সংস্কৃতি
কাজী নিশাত তাবাসসুম

কোরবানির ঈদ মানেই যেন গরুর হাঁকডাক আর মাংস কাটাকাটির বিশাল আয়োজন। যদিও ইসলাম ধর্মে কোরবানির জন্য শুধু গরু নয় ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, উট কিংবা মহিষও বৈধ পশু। তবুও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে গরুই কোরবানির সবচেয়ে জনপ্রিয় পশু।
কখনো কি মনে হয়েছে, বাংলাদেশে কেন গরু এতটা জনপ্রিয়? ইতিহাস, ধর্মীয় ব্যাখ্যা, সামাজিক বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক কারণ মিলিয়ে এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক বিবর্তনের গল্প।
ইসলামের ইতিহাসে কোরবানির সূচনা হজরত ইব্রাহিমের (আ.) আত্মত্যাগের ঘটনার মাধ্যমে। আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় সন্তান হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হলে শেষ মুহূর্তে আল্লাহ একটি পশু দিয়ে সেই কোরবানি কবুল করেন। সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই মুসলমানরা প্রতি বছর ঈদুল আজহায় পশু কোররবানি করেন।
তবে কোরবানির পশু হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণী বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ইসলামি শরিয়তে গবাদিপশুর মধ্যে ৬টি পশুকে কোরবানির জন্য বৈধ বলা হয়েছে। এগুলো হলো: উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা।
তাহলে আমাদের দেশে গরুই কেন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠল?
এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা। একটি গরুতে সাতজন পর্যন্ত শরিক হয়ে কোরবানি দেওয়া যায়। ফলে তুলনামূলক কম খরচে বেশি মানুষ কোরবানিতে অংশ নিতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ সমাজে এটি বড় সুবিধা। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে তাই গরু সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
ইতিহাস পড়লে জানা যায়, ভারতীয় উপমহাদেশে কৃষিভিত্তিক সমাজ গড়ে ওঠার পর থেকেই গরু ছিল মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষিকাজ, দুধ উৎপাদন ও পরিবহনে গরুর ব্যবহার ছিল ব্যাপক। ফলে গ্রামাঞ্চলে গরু পালনও ছিল সহজ ও স্বাভাবিক বিষয়। মুসলিম শাসনামলে কোরবানির চর্চা বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সহজলভ্যতার কারণে গরু দ্রুত কোরবানির প্রধান পশুতে পরিণত হয়।
বাংলাদেশে কোরবানির সংস্কৃতির সঙ্গে গরুর সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে গত কয়েক দশকে। একসময় গ্রামের মানুষ নিজের বাড়িতে পালিত গরুই কোরবানি দিতেন। এখন কোরবানিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল অর্থনৈতিক চক্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সারা বছর গরু মোটাতাজাকরণ, খামার গড়ে তোলা এবং হাটকেন্দ্রিক ব্যবসা চলে। ঈদকে সামনে রেখে লাখ লাখ গরু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে আসে।
কোরবানির ঈদ বাংলাদেশের পশুসম্পদ খাতের সবচেয়ে বড় মৌসুমি অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। আর এই অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গরু। কারণ গরুর মাংসের চাহিদা বেশি, চামড়ার বাজার বড় এবং একটি পশু থেকে তুলনামূলক বেশি মাংস পাওয়া যায়।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও গরু কোরবানির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইসলামে গরু কোরবানি বৈধ এবং হাদিসে এর উল্লেখ রয়েছে। হজের সময় আরব অঞ্চলে উট বেশি কোরবানি হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে উটের সহজলভ্যতা কম। অন্যদিকে গরু সহজে পাওয়া যায় এবং স্থানীয় পরিবেশে পালনও সুবিধাজনক। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গরু এখানে কোরবানির প্রধান প্রতীক হয়ে ওঠে।
সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবার বড় গরু কোরবানি দেওয়াকে সামর্থ্য ও সামাজিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবেও দেখে। ঈদের আগে বড় গরু কেনা, হাটে দরদাম করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ সব মিলিয়ে গরুকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে আলাদা সংস্কৃতি। শহুরে জীবনে এটি এখন এক ধরনের উৎসবের অংশ।
তবে শুধু দক্ষিণ এশিয়াই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানির পশু নির্বাচনে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে উট ও ভেড়া বেশি জনপ্রিয়, আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে ছাগল বেশি কোরবানি হয়, আবার তুরস্ক বা মধ্য এশিয়ায় ভেড়া ও দুম্বার প্রচলন বেশি। অর্থাৎ যে অঞ্চলে যে পশু সহজলভ্য এবং মানুষের খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে বেশি মানানসই, সেখানেই সেটি কোরবানির প্রধান পশু হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে কোরবানির প্রধান আকর্ষণ গরু। ছোট গরু থেকে শুরু করে বিশাল আকৃতির ষাঁড় সবই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। প্রতিবছর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় বিশালাকৃতির গরুর ছবি ও ভিডিও। অনেক খামারি বিশেষ নাম দিয়ে গরু বাজারজাত করেন। ফলে গরু এখন শুধু কোরবানির পশুই নয়, ঈদ সংস্কৃতিরও একটি বড় অনুষঙ্গ।

কোরবানির ঈদ মানেই যেন গরুর হাঁকডাক আর মাংস কাটাকাটির বিশাল আয়োজন। যদিও ইসলাম ধর্মে কোরবানির জন্য শুধু গরু নয় ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, উট কিংবা মহিষও বৈধ পশু। তবুও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে গরুই কোরবানির সবচেয়ে জনপ্রিয় পশু।
কখনো কি মনে হয়েছে, বাংলাদেশে কেন গরু এতটা জনপ্রিয়? ইতিহাস, ধর্মীয় ব্যাখ্যা, সামাজিক বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক কারণ মিলিয়ে এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক বিবর্তনের গল্প।
ইসলামের ইতিহাসে কোরবানির সূচনা হজরত ইব্রাহিমের (আ.) আত্মত্যাগের ঘটনার মাধ্যমে। আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় সন্তান হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হলে শেষ মুহূর্তে আল্লাহ একটি পশু দিয়ে সেই কোরবানি কবুল করেন। সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই মুসলমানরা প্রতি বছর ঈদুল আজহায় পশু কোররবানি করেন।
তবে কোরবানির পশু হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণী বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ইসলামি শরিয়তে গবাদিপশুর মধ্যে ৬টি পশুকে কোরবানির জন্য বৈধ বলা হয়েছে। এগুলো হলো: উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা।
তাহলে আমাদের দেশে গরুই কেন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠল?
এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা। একটি গরুতে সাতজন পর্যন্ত শরিক হয়ে কোরবানি দেওয়া যায়। ফলে তুলনামূলক কম খরচে বেশি মানুষ কোরবানিতে অংশ নিতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ সমাজে এটি বড় সুবিধা। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে তাই গরু সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
ইতিহাস পড়লে জানা যায়, ভারতীয় উপমহাদেশে কৃষিভিত্তিক সমাজ গড়ে ওঠার পর থেকেই গরু ছিল মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষিকাজ, দুধ উৎপাদন ও পরিবহনে গরুর ব্যবহার ছিল ব্যাপক। ফলে গ্রামাঞ্চলে গরু পালনও ছিল সহজ ও স্বাভাবিক বিষয়। মুসলিম শাসনামলে কোরবানির চর্চা বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সহজলভ্যতার কারণে গরু দ্রুত কোরবানির প্রধান পশুতে পরিণত হয়।
বাংলাদেশে কোরবানির সংস্কৃতির সঙ্গে গরুর সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে গত কয়েক দশকে। একসময় গ্রামের মানুষ নিজের বাড়িতে পালিত গরুই কোরবানি দিতেন। এখন কোরবানিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল অর্থনৈতিক চক্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সারা বছর গরু মোটাতাজাকরণ, খামার গড়ে তোলা এবং হাটকেন্দ্রিক ব্যবসা চলে। ঈদকে সামনে রেখে লাখ লাখ গরু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে আসে।
