আজ ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। জ্ঞান, বিদ্যা ও সৃজনশীলতার প্রতীক বাগদেবী সরস্বতীর আরাধনায় মুখর এই দিনটি। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর পূজা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে, আজ এই পঞ্চমী তিথিতে অসংখ্য ভক্ত বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে প্রার্থনা জানাচ্ছেন।
রাতুল আল আহমেদ

আজ শ্রীপঞ্চমী, সরস্বতী পূজা। এই শুক্লা পঞ্চমীর সকালে বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে সেই চিরচেনা ছবি। বাসন্তী রঙের ছোঁয়া, বই-খাতায় ঢাকা দেবীর পা, আর চারদিকে পলাশ ফুলের মেলা। ছোটোবেলায় স্কুলে বা পাড়ার প্যান্ডেলে সেই ‘বীণা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে’ দেবী ভগবতী ভারতীর রূপ দেখে আমাদের আঁখি ফেরানো দায় ছিল।
দক্ষিণ এশিয়ার পৌরাণিক ইতিহাসে সরস্বতী এক বিশেষ ব্যতিক্রম। সাহিত্যের পাতায় যদি পিছিয়ে যাই, তবে দেখব যাঁর লিখিত উপস্থিতি সবচেয়ে প্রাচীন, তিনি সরস্বতী। বৈদিক যুগ, এবং তার আগের যুগেও আরো বহু দেবীর অস্তিত্ব ছিল বটে, কিন্তু যাঁর নাম ও রূপ আমরা স্পষ্টভাবে পাই প্রাচীনতম সাহিত্য ঋগ্বেদে, তিনি সরস্বতী।
ঋগ্বেদের পাতায় ঊষা কিংবা রাত্রির মতো দেবীদের উল্লেখ থাকলেও সরস্বতীর তুলনায় তা ক্ষীণ। মনে রাখতে হবে, আজকের হিন্দুধর্মের প্রধান দেবীগণ যেমন দুর্গা বা কালী কিন্তু পৌরাণিক, অর্থাৎ তাঁদের বর্তমান রূপ দেবী সরস্বতীর চেয়ে নবীনতর।
ঋগ্বেদের সূক্তে সরস্বতীকে অভিহিত করা হয়েছে ‘নদীতমে’, ‘অম্বিতমে’ এবং ‘দেবীতমে’ হিসেবে। বোঝাই যাচ্ছে, আদিতে তিনি ছিলেন এক প্রবহমান বিশাল জলধারা। বৈদিক কল্পনায় সরস্বতী এতটাই এক ও অদ্বিতীয় যে প্রায় সব কাজেই তাঁর আহ্বান করতে দেখা যায়।
ঋগ্বেদের ষষ্ঠ মণ্ডলের সূক্তে তাঁকে ‘বৃত্রঘ্নী’ বা অসুরনাশিনীরূপে দেখা যায়। এই রূপটি ভবিষ্যতের দুর্গার ধারণার সঙ্গে আশ্চর্য রকম সাযুজ্যপূর্ণ। হয়ত মাতৃরূপিণী এক সর্বশক্তিমান রক্ষাকর্ত্রী দেবীর ভাবনা এখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিয়েছিল।
আসলে ভারতবর্ষের প্রাচীন সভ্যতায় নদী কেবল ভূগোলের অংশ ছিল না, তা ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র রসদ। একটি কৃষি ও পশুপালন ভিত্তিক সমাজে জল মানেই জীবন। গবাদি পশুর তৃষ্ণা মেটানো থেকে শুরু করে জমির উর্বরতা—সবটাই নির্ভর করত এই প্রবহমান জলধারার ওপর। এই জীবনদায়ী শক্তি থেকেই জন্ম নিয়েছিল নদীর পবিত্রতা। প্রাচীন আর্যরা যখন দেখলেন নদী কেবল মাটি ভেজায় না, তা সভ্যতাকেও পুষ্ট করে, তখন তাঁরা নদীর মধ্যে খুঁজে পেলেন এক ‘মাতৃসত্তা’।

দক্ষিণ এশিয়ার এই বিবর্তনের ধারাটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যে জল শরীরকে শুচি করে, মনে করা হলো সেই একই জল আত্মাকেও পবিত্র করতে পারে। এই ‘পবিত্রতা’র বোধ থেকেই ভৌগোলিক নদীগুলি দেবীরূপে মূর্ত হতে শুরু করল। গঙ্গা, যমুনা কিংবা সরস্বতী—প্রত্যেকেই সেই জীবনদায়ী শক্তির এক একটি দৈব প্রতিচ্ছবি। নদী যখন দুই তীরের মানুষকে অন্ন আর জীবন দিল, তখন মানুষের কৃতজ্ঞতা তাকে আর শুধু ‘জল’ হিসেবে থাকতে দিল না, তাঁকে বসালো দেবীর আসনে।
আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, নদী থেকে তিনি কবে বিদ্যার দেবী হলেন? এই রূপান্তরের উত্তর লুকিয়ে আছে বৈদিক সাহিত্যের বিবর্তনে। আদি ঋগ্বেদে ‘সরস্বতী’ ছিলেন নদী আর ‘বাক্’ ছিলেন বাণীর দেবী—দু’জনে ছিলেন স্বতন্ত্র। যজ্ঞের সময় নদী সরস্বতীর পবিত্র জল যেমন যজমানকে শুচি করত, তেমনই ঋষিদের উচ্চারিত ‘বাক্’ বা বাণী যজ্ঞকে সার্থক করত।
ব্রাহ্মণ সাহিত্যের যুগে, যেমন শতপথ বা ঐতরেয় ব্রাহ্মণ, ঋষিরা অনুভব করলেন, জল যেমন প্রবহমান, জ্ঞান বা বাণীও তেমনই নিরন্তর বয়ে চলে। জল যেমন বাইরের ময়লা ধুয়ে দেয়, প্রজ্ঞা বা জ্ঞান ধুয়ে দেয় মনের অন্ধকার। এই সমান্তরাল দর্শন থেকেই নদী সরস্বতী আর বাগদেবী ‘বাক্’ মিলেমিশে এক হয়ে গেলেন। নদী হয়ে উঠল প্রজ্ঞার প্রতীক। জল হয়ে উঠল জ্ঞান।
এদিকে, প্রাচীনকালে পঞ্চবিদ্যা হিসেবে যা পাঠ্য ছিল গুরুগৃহে, চিকিৎসাবিদ্যা ছিল তার একটি। শুক্লযজুর্বেদের মন্ত্রে সরস্বতীকে ইন্দ্রের ‘ভিষজ্’ বা চিকিৎসক হিসেবে পাওয়া যায়। অশ্বিনীকুমারদের সঙ্গে মিলে তিনি দেবরাজকে আরোগ্য দান করেছিলেন। এভাবেই চিকিৎসাবিদ্যা্র দেবী হিসেবে সরস্বতীর ধারণা গড়ে ওঠে। নদী যেমন কল্লোলিনী ও প্রবহমান, জ্ঞান ও বাক্যও তেমনই নিরন্তর। জল থেকে জ্ঞান—এই রূপান্তর যখন সম্পূর্ণ হলো, তখন তিনি হয়ে উঠলেন ‘বাক্’ বা বাণীর দেবী। নদী থেকে বাগদেবী হওয়ার এই যাত্রাটাই যেন এক সুদীর্ঘ বিবর্তন।
অবাক লাগে ভেবে, সরস্বতী কিন্তু কেবল হিন্দুধর্মের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। হিন্দু ধর্ম ছাড়াও জৈনধর্মে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শ্রুতদেবী’। মথুরার কঙ্কালীটিলায় কুষাণ যুগের যে মূর্তি পাওয়া যায়, সেটিই সরস্বতীর প্রাচীনতম মূর্তিগুলোর একটি। আশ্চর্য হতে হয় এই দেখে যে, সেখানে দেবীর হাতে কোনো বীণা নেই; আছে পুঁথি আর অক্ষমালা। অর্থাৎ তিনি ছিলেন বাচকদের উপাস্য। বজ্রযান বৌদ্ধধর্মেও সরস্বতী প্রজ্ঞার দেবী। তিব্বতি বৌদ্ধধর্মে তাঁকে ডাকা হয় ‘ইয়াংচেনমা’ নামে, যিনি সংগীত ও বাগ্মিতার অধিষ্ঠাত্রী।
তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছেন বিশ্বপথিক। সেখানে তিনি ‘বেনজাইতেন’ নামে পূজিতা। জাপানি সংস্কৃতিতে তিনি জল, সময় এবং সংগীতের দেবী। জাপানের সমুদ্রতীরবর্তী মন্দিরগুলোতে আজও সরস্বতীর এই রূপের পূজা হয়। এমনকি ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের সরস্বতী পূজা এক অনন্য মাত্রা বহন করে। সেখানে ‘পাওয়ুকন’ ক্যালেন্ডারের শেষ দিনে দেবীর কোনো মূর্তি নয়, বরং পুঁথি ও বইকেই পূজা করা হয় ।
এছাড়াও মূর্তিতে বীণা অনেক পরে যুক্ত হয়েছে, মূলত একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দী নাগাদ। আদিতে তিনি ছিলেন কলম বা পুঁথি হাতে এক শাস্ত্রীয় দেবী। নদী থেকে দেবী, দেবী থেকে প্রজ্ঞার বিশ্বরূপ— সরস্বতীর এই গল্প তাই শাশ্বত এক প্রবহমানতার নাম।

আজ শ্রীপঞ্চমী, সরস্বতী পূজা। এই শুক্লা পঞ্চমীর সকালে বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে সেই চিরচেনা ছবি। বাসন্তী রঙের ছোঁয়া, বই-খাতায় ঢাকা দেবীর পা, আর চারদিকে পলাশ ফুলের মেলা। ছোটোবেলায় স্কুলে বা পাড়ার প্যান্ডেলে সেই ‘বীণা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে’ দেবী ভগবতী ভারতীর রূপ দেখে আমাদের আঁখি ফেরানো দায় ছিল।
দক্ষিণ এশিয়ার পৌরাণিক ইতিহাসে সরস্বতী এক বিশেষ ব্যতিক্রম। সাহিত্যের পাতায় যদি পিছিয়ে যাই, তবে দেখব যাঁর লিখিত উপস্থিতি সবচেয়ে প্রাচীন, তিনি সরস্বতী। বৈদিক যুগ, এবং তার আগের যুগেও আরো বহু দেবীর অস্তিত্ব ছিল বটে, কিন্তু যাঁর নাম ও রূপ আমরা স্পষ্টভাবে পাই প্রাচীনতম সাহিত্য ঋগ্বেদে, তিনি সরস্বতী।
ঋগ্বেদের পাতায় ঊষা কিংবা রাত্রির মতো দেবীদের উল্লেখ থাকলেও সরস্বতীর তুলনায় তা ক্ষীণ। মনে রাখতে হবে, আজকের হিন্দুধর্মের প্রধান দেবীগণ যেমন দুর্গা বা কালী কিন্তু পৌরাণিক, অর্থাৎ তাঁদের বর্তমান রূপ দেবী সরস্বতীর চেয়ে নবীনতর।
ঋগ্বেদের সূক্তে সরস্বতীকে অভিহিত করা হয়েছে ‘নদীতমে’, ‘অম্বিতমে’ এবং ‘দেবীতমে’ হিসেবে। বোঝাই যাচ্ছে, আদিতে তিনি ছিলেন এক প্রবহমান বিশাল জলধারা। বৈদিক কল্পনায় সরস্বতী এতটাই এক ও অদ্বিতীয় যে প্রায় সব কাজেই তাঁর আহ্বান করতে দেখা যায়।
ঋগ্বেদের ষষ্ঠ মণ্ডলের সূক্তে তাঁকে ‘বৃত্রঘ্নী’ বা অসুরনাশিনীরূপে দেখা যায়। এই রূপটি ভবিষ্যতের দুর্গার ধারণার সঙ্গে আশ্চর্য রকম সাযুজ্যপূর্ণ। হয়ত মাতৃরূপিণী এক সর্বশক্তিমান রক্ষাকর্ত্রী দেবীর ভাবনা এখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিয়েছিল।
আসলে ভারতবর্ষের প্রাচীন সভ্যতায় নদী কেবল ভূগোলের অংশ ছিল না, তা ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র রসদ। একটি কৃষি ও পশুপালন ভিত্তিক সমাজে জল মানেই জীবন। গবাদি পশুর তৃষ্ণা মেটানো থেকে শুরু করে জমির উর্বরতা—সবটাই নির্ভর করত এই প্রবহমান জলধারার ওপর। এই জীবনদায়ী শক্তি থেকেই জন্ম নিয়েছিল নদীর পবিত্রতা। প্রাচীন আর্যরা যখন দেখলেন নদী কেবল মাটি ভেজায় না, তা সভ্যতাকেও পুষ্ট করে, তখন তাঁরা নদীর মধ্যে খুঁজে পেলেন এক ‘মাতৃসত্তা’।

দক্ষিণ এশিয়ার এই বিবর্তনের ধারাটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যে জল শরীরকে শুচি করে, মনে করা হলো সেই একই জল আত্মাকেও পবিত্র করতে পারে। এই ‘পবিত্রতা’র বোধ থেকেই ভৌগোলিক নদীগুলি দেবীরূপে মূর্ত হতে শুরু করল। গঙ্গা, যমুনা কিংবা সরস্বতী—প্রত্যেকেই সেই জীবনদায়ী শক্তির এক একটি দৈব প্রতিচ্ছবি। নদী যখন দুই তীরের মানুষকে অন্ন আর জীবন দিল, তখন মানুষের কৃতজ্ঞতা তাকে আর শুধু ‘জল’ হিসেবে থাকতে দিল না, তাঁকে বসালো দেবীর আসনে।
আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, নদী থেকে তিনি কবে বিদ্যার দেবী হলেন? এই রূপান্তরের উত্তর লুকিয়ে আছে বৈদিক সাহিত্যের বিবর্তনে। আদি ঋগ্বেদে ‘সরস্বতী’ ছিলেন নদী আর ‘বাক্’ ছিলেন বাণীর দেবী—দু’জনে ছিলেন স্বতন্ত্র। যজ্ঞের সময় নদী সরস্বতীর পবিত্র জল যেমন যজমানকে শুচি করত, তেমনই ঋষিদের উচ্চারিত ‘বাক্’ বা বাণী যজ্ঞকে সার্থক করত।
ব্রাহ্মণ সাহিত্যের যুগে, যেমন শতপথ বা ঐতরেয় ব্রাহ্মণ, ঋষিরা অনুভব করলেন, জল যেমন প্রবহমান, জ্ঞান বা বাণীও তেমনই নিরন্তর বয়ে চলে। জল যেমন বাইরের ময়লা ধুয়ে দেয়, প্রজ্ঞা বা জ্ঞান ধুয়ে দেয় মনের অন্ধকার। এই সমান্তরাল দর্শন থেকেই নদী সরস্বতী আর বাগদেবী ‘বাক্’ মিলেমিশে এক হয়ে গেলেন। নদী হয়ে উঠল প্রজ্ঞার প্রতীক। জল হয়ে উঠল জ্ঞান।
এদিকে, প্রাচীনকালে পঞ্চবিদ্যা হিসেবে যা পাঠ্য ছিল গুরুগৃহে, চিকিৎসাবিদ্যা ছিল তার একটি। শুক্লযজুর্বেদের মন্ত্রে সরস্বতীকে ইন্দ্রের ‘ভিষজ্’ বা চিকিৎসক হিসেবে পাওয়া যায়। অশ্বিনীকুমারদের সঙ্গে মিলে তিনি দেবরাজকে আরোগ্য দান করেছিলেন। এভাবেই চিকিৎসাবিদ্যা্র দেবী হিসেবে সরস্বতীর ধারণা গড়ে ওঠে। নদী যেমন কল্লোলিনী ও প্রবহমান, জ্ঞান ও বাক্যও তেমনই নিরন্তর। জল থেকে জ্ঞান—এই রূপান্তর যখন সম্পূর্ণ হলো, তখন তিনি হয়ে উঠলেন ‘বাক্’ বা বাণীর দেবী। নদী থেকে বাগদেবী হওয়ার এই যাত্রাটাই যেন এক সুদীর্ঘ বিবর্তন।
অবাক লাগে ভেবে, সরস্বতী কিন্তু কেবল হিন্দুধর্মের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। হিন্দু ধর্ম ছাড়াও জৈনধর্মে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শ্রুতদেবী’। মথুরার কঙ্কালীটিলায় কুষাণ যুগের যে মূর্তি পাওয়া যায়, সেটিই সরস্বতীর প্রাচীনতম মূর্তিগুলোর একটি। আশ্চর্য হতে হয় এই দেখে যে, সেখানে দেবীর হাতে কোনো বীণা নেই; আছে পুঁথি আর অক্ষমালা। অর্থাৎ তিনি ছিলেন বাচকদের উপাস্য। বজ্রযান বৌদ্ধধর্মেও সরস্বতী প্রজ্ঞার দেবী। তিব্বতি বৌদ্ধধর্মে তাঁকে ডাকা হয় ‘ইয়াংচেনমা’ নামে, যিনি সংগীত ও বাগ্মিতার অধিষ্ঠাত্রী।
তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছেন বিশ্বপথিক। সেখানে তিনি ‘বেনজাইতেন’ নামে পূজিতা। জাপানি সংস্কৃতিতে তিনি জল, সময় এবং সংগীতের দেবী। জাপানের সমুদ্রতীরবর্তী মন্দিরগুলোতে আজও সরস্বতীর এই রূপের পূজা হয়। এমনকি ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের সরস্বতী পূজা এক অনন্য মাত্রা বহন করে। সেখানে ‘পাওয়ুকন’ ক্যালেন্ডারের শেষ দিনে দেবীর কোনো মূর্তি নয়, বরং পুঁথি ও বইকেই পূজা করা হয় ।
এছাড়াও মূর্তিতে বীণা অনেক পরে যুক্ত হয়েছে, মূলত একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দী নাগাদ। আদিতে তিনি ছিলেন কলম বা পুঁথি হাতে এক শাস্ত্রীয় দেবী। নদী থেকে দেবী, দেবী থেকে প্রজ্ঞার বিশ্বরূপ— সরস্বতীর এই গল্প তাই শাশ্বত এক প্রবহমানতার নাম।

দোহারের ইকরাশি গ্রামের শান্তি রানী পাল। বয়স ৯২ বছর। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। চোখের আলো কমে গেছে, গলার স্বরও ভেঙে গেছে; তবু সংসারের চাকাকে সচল রাখতে আদি পেশা হিসেবে কুমারের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
১৬ ঘণ্টা আগে
জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগে বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলে বন্যপ্রাণী বাস করত। কোন কোন বন্যপ্রাণী ও পাখি সেখানে ছিল? নদী, জলাভূমি ও পুকুরে কী কী মাছ পাওয়া যেত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত জে এন গুপ্ত-এর পূর্ববঙ্গ ও আসামের ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (বগুড়া) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
১৮ ঘণ্টা আগে
আজ ২৫ জানুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন। সাহিত্যিক হিসেবে সাহিত্য-পরিসরে শতবর্ষ পরেও তিনি বেঁচে আছেন সক্রিয়তার ভেতর দিয়েই। এও সত্য যে, তাঁকে নিয়ে তাঁর কালেই তো বেশ জোরজারের সাথে চর্চা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধুন্ধুমারভাবে প্রভাবিত করে গেছেন বিচিত্র ধারার সাহিত্যের লোকজনকে। এসবের পরও সেইকালে মধুসূদন
১ দিন আগে
হাতে বই কিংবা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণ পরই চোখ চলে যায় স্মার্টফোনে। সিনেমা দেখতে বসেও কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য কনটেন্টে চলে যাওয়ার অভ্যাস এখন পরিচিত দৃশ্য। এই অস্থির মনোযোগ ও দ্রুত বিষয় বদলের প্রবণতাকেই আধুনিক মনোবিজ্ঞানে বলা হচ্ছে ‘পপকর্ন ব্রেইন’।
২ দিন আগে