জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি
মাহজাবিন নাফিসা

দুই বছর আগের কত কিছু মনে পড়ছে। ২০২৪ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’ শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছিল গণ-অভ্যুত্থানে এবং পতন ঘটিয়েছিল দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের।
কত রক্তের বিনিময়ে এই অর্জন, তা লেখা আছে অশ্রুজনে। সরকারের হিসাব মতেই, জুলাই আন্দোলনে নিহত হয়েছে প্রায় ১ হাজার মানু। আর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাত-পা-চোখ হারিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ হাজার।
সেই দুঃসহ বেদনার দিনগুলো আজও স্মৃতিতে উজ্জল রোদের মতো চকচকে। কে ছিল না সেদিন আন্দোলেন? শিক্ষক-শিক্ষার্থী-শ্রমজীবী-নারী-পুরুষ-ছেলে-মেয়ে-শিশু সবাই নেমে এসেছিল রাস্তায়। কি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যায়—সবার পরিচয় তখন একটাই—‘আন্দোলনকারী’।
ঢাকার ভেতরে, ঢাকার বাইরে বা জেলা পর্যায়ে, নিজ নিজ এলাকায় তারা গড়ে তুলেছিলেন শক্ত প্রতিরোধ, সহপাঠীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হয়েছেন সহযোদ্ধা। একসঙ্গে হামলা মোকাবিলা করেছেন, পুলিশের ধাওয়া খেয়েছেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। যারা ভাগ্যবান ছিলেন তারা ঢাল হিসেবে পেয়েছেন শিক্ষকদের, আর যারা দুর্ভাগা ছিলেন, তাদের ওপর হামলা হয়েছে শিক্ষকদের নির্দেশেই।
মনে পড়ছে জাহাঙ্গীরনগরের কথা। ঢাকায় যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন আরও বেশি সংঘবদ্ধ হয়ে উঠছিল, তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছে। দেশব্যাপী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ১৫ জুলাই জাহাঙ্গীরনগরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল করে। সেই মিছিলে হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার প্রতিবাদে ও বিচার চাইতে শিক্ষার্থীরা ছুটে যান ভিসির বাসভবনের সামনে। আমার সহপাঠীরা, বন্ধুরা সেদিন যে ভয়াবহ রাত কাটিয়েছে, হয়তো এরচেয়ে ভয়াবহ রাত তাদের জীবনে আর আসবে না।
বিচারের জন্য ছুটে গেলে ভিসি তাদের সঙ্গে দেখা না করে প্রায় শখানেক শিক্ষার্থীকে অররুদ্ধ করে ফেলেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন আবাসিক শিক্ষক উপস্থিত হন তাদের উদ্ধার করতে। ভিসি ও তাঁর সঙ্গে ভেতরে থাকা অন্য শিক্ষকরা ছাত্রদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দেয়, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সঙ্গে যোগ দেয় ছাত্রলীগ বাহিনী। গুলিবিদ্ধ হন ক্যাম্পাসের সাংবাদিক আব্দুর রহমান সার্জিলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী!
ওই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী এক বন্ধু বলেন, ‘আমরা গুলি থেকে বাঁচতে ওই মারামারির মধ্যেই দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে পাশের ডোবায় কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে থেকেছি।’ বর্তমান ‘জুলাই জাগরণী’ হলের এক নারী শিক্ষার্থী মিম (ছদ্দনাম) বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম সেদিনই শেষ। পরিবারের কারও সঙ্গে আর দেখা হবে না। আমরা সবাই বাসায় ফোন দিচ্ছিলাম। সবাই জোরে জোরে আল্লাহকে ডাকছিল। আমাদের কয়েকজন ফেসবুকে লাইভ করে সাহায্য চাচ্ছিল। ভিসি স্যারের দরজায় অনবরত নক করেও আমরা তাঁর কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাইনি।’
ফজিলতুন্নেসা হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা আসলেই ভাবিনি ওইখান থেকে বের হতে পারব, সবাই দোয়া-কালাম পড়তেছিলাম।’
এরইমধ্যে মেয়েদের হল থেকে শুরু করে একের পর এক সব হল থেকে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসে দল ধরে। ভিসির বাসভবনে যারা অবরুদ্ধ ছিল, তাদের উদ্ধারে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় পুলিশ-ছাত্রলীগের। ১৫ তারিখ দিবাগত রাতে সবাইকে উদ্ধার করার পর সবাই মিলে ছাত্রলীগের কর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।
এরপর সবচেয়ে বড় বাধা আসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেই। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রুখে দিতে ১৭ জুলাই দুপুরে সিন্ডিকেট মিটিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই দিনের মধ্যেই হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়।
ওই বিকেলে ক্যাম্পাসে আবার হামলা চালায় পুলিশ। আন্দোলনরত নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর ছোঁড়া হয় সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল, গুলি। ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়লেন শিক্ষার্থীরা। তখন মহাসড়কও নিরাপদ নয়। বাসায় আটকে থেকে ক্যাম্পাসের বন্ধুদের লাইভ আর ভিডিওতে দেখছি সবুজে মোড়ানো আমার ক্যাম্পাসে গাছের উপরেও দেখা যাচ্ছে ধোঁয়ার মেঘ, একটু পরপর গুলির আওয়াজ।
এরই মধ্যে আরেক ঘটনা। আহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেডিকেলে যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্স। পুলিশ সেই গাড়ি থামিয়ে শটগানের মাথা দিয়ে আঘাত করছিল তাদের। সেসময় সেখানে খবর সংগ্রহের কাজে ছিলেন প্রথম আলোর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমার ওপর হামলা চালায়। আমার হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে, এমনকি আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তখন দৌড়ে গুলি থেকে রক্ষা পাই।’
পরদিন শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে বাধ্য হয়। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমবাগান, ইসলামনগর, গেরুয়া এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশ ক্যাম্পাস এলাকায় প্রবেশ করলেও কোনো হামলার ঘটনা আর ঘটেনি। তবে কেউ যেন পুরো এলাকায়ই থাকতে না পারে তাই নেওয়া হয়েছিলো অন্য কৌশল। ক্যাম্পাসসহ আশেপাশের এলাকার সব খাবারের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। খেতে না পেলে আর থাকে কে!
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী খাবারের ব্যবস্থা করলেন। ফান্ড তুলে, নিজেদের পকেট থেকে, বাজার করে, বড় ডেকচিতে রান্না করে খাওয়ালেন সবাইকে। নিজেরা রান্না করে তিনদিন তারা প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থা করেন।
লিখতে গিয়ে অনেক ঘটনাই বাদ পড়ে যায়, অনেকের অনেক সাহায্য অবদানে কথা লেখা হয় না। সেই ভয়াবহ দিন চলে গেছে আজ প্রায় দুই বছর। তবে এখনো মনে পড়ে সেইসব অভিজ্ঞতার গল্প, মনে পড়ে সেইসব শিক্ষকদের কথা যারা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর। আরও বেশি মনে পড়ে যারা বিপদের মুখে নিজেরা গিয়ে বাচিয়েছেন আমার বন্ধুদের।

দুই বছর আগের কত কিছু মনে পড়ছে। ২০২৪ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’ শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছিল গণ-অভ্যুত্থানে এবং পতন ঘটিয়েছিল দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের।
কত রক্তের বিনিময়ে এই অর্জন, তা লেখা আছে অশ্রুজনে। সরকারের হিসাব মতেই, জুলাই আন্দোলনে নিহত হয়েছে প্রায় ১ হাজার মানু। আর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাত-পা-চোখ হারিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ হাজার।
সেই দুঃসহ বেদনার দিনগুলো আজও স্মৃতিতে উজ্জল রোদের মতো চকচকে। কে ছিল না সেদিন আন্দোলেন? শিক্ষক-শিক্ষার্থী-শ্রমজীবী-নারী-পুরুষ-ছেলে-মেয়ে-শিশু সবাই নেমে এসেছিল রাস্তায়। কি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যায়—সবার পরিচয় তখন একটাই—‘আন্দোলনকারী’।
ঢাকার ভেতরে, ঢাকার বাইরে বা জেলা পর্যায়ে, নিজ নিজ এলাকায় তারা গড়ে তুলেছিলেন শক্ত প্রতিরোধ, সহপাঠীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হয়েছেন সহযোদ্ধা। একসঙ্গে হামলা মোকাবিলা করেছেন, পুলিশের ধাওয়া খেয়েছেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। যারা ভাগ্যবান ছিলেন তারা ঢাল হিসেবে পেয়েছেন শিক্ষকদের, আর যারা দুর্ভাগা ছিলেন, তাদের ওপর হামলা হয়েছে শিক্ষকদের নির্দেশেই।
মনে পড়ছে জাহাঙ্গীরনগরের কথা। ঢাকায় যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন আরও বেশি সংঘবদ্ধ হয়ে উঠছিল, তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছে। দেশব্যাপী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ১৫ জুলাই জাহাঙ্গীরনগরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল করে। সেই মিছিলে হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার প্রতিবাদে ও বিচার চাইতে শিক্ষার্থীরা ছুটে যান ভিসির বাসভবনের সামনে। আমার সহপাঠীরা, বন্ধুরা সেদিন যে ভয়াবহ রাত কাটিয়েছে, হয়তো এরচেয়ে ভয়াবহ রাত তাদের জীবনে আর আসবে না।
বিচারের জন্য ছুটে গেলে ভিসি তাদের সঙ্গে দেখা না করে প্রায় শখানেক শিক্ষার্থীকে অররুদ্ধ করে ফেলেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন আবাসিক শিক্ষক উপস্থিত হন তাদের উদ্ধার করতে। ভিসি ও তাঁর সঙ্গে ভেতরে থাকা অন্য শিক্ষকরা ছাত্রদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দেয়, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সঙ্গে যোগ দেয় ছাত্রলীগ বাহিনী। গুলিবিদ্ধ হন ক্যাম্পাসের সাংবাদিক আব্দুর রহমান সার্জিলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী!
ওই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী এক বন্ধু বলেন, ‘আমরা গুলি থেকে বাঁচতে ওই মারামারির মধ্যেই দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে পাশের ডোবায় কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে থেকেছি।’ বর্তমান ‘জুলাই জাগরণী’ হলের এক নারী শিক্ষার্থী মিম (ছদ্দনাম) বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম সেদিনই শেষ। পরিবারের কারও সঙ্গে আর দেখা হবে না। আমরা সবাই বাসায় ফোন দিচ্ছিলাম। সবাই জোরে জোরে আল্লাহকে ডাকছিল। আমাদের কয়েকজন ফেসবুকে লাইভ করে সাহায্য চাচ্ছিল। ভিসি স্যারের দরজায় অনবরত নক করেও আমরা তাঁর কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাইনি।’
ফজিলতুন্নেসা হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা আসলেই ভাবিনি ওইখান থেকে বের হতে পারব, সবাই দোয়া-কালাম পড়তেছিলাম।’
এরইমধ্যে মেয়েদের হল থেকে শুরু করে একের পর এক সব হল থেকে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসে দল ধরে। ভিসির বাসভবনে যারা অবরুদ্ধ ছিল, তাদের উদ্ধারে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় পুলিশ-ছাত্রলীগের। ১৫ তারিখ দিবাগত রাতে সবাইকে উদ্ধার করার পর সবাই মিলে ছাত্রলীগের কর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।
এরপর সবচেয়ে বড় বাধা আসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেই। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রুখে দিতে ১৭ জুলাই দুপুরে সিন্ডিকেট মিটিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই দিনের মধ্যেই হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়।
ওই বিকেলে ক্যাম্পাসে আবার হামলা চালায় পুলিশ। আন্দোলনরত নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর ছোঁড়া হয় সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল, গুলি। ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়লেন শিক্ষার্থীরা। তখন মহাসড়কও নিরাপদ নয়। বাসায় আটকে থেকে ক্যাম্পাসের বন্ধুদের লাইভ আর ভিডিওতে দেখছি সবুজে মোড়ানো আমার ক্যাম্পাসে গাছের উপরেও দেখা যাচ্ছে ধোঁয়ার মেঘ, একটু পরপর গুলির আওয়াজ।
এরই মধ্যে আরেক ঘটনা। আহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেডিকেলে যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্স। পুলিশ সেই গাড়ি থামিয়ে শটগানের মাথা দিয়ে আঘাত করছিল তাদের। সেসময় সেখানে খবর সংগ্রহের কাজে ছিলেন প্রথম আলোর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমার ওপর হামলা চালায়। আমার হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে, এমনকি আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তখন দৌড়ে গুলি থেকে রক্ষা পাই।’
পরদিন শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে বাধ্য হয়। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমবাগান, ইসলামনগর, গেরুয়া এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশ ক্যাম্পাস এলাকায় প্রবেশ করলেও কোনো হামলার ঘটনা আর ঘটেনি। তবে কেউ যেন পুরো এলাকায়ই থাকতে না পারে তাই নেওয়া হয়েছিলো অন্য কৌশল। ক্যাম্পাসসহ আশেপাশের এলাকার সব খাবারের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। খেতে না পেলে আর থাকে কে!
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী খাবারের ব্যবস্থা করলেন। ফান্ড তুলে, নিজেদের পকেট থেকে, বাজার করে, বড় ডেকচিতে রান্না করে খাওয়ালেন সবাইকে। নিজেরা রান্না করে তিনদিন তারা প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থা করেন।
লিখতে গিয়ে অনেক ঘটনাই বাদ পড়ে যায়, অনেকের অনেক সাহায্য অবদানে কথা লেখা হয় না। সেই ভয়াবহ দিন চলে গেছে আজ প্রায় দুই বছর। তবে এখনো মনে পড়ে সেইসব অভিজ্ঞতার গল্প, মনে পড়ে সেইসব শিক্ষকদের কথা যারা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর। আরও বেশি মনে পড়ে যারা বিপদের মুখে নিজেরা গিয়ে বাচিয়েছেন আমার বন্ধুদের।
.png)

ফেসবুকে কেউ যদি কোন থ্রিলার বই-এর খোঁজ করেন এর পর থেকে ফেসবুক তাঁকে থ্রিলার বই-এর খবর পাঠাতে থাকবে। এবং তিনি শুধু এ ধরনের বই-ই পড়তে থাকবেন। ভয়টা এখানেই। তিনি হয়তো জানতেও পারবেন না যে থ্রিলারের বাইরেও রোমান্টিক ও অ্যাডভেঞ্চার ধরনের বই রয়ে গেছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
আহমদ ছফাকে শুধু একজন কথাসাহিত্যিক হিসেবে পড়লে তাঁর গুরুত্বের বড় একটি অংশ অধরা থেকে যায়। আবার তাঁকে কেবল রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে দেখলেও তাঁর চিন্তার পূর্ণতা ধরা পড়ে না। সাহিত্য, রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়—এসবকে তিনি কখনো বিচ্ছিন্নভাবে দেখেননি।
১৯ ঘণ্টা আগে
আহমদ ছফার ৮৪তম জন্মদিন আজ। তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে বারবার ফিরে যাই আমার স্কুলজীবনের সেই দিনগুলোতে, যখন বই পড়ার আগ্রহটা কেবল গভীর হচ্ছে, নতুন নতুন লেখক আবিষ্কারের আনন্দে দিন কাটে।
১৯ ঘণ্টা আগে
আহমদ ছফার নাম প্রথম শুনেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে, ক্লাসে স্যারের মুখে। কিছুদিন পর ফেসবুকেও তাঁকে খুঁজে পাই। আজ ফেসবুকে ‘আহমদ ছফা’ লিখে খুঁজলেই চোখে পড়ে তাঁর উদ্ধৃতি, পুরোনো সাক্ষাৎকার বা বক্তৃতার অংশ, বইয়ের ছবি, অথবা তাঁকে নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক।
২০ ঘণ্টা আগে