কোরবানির ঈদ বাংলাদেশের পশুসম্পদ খাতের সবচেয়ে বড় মৌসুমি অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। আর এই অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গরু। কারণ গরুর মাংসের চাহিদা বেশি, চামড়ার বাজার বড় এবং একটি পশু থেকে তুলনামূলক বেশি মাংস পাওয়া যায়।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও গরু কোরবানির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইসলামে গরু কোরবানি বৈধ এবং হাদিসে এর উল্লেখ রয়েছে। হজের সময় আরব অঞ্চলে উট বেশি কোরবানি হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে উটের সহজলভ্যতা কম। অন্যদিকে গরু সহজে পাওয়া যায় এবং স্থানীয় পরিবেশে পালনও সুবিধাজনক। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গরু এখানে কোরবানির প্রধান প্রতীক হয়ে ওঠে।
সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবার বড় গরু কোরবানি দেওয়াকে সামর্থ্য ও সামাজিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবেও দেখে। ঈদের আগে বড় গরু কেনা, হাটে দরদাম করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ সব মিলিয়ে গরুকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে আলাদা সংস্কৃতি। শহুরে জীবনে এটি এখন এক ধরনের উৎসবের অংশ।
তবে শুধু দক্ষিণ এশিয়াই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানির পশু নির্বাচনে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে উট ও ভেড়া বেশি জনপ্রিয়, আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে ছাগল বেশি কোরবানি হয়, আবার তুরস্ক বা মধ্য এশিয়ায় ভেড়া ও দুম্বার প্রচলন বেশি। অর্থাৎ যে অঞ্চলে যে পশু সহজলভ্য এবং মানুষের খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে বেশি মানানসই, সেখানেই সেটি কোরবানির প্রধান পশু হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে কোরবানির প্রধান আকর্ষণ গরু। ছোট গরু থেকে শুরু করে বিশাল আকৃতির ষাঁড় সবই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। প্রতিবছর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় বিশালাকৃতির গরুর ছবি ও ভিডিও। অনেক খামারি বিশেষ নাম দিয়ে গরু বাজারজাত করেন। ফলে গরু এখন শুধু কোরবানির পশুই নয়, ঈদ সংস্কৃতিরও একটি বড় অনুষঙ্গ।
.png)

ফুটবল বিশ্বকাপকে বলা হয়, ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। চার বছর ধরে এর জন্য সারা পৃথিবী যেন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যায় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, ভবিষ্যদ্বাণী আর তর্কাতর্কিতে। অথচ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় না। তবুও কেন এ খেলাকে ঘিরে এত আবেগ?
১৮ ঘণ্টা আগে
মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের রোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক। তিনি ব্রিটিশ শাসনামলের ভারত, পকিস্তান ও বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কিছু প্রশংসিত গ্রন্থের লেখক। এক দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। এই নিবন্ধটি ২০২১ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত বই ‘আইডেন্টিটি অব আ মুসলিম ফ্যা
২১ ঘণ্টা আগে
আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কার কবিতায় বাংলাদেশের প্রাণের স্পন্দন আর মর্মের সুর শুনতে পাওয়া যায়? সমস্ত কুণ্ঠা আর দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আমি আল মাহমুদের নাম নেব। এই কবিই আমাকে চমকে দিয়ে গিয়েছিলেন স্বপ্নের ভেতর, ‘নারকোলের ওই লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল/ ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে ঠাণ্ডা গোলগাল।’
২১ ঘণ্টা আগে
আজ ১১ জুলাই, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। এ দিন জনসংখ্যা নিয়ে নানা আলোচনা হয়। চলুন, একটি সহজ প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। বিশ্বের জনসংখ্যা এখন— ক) কমছে খ) বাড়ছে, তবে আর ১০ বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে গ) বাড়ছে, এবং ২০৮০-এর দশকে গিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে
১১ জুলাই ২০২৬