পলাশী দিবস
স্ট্রিম ডেস্ক

নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা রক্ষা এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম বড় প্রতিরোধের মহাকাব্য। বর্তমান বাংলাদেশের সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলার সম্পর্ক অতি গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা শুধু মুর্শিদাবাদকেন্দ্রিক কোনো আঞ্চলিক শাসক ছিলেন না। তিনি ছিলেন সমগ্র বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার অধিপতি। তাঁর শাসনাধীন বাংলা সুবাহর একটি বিশাল অংশ ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ড। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, যশোর ও সোনারগাঁর মতো জনপদগুলো তখন নবাবি প্রশাসনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো। বিশেষ করে ঢাকা ছিল নবাবি প্রশাসনের অন্যতম ভিত্তি এবং পূর্ব বাংলার কৃষিজাত পণ্য ও মসলিন শিল্পের রাজস্ব মুর্শিদাবাদের কোষাগারকে সমৃদ্ধ করত।
এসব কারণে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে সিরাজউদ্দৌলার যে পরাজয় ঘটেছিল, তা শুধু মুর্শিদাবাদের মসনদের পতন ছিল না। এটি ছিল আজকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতেরও এক চরম বিপর্যয়।
পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল বর্তমান বাংলাদেশের জনজীবনে যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল, তা ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হয়ে আছে। সিরাজের পতনের পর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন বাংলার ক্ষমতা দখল করে, তখন থেকেই পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষের ওপর নেমে আসে চরম অর্থনৈতিক শোষণ।
১৭৬৫ সালে কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করার পর রাজস্ব আদায়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব পেয়ে যায়। আর এই কর্তৃত্ব এমনভাবে শোষণের হাতিয়ারে পরিণত করে ইংরেজরা, তাতে বাংলার কৃষক, তাঁতি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এবং নীল চাষের মতো নিপীড়নমূলক ব্যবস্থাগুলো এই ভূখণ্ডের কৃষি অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।
ভারতীয় ইতিহাসবিদ আর সি দত্ত তাঁর দ্য ইকোনমিক হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া বইয়ে বলেছেন, দেওয়ানি লাভের পর কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য ছিল সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়, ফলে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ে এবং বাংলার সম্পদ ইংল্যান্ডে স্থানান্তরিত হতে থাকে।
আরেক ইতিহাসবিদ রণজিৎ গুহ তাঁর আ রুল অব প্রপার্টি ফর বেঙ্গল বইয়ে বলছেন, কোম্পানি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে জমির ওপর নতুন ধরনের মালিকানা কাঠামো তৈরি করে, যার ফলে কৃষকদের ঐতিহ্যগত অধিকার দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জমিদার-নির্ভর শোষণ তীব্র হয়।
বলার অপেক্ষা রাখে না, সিরাজের পতনের মাধ্যমেই আধুনিