স্ট্রিম সংবাদদাতা

রাঙামাটিতে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে থাকা জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ও বাঘাইছড়ির বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। পানি কমার সঙ্গে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। রোববার (১২ জুলাই) সকালে থেকে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে পাহাড়ধসে সড়ক খারাপ হওয়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও রান্নার এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সংকট। কাপ্তাই হ্রদে তীব্র স্রোতের কারণে ফারুয়ার ইউনিয়নের ১২ হাজার মানুষের কাছে এখনও সরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি।
বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের উলুছড়ি গ্রামের বাসিন্দা মিলন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, জীবন বাঁচাতে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন অনেক মানুষ। ফারুয়ার বাজার ও বসতবাড়ির অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে শনিবার বৃষ্টি না হওয়ায় এলাকায় পানি কমে এসেছে।
বিলাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘উপজেলায় ২৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ফারুয়া ইউনিয়নে প্রায় ১২ হাজার মানুষ। তীব্র স্রোতের কারণে সেখানে ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না। শনিবার তিনবার চেষ্টা করেও বোট চালানো যায়নি। আজ (রবিবার) দুপুরে আবার বের হব।’
ইউএনও আরও বলেন, বৈরী পরিস্থিতিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। তবে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেহেতু কোনোভাবেই সরকারি ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না, তাই স্থানীয় বাজার থেকে কিনে দুর্গতদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে গত দুই দিন বৃষ্টি না হওয়ায় বাঘাইছড়িতে বন্যার পানি কমে আসায় ঘরবাড়ি পরিষ্কার করছে লোকজন। পাহাড়ধসে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে সড়ক সংস্কারে কাজ করছে সড়ক বিভাগ।
বাঘাইছড়ির বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, সরকারি ত্রাণের জন্য চিড়া, মুড়ি, পেঁয়াজ, আলু, সয়াবিন নেওয়ার কারণে বাজার কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। মানুষ বাসায় ফিরতে শুরু করায় চুলা জ্বালানোর জন্য এলপিজি পাচ্ছে না বাজারে। এর মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নতুন কোনো পণ্য বাজারে আসেনি।
বাঘাইছড়ি মারিশ্যা বাজার কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন বাবু বলেন, রাস্তা ভাঙা থাকায় গ্যাসের গাড়ি আসতে পারেনি। আর ত্রাণের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে চিড়া, মুড়ি, পেঁয়াজ, আলু, সয়াবিন সংগ্রহ করা দোকানে এসবের কিছু সংকট আছে। এক-দুদিনের মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, জেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন মোট ৩ হাজার ৮২০ পরিবার। পানিবন্দি রয়েছে ১ হাজার ৪৪ টি পরিবার। তাদের জন্য তিন বেলা খাবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখনো দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। পানি কমে যাওয়ায় অনেকে বাড়ি ফিরেছেন।
জেলার কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৩ হাজার ৪৯৫ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। যার মধ্যে ধানের জমি ক্ষতি হয়েছে ৭১৭ হেক্টর। জেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলায় ২০টি ইউনিয়নের ৭৬টি পুকুর-খামারের মাছ বন্যায় ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, পাহাড়ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছাড়াও আঞ্চলিক সড়কেও ক্ষতি হয়েছে। যাতে প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। আপৎকালীন ব্যবস্থা করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
এদিকে উজানের পানিতে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম। গতকাল শনিবার বরকলে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। ওই দিন রাতে শহরের কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন বলেছেন, ‘ত্রাণ ও খাবার যতদিন লাগে দেব, তিন মাস হলে তিন মাস। পাহাড়ে ধস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবে সরকার।

রাঙামাটিতে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে থাকা জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ও বাঘাইছড়ির বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। পানি কমার সঙ্গে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। রোববার (১২ জুলাই) সকালে থেকে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে পাহাড়ধসে সড়ক খারাপ হওয়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও রান্নার এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সংকট। কাপ্তাই হ্রদে তীব্র স্রোতের কারণে ফারুয়ার ইউনিয়নের ১২ হাজার মানুষের কাছে এখনও সরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি।
বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের উলুছড়ি গ্রামের বাসিন্দা মিলন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, জীবন বাঁচাতে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন অনেক মানুষ। ফারুয়ার বাজার ও বসতবাড়ির অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে শনিবার বৃষ্টি না হওয়ায় এলাকায় পানি কমে এসেছে।
বিলাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘উপজেলায় ২৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ফারুয়া ইউনিয়নে প্রায় ১২ হাজার মানুষ। তীব্র স্রোতের কারণে সেখানে ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না। শনিবার তিনবার চেষ্টা করেও বোট চালানো যায়নি। আজ (রবিবার) দুপুরে আবার বের হব।’
ইউএনও আরও বলেন, বৈরী পরিস্থিতিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। তবে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেহেতু কোনোভাবেই সরকারি ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না, তাই স্থানীয় বাজার থেকে কিনে দুর্গতদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে গত দুই দিন বৃষ্টি না হওয়ায় বাঘাইছড়িতে বন্যার পানি কমে আসায় ঘরবাড়ি পরিষ্কার করছে লোকজন। পাহাড়ধসে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে সড়ক সংস্কারে কাজ করছে সড়ক বিভাগ।
বাঘাইছড়ির বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, সরকারি ত্রাণের জন্য চিড়া, মুড়ি, পেঁয়াজ, আলু, সয়াবিন নেওয়ার কারণে বাজার কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। মানুষ বাসায় ফিরতে শুরু করায় চুলা জ্বালানোর জন্য এলপিজি পাচ্ছে না বাজারে। এর মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নতুন কোনো পণ্য বাজারে আসেনি।
বাঘাইছড়ি মারিশ্যা বাজার কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন বাবু বলেন, রাস্তা ভাঙা থাকায় গ্যাসের গাড়ি আসতে পারেনি। আর ত্রাণের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে চিড়া, মুড়ি, পেঁয়াজ, আলু, সয়াবিন সংগ্রহ করা দোকানে এসবের কিছু সংকট আছে। এক-দুদিনের মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, জেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন মোট ৩ হাজার ৮২০ পরিবার। পানিবন্দি রয়েছে ১ হাজার ৪৪ টি পরিবার। তাদের জন্য তিন বেলা খাবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখনো দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। পানি কমে যাওয়ায় অনেকে বাড়ি ফিরেছেন।
জেলার কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৩ হাজার ৪৯৫ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। যার মধ্যে ধানের জমি ক্ষতি হয়েছে ৭১৭ হেক্টর। জেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলায় ২০টি ইউনিয়নের ৭৬টি পুকুর-খামারের মাছ বন্যায় ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, পাহাড়ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছাড়াও আঞ্চলিক সড়কেও ক্ষতি হয়েছে। যাতে প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। আপৎকালীন ব্যবস্থা করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
এদিকে উজানের পানিতে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম। গতকাল শনিবার বরকলে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। ওই দিন রাতে শহরের কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন বলেছেন, ‘ত্রাণ ও খাবার যতদিন লাগে দেব, তিন মাস হলে তিন মাস। পাহাড়ে ধস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবে সরকার।
.png)

চট্টগ্রামে বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এক সপ্তাহ ধরে জেলার ১১ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত রয়েছে। এরই মধ্যে সীমান্তের ওপারে উজান থেকে আসা ঢলে পানি বাড়ছে এ সব এলাকায়। এতে শুকনো খাবার, সুপেয় পানির অভাবে আছে পানিবন্দি মানুষ। এখনো ঠিক হয়নি কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক।
৮ মিনিট আগে
বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টি কমে আসায় জেলা শহরের নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পাহাড়ধস এবং পানি জমে থাকায় সারা দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এখনও বন্ধ রয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া বন্য হাতিটি মারা গেছে। বন বিভাগ, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি), প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত চেষ্টায়ও হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
৩ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মোহাম্মদ রাকিব (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সকাল সোয়া ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
৩ ঘণ্টা আগে