বৃষ্টিতে পাহাড় থেকে পড়ে আহত সেই মা হাতিকে বাঁচানো গেল না

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
উখিয়া (কক্সবাজার)

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১৩: ২৩
টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত বন্য হাতি। সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া বন্য হাতিটি মারা গেছে। বন বিভাগ, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি), প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত চেষ্টায়ও হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে হাতিটি মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, হাতিটি প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল। এতে তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং পেটে গুরুতর আঘাত লাগে। সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হলেও আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। ফলে হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পাহাড় থেকে হাতিটি নিচে পড়ে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় লতাপাতা খাওয়ার সময় হাতিটির পা পিছলে যায়। এতে প্রায় ২০০ ফুট নিচে খাদে পড়ে গিয়ে প্রাণীটি গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর সে আর দাঁড়াতে পারেনি। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। পরে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. মোস্তাফিজের নেতৃত্বে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে হাতিটির নিবিড় চিকিৎসা চালানো হয়।

বন বিভাগ জানায়, মৃত হাতিটির আনুমানিক বয়স ৪০ বছর। পাহাড় থেকে পড়ে তার মেরুদণ্ড ও পেছনের পা ভেঙে যাওয়ায় সে সম্পূর্ণভাবে চলাচলের সক্ষমতা হারায়। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আঘাতও ছিল গুরুতর, যা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে।

বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও হাতিটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেন বলে জানান তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তবে বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সব ধরনের চেষ্টার পরেও হাতিটিকে বাঁচানো গেল না। বন বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে হাতিটির মরদেহ বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাটিচাপা দেওয়া হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত