প্রিয়াংকা সমদ্দার অর্পা

৩১ মে, ২০২৬। মিরপুরের একটি বন্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার হলো সত্তরোর্ধ্ব নূরজাহান বেগমের মরদেহ। কয়েকদিন ধরে বাসায় তাঁর মৃতদেহ পড়ে ছিল, অথচ কেউ তা জানতে পারেনি। সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বস্তরে ক্ষোভ, বেদনা এবং বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো, তাঁর সন্তানরা সবাই উচ্চশিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত এবং সমাজে সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছেন।
এখানে কে দায়ী? এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য আরেকটু গভীরে যাওয়া। কারণ এই মৃত্যু বিচ্ছিন্ন নয়। এটি সেই সমাজেরই পরিণতি, যে সমাজ সন্তানকে জিততে শেখায়, কিন্তু পাশে থাকতে শেখায় না।
বাংলাদেশের শিশুদের ছোটবেলা থেকেই একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢালা হয়। ক্লাসে প্রথম হতে হবে, বৃত্তি পেতে হবে, ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে, ভালো চাকরি করতে হবে। সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, মানুষের প্রতি মনোযোগ—এগুলো কোনো পাঠ্যক্রমে থাকে না। পরিবারেও নেই। একটি শিশুর প্রথম বিদ্যালয় তার পরিবার। কিন্তু ক’টি পরিবার সন্তানকে শেখায় যে পাশের মানুষটি ভালো আছে কি না জানতে চাওয়াটাও নৈতিক দায়িত্ব?
সন্তান যখন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বড় হয়, তখন সম্পর্কের মূল্যবোধ তার কাছে ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে আসে। সাফল্যের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায় পদবি, বেতন, পদোন্নতি। বাবা-মায়ের একাকিত্ব সেই হিসাবের বাইরে থেকে যায়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার আছে। জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩, পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল—এই আইনি কাঠামো কাগজে বেশ সমৃদ্ধ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী প্রতিটি সক্ষম সন্তান তার পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে আইনগতভাবে বাধ্য। এই ভরণপোষণের সংজ্ঞায় রয়েছে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান। তবু আইনটির বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই রয়েছে। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় বহু মানুষ এই আইনের অস্তিত্ব সম্পর্কেই অবহিত নন। গবেষকরা বলছেন, আইনটিতে নিয়ন্ত্রণকারী কাঠামো এবং বাস্তবায়ন নির্দেশিকার স্পষ্টতার ঘাটতি আছে। নব্যউদারবাদ এবং নগরায়ণের প্রভাবে সমাজ ক্রমশ ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে—এটাই এই আইনের সফল প্রয়োগের সবচেয়ে বড় বাধা।
নূরজাহান বেগমের সন্তানরা কি এই আইন জানতেন? জানলেও কি মানতেন? আইন থাকলেই সমাজ বদলায় না, বদলাতে হয় মূল্যবোধ।
রাষ্ট্রের দায়িত্বের প্রশ্নটিও এড়ানো যায় না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার জন পাবেন মাসে ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২ লাখ ৫ হাজার জন পাবেন ১ হাজার টাকা।
বর্তমান বাজারে মাসে ৭০০ টাকায় একজন বৃদ্ধের খাদ্য বা ওষুধের খরচ কতটুকু মেটানো সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই, সংখ্যাই উত্তর।
বয়স্ক ভাতার যোগ্যতার শর্ত হলো বার্ষিক আয় ১০ হাজার টাকার নিচে হতে হবে এই শর্তটি শহরের বেশিরভাগ বাসিন্দাকে বাদ দিয়ে দেয়, কারণ নগরজীবনের ব্যয়ে বেঁচে থাকতে এর চেয়ে বেশি আয় অপরিহার্য। ফলে বসবাসকারী প্রবীণরা এই সুরক্ষাজালের বাইরে থেকে যান।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠিত আবাসিক কেয়ার মডেল বা আনুষ্ঠানিক হোম কেয়ার মডেল নেই, ফলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে বার্ধক্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সেবা বা সহায়তা ছাড়াই জীবন পার করতে হচ্ছে। উন্নত দেশে যেমন কেয়ার হোম বা সিনিয়র লিভিং সেন্টার আছে, আমাদের দেশে সেই বিকল্প কার্যত অনুপস্থিত।
প্রবীণদের জন্য কোনো সার্বজনীন বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নেই, স্বাস্থ্যবিমার কোনো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর হার ২০১১ সালের ৮.২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ১১.৬ শতাংশে উন্নীত হওয়ার প্রক্ষেপণ রয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি রোগের বোঝা, যা প্রবীণদের জীবনমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অথচ নীতি ও সেবা সেই গতিতে বাড়ছে না।
যারা নিঃসন্তান, বা যাদের সন্তান বিদেশে, তাঁদের শেষ ভরসা কে? রাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে কী? এমন প্রশ্ন থেকেই যায়!
একটি সমাজের মানবিক মান পরিমাপ করা যায় সে সমাজ তার সবচেয়ে অরক্ষিত মানুষটির সঙ্গে কী আচরণ করে তার মধ্য দিয়ে। নূরজাহান বেগমের একাকী মৃত্যু সেই আয়নায় আমাদের প্রতিচ্ছবি দেখাচ্ছে। যে প্রতিচ্ছবি মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়।

৩১ মে, ২০২৬। মিরপুরের একটি বন্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার হলো সত্তরোর্ধ্ব নূরজাহান বেগমের মরদেহ। কয়েকদিন ধরে বাসায় তাঁর মৃতদেহ পড়ে ছিল, অথচ কেউ তা জানতে পারেনি। সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বস্তরে ক্ষোভ, বেদনা এবং বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো, তাঁর সন্তানরা সবাই উচ্চশিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত এবং সমাজে সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছেন।
এখানে কে দায়ী? এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য আরেকটু গভীরে যাওয়া। কারণ এই মৃত্যু বিচ্ছিন্ন নয়। এটি সেই সমাজেরই পরিণতি, যে সমাজ সন্তানকে জিততে শেখায়, কিন্তু পাশে থাকতে শেখায় না।
বাংলাদেশের শিশুদের ছোটবেলা থেকেই একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢালা হয়। ক্লাসে প্রথম হতে হবে, বৃত্তি পেতে হবে, ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে, ভালো চাকরি করতে হবে। সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, মানুষের প্রতি মনোযোগ—এগুলো কোনো পাঠ্যক্রমে থাকে না। পরিবারেও নেই। একটি শিশুর প্রথম বিদ্যালয় তার পরিবার। কিন্তু ক’টি পরিবার সন্তানকে শেখায় যে পাশের মানুষটি ভালো আছে কি না জানতে চাওয়াটাও নৈতিক দায়িত্ব?
সন্তান যখন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বড় হয়, তখন সম্পর্কের মূল্যবোধ তার কাছে ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে আসে। সাফল্যের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায় পদবি, বেতন, পদোন্নতি। বাবা-মায়ের একাকিত্ব সেই হিসাবের বাইরে থেকে যায়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার আছে। জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩, পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল—এই আইনি কাঠামো কাগজে বেশ সমৃদ্ধ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী প্রতিটি সক্ষম সন্তান তার পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে আইনগতভাবে বাধ্য। এই ভরণপোষণের সংজ্ঞায় রয়েছে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান। তবু আইনটির বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই রয়েছে। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় বহু মানুষ এই আইনের অস্তিত্ব সম্পর্কেই অবহিত নন। গবেষকরা বলছেন, আইনটিতে নিয়ন্ত্রণকারী কাঠামো এবং বাস্তবায়ন নির্দেশিকার স্পষ্টতার ঘাটতি আছে। নব্যউদারবাদ এবং নগরায়ণের প্রভাবে সমাজ ক্রমশ ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে—এটাই এই আইনের সফল প্রয়োগের সবচেয়ে বড় বাধা।
নূরজাহান বেগমের সন্তানরা কি এই আইন জানতেন? জানলেও কি মানতেন? আইন থাকলেই সমাজ বদলায় না, বদলাতে হয় মূল্যবোধ।
রাষ্ট্রের দায়িত্বের প্রশ্নটিও এড়ানো যায় না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার জন পাবেন মাসে ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২ লাখ ৫ হাজার জন পাবেন ১ হাজার টাকা।
বর্তমান বাজারে মাসে ৭০০ টাকায় একজন বৃদ্ধের খাদ্য বা ওষুধের খরচ কতটুকু মেটানো সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই, সংখ্যাই উত্তর।
বয়স্ক ভাতার যোগ্যতার শর্ত হলো বার্ষিক আয় ১০ হাজার টাকার নিচে হতে হবে এই শর্তটি শহরের বেশিরভাগ বাসিন্দাকে বাদ দিয়ে দেয়, কারণ নগরজীবনের ব্যয়ে বেঁচে থাকতে এর চেয়ে বেশি আয় অপরিহার্য। ফলে বসবাসকারী প্রবীণরা এই সুরক্ষাজালের বাইরে থেকে যান।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠিত আবাসিক কেয়ার মডেল বা আনুষ্ঠানিক হোম কেয়ার মডেল নেই, ফলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে বার্ধক্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সেবা বা সহায়তা ছাড়াই জীবন পার করতে হচ্ছে। উন্নত দেশে যেমন কেয়ার হোম বা সিনিয়র লিভিং সেন্টার আছে, আমাদের দেশে সেই বিকল্প কার্যত অনুপস্থিত।
প্রবীণদের জন্য কোনো সার্বজনীন বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নেই, স্বাস্থ্যবিমার কোনো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর হার ২০১১ সালের ৮.২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ১১.৬ শতাংশে উন্নীত হওয়ার প্রক্ষেপণ রয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি রোগের বোঝা, যা প্রবীণদের জীবনমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অথচ নীতি ও সেবা সেই গতিতে বাড়ছে না।
যারা নিঃসন্তান, বা যাদের সন্তান বিদেশে, তাঁদের শেষ ভরসা কে? রাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে কী? এমন প্রশ্ন থেকেই যায়!
একটি সমাজের মানবিক মান পরিমাপ করা যায় সে সমাজ তার সবচেয়ে অরক্ষিত মানুষটির সঙ্গে কী আচরণ করে তার মধ্য দিয়ে। নূরজাহান বেগমের একাকী মৃত্যু সেই আয়নায় আমাদের প্রতিচ্ছবি দেখাচ্ছে। যে প্রতিচ্ছবি মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়।

নিজের ওয়ার্ডে নিরাপদ পানির বিষয়ে কাজ করতে ‘পানি আপা’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কনকলতার কণ্ঠে এখন আত্মবিশ্বাসের সুর।
২ মিনিট আগে
কৌতূহল আর খটকা থেকেই মশিউর ‘বাঁধন’-এর একজন হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক পর্যায়ে তিনি বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি হিসেবেও নেতৃত্ব দেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা চে গুয়েভারাকে নিয়ে সারা বিশ্বে অনেক সিনেমা ও তথ্যচিত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরপরই হলিউডে সিনেমা বানানো হয়েছিল, যেখানে অভিনয় করেছিলেন মরুর বুনো বেদুঈন-খ্যাত ওমর শরীফ। তবে চলচ্চিত্র সমালোচক ও বোদ্ধাদের মতে, চে-র ঘটনাবহুল ও মহাজাগতিক জীবনকে সত্যিকা
২০ ঘণ্টা আগে
‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ ফেসবুক পেজের বিভিন্ন পোস্টে কপিরাইট স্ট্রাইক আসা এবং অ্যাডমিনদের অ্যাকাউন্ট ‘ডিজেবল’ হয়ে যাওয়ায় পেজটি এখন ঝুঁকির মুখে। আজ ফেসবুকে পোস্টে তারা জানিয়েছে, ‘যদি এই পেজটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে জানবেন আমরা ভালো আছি। আপনাদের সবার সঙ্গে এই পথচলাটা অনেক সুন্দর ছিল।’
১ দিন আগে