ্রিক কাছিম দিবস

শেষ সামুদ্রিক কাছিমটি হারিয়ে যাওয়ার আগে…

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১৮: ৩৬
আজ সামুদ্রিক কাছিম দিবস, একটু ভাবুন তাদের কথা। স্ট্রিম গ্রাফিক

প্রায় ২০ কোটি বছর ধরে কচ্ছপেরা পৃথিবীতে টিকে আছে। কুমির কিংবা সাপের চেয়েও এরা অনেক বেশি প্রাচীন। অথচ এর তুলনায় অনেক অনেক বছর পরে আসা মানুষ খাদ্যের প্রয়োজনে তো বটেই, এমনকি স্রেফ বিনোদন বা শখের বশেও কোটি কোটি কচ্ছপ হত্যা করেছে।

নানা মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোতে গত ১০০ বছরে নাবিকেরা পাল্লাপাল্লি করে কে কত শত কাছিমকে উল্টে দিতে পারে, এমন নির্মম খেলায় মেতে লাখো সামুদ্রিক কাছিম হত্যা করেছে।

সামুদ্রিক কাছিম না থাকলে মহাসাগর আমাদের চিরচেনা রূপ ধরে রাখতে পারবে না। যত দিন যাচ্ছে, আমরা এদের গুরুত্ব বুঝতে পারছি। বিষ্ণুর দশ অবতারের মধ্যে অন্যতম কূর্ম অবতার যেন আমাদের সামনে ধীরে ধীরে মূর্ত হয়ে উঠছে।

ছবি লেখকের সৌজন্যে
ছবি লেখকের সৌজন্যে

নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে। রাজশাহীতে আমাদের বাড়ির পাশের ডোবায় প্রচুর কচ্ছপ পাওয়া যেত, আমরা আদর করে সেগুলোকে ‘কাউট্টা’ ডাকতাম। কখনো কখনো সেগুলো ঘরের বেড়ার নিচ দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ত। আমরা শুনেছিলাম যত জোরে আঘাত করা যাক না কেন, খোলস ভেদ করে ব্যথা তার গায়ে লাগবে না। তাই না বুঝে অনেক সময় ধারালো বস্তু দিয়ে পিঠ আঘাত করলে সে শো শো শব্দ করত। শখ করে একবার নওগাঁ থেকে একটি খুব সুন্দর কচ্ছপ এনে আমাদের কুয়োয় ছেড়েছিলাম। কিন্তু একদল সাঁওতাল শ্রমিক গোপনে সেটিকে ধরে খেয়ে ফেলেছিল। সেই দুঃখ আমি আজও ভুলতে পারিনি।

কচ্ছপের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি অসংখ্য জায়গায় ঘুরেছি নানা প্রজাতির কচ্ছপ দেখার জন্য। এখনো অনেকগুলো প্রজাতি দেখা বাকি। আশা করি, বুনো প্রকৃতিতে তাদের কারো কারো সাথে হয়তো আবারও দেখা হবে।

ছবি লেখকের সৌজন্যে
ছবি লেখকের সৌজন্যে

শেষ কবে বুনো কাছিম বা কচ্ছপ দেখেছেন আপনি?

যদি আপনি প্রকৃতিকে ভালোবাসেন এবং এদের রক্ষা করতে চান, তবে উৎসবের দিনে কখনোই গ্যাস বেলুন ওড়াবেন না। আপনার ছেড়ে দেওয়া বেলুনটি যখন আকাশে ফেটে সাগরে পড়ে, তখন কাছিমেরা ভুল করে সেটিকে জেলিফিশ মনে করে খেয়ে ফেলে। এর ফলে তারা অসহ্য যন্ত্রণায় মারা যায়। একই কথা প্রযোজ্য আপনার ফেলে দেওয়া সিগারেটের ফিল্টার, প্লাস্টিকের গ্লাস কিংবা পাইপের ক্ষেত্রেও। এগুলোও জলজ প্রাণীদের জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

একসময় বাংলাদেশের প্রতিটি নদী, বিল, ঝিল ও পুকুরে কচ্ছপের বিচরণ ছিল। কিন্তু এখন তারা প্রায় বিলুপ্ত। এদের বিলুপ্তির ফলে আমাদের জলাশয়গুলো যে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা পরিমাপ করার মতো সচেতনতা এখনো আমাদের হয়নি।

আসুন, কাছিমদের টিকিয়ে রাখতে আমরা সচেতন হই। যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক বা সিগারেটের টুকরো না ফেলে পরিবেশ রক্ষা করি। আমাদের বঙ্গোপসাগরেও জেলেদের জালে প্রতিনিয়ত মারা পড়ছে অসংখ্য সাগর কাছিম। খুবই সাধারণ ও সস্তা একটি প্রযুক্তি বা মেকানিজম জালের সাথে ব্যবহার করলেই কিন্তু এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু যথাযথ প্রচার ও উদ্যোগের অভাবে আমাদের প্রান্তিক জেলে ভাইয়েরা এটি জানেন না। ফলে কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার সৈকতে প্রায়ই দেখা মেলে মৃত কাছিমের লাশ।

আমাদের সাগর কাছিমশূন্য হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নেবে—মাছের বদলে সাগরে জেলিফিশের রাজত্ব শুরু হবে, যা আমাদের বাস্তুসংস্থানকে ধ্বংস করে দেবে। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের সচেতন হতে হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত