জুলাই গণঅভ্যুত্থান

সাভারের দুই শহীদের পরিবার: সময় থমকে আছে ৫ আগস্টে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার (ঢাকা)

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ১৩
স্ট্রিম গ্রাফিক

আলিফ আহমেদ সিয়াম ও শ্রাবণ গাজী। দুজনেই সাভারের বাসিন্দা। একজন দশম শ্রেণির ছাত্র, অন্যজন পড়তেন মালয়েশিয়া। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থান তাঁদের এক করেছিল। নিয়ে এসেছিল রাজপথে। এই দুই মেধাবী তরুণ ৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে গুলিবিদ্ধ হন। সিয়াম ৭ আগস্ট মারা যান, শ্রাবণ মারা যান ৫ আগস্টেই।

আমি তো ছেলেকে খুঁজে পাই না: শহীদ সিয়ামের মা

একটি ঘর। একটি পড়ার টেবিল। সাজানো বই-খাতা। পাশে স্কুল ব্যাগ, আর অর্জনের স্মারক। সবই আছে—শুধু নেই সেই মানুষটি। ঢাকার সাভারের ইসলামনগরের ঘরটিই ছিল আলিফ আহমেদ সিয়ামের স্বপ্নের ঠিকানা। দশম শ্রেণীর মেধাবী এ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও ছিল তার সাফল্যের ছাপ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে আন্দোলনের যাওয়ার জন্য মায়ের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন সিয়াম। মায়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে যোগ দেয় সে।

আলিফ আহমেদ সিয়ামের মা তানিয়া বেগম বলেন, ‘আমি তো আমার ছেলেকে খুঁজে পাই না। বিছানায় এসে দেখি বিছানাটা আগের মত পড়ে আছে। টেবিলটা ফাঁকা, বিছানাটা ফাঁকা। আমার বাবা বিছানায় নেই। আমার খালি আমাকে ছেড়ে যে সত্যি চলে যাবে। আমি বুঝি নাই।’

আলিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা বুলবুল কবির বলেন, ‘আমাদের দাবি ও ১৪০০ শহীদ পরিবারের কাছ থেকে ও সবার পক্ষ থেকে আমার দাবি, আমাদের জুলাই সনদ এবং আমাদের শহীদ হত্যার বিচার, আহতদের চিকিৎসা এবং জুলাই সনদ।’

সেদিন দুপুরে সাভার থানা স্ট্যান্ড এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় সিয়াম। গুরুতর অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারাবার শোক এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় সন্তানহারা পিতাকে।

ছেলেকে হারানোর পর বদলে গেছে বাবার জীবন

সিয়ামের মতোই ৫ আগস্টের সহিংসতায় থেমে যায় নাম শ্রাবণ গাজীর জীবন। পরিবারের একমাত্র ছেলে শ্রাবণ মালয়েশিয়াতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করছিলেন। ২৪-এর ১৬ জুলাই ছুটিতে দেশে আসার পর জড়িয়ে পড়েন গণঅভ্যুত্থানে। ৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকালে বাসা থেকে বের হন শ্রাবণ। দুপুরে সাভার বাসস্ট্যান্ড ও নিউ মার্কেট এলাকার কাছে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি।

ছেলেকে হারানোর পর বদলে গেছে বাবা মান্নান গাজীর জীবন। প্রায় প্রতিদিনই ছেলের কবরের পাশে যেন চলে পিতা-পুত্রের নীরব কথোপকথন। এ সময় অজান্তে চিবুক গড়িয়ে পড়ে নোনা জল আর দীর্ঘশ্বাস।

মান্নান গাজী বলেন, ‘সব বাবাদেরই একই রকম লাগবে। কারণ, সে তো আমার সন্তান। আমার সন্তান আমার চোখের সামনে রক্তে মাখা থাকবে, সেটা আমার কেমন লাগবে?’

গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সাভারের শহীদ আলিফ আহমেদ সিয়াম ও শ্রাবণ গাজীর পরিবারের সময় যেন থমকে আছে সেই ৫ আগস্টেই। স্মৃতির ভার আর বিচারের অপেক্ষায় দীর্ঘশ্বাসী যেন নিত্যসঙ্গী শহীদ স্বজনদের। সবার প্রশ্ন একটাই কবে বিচার হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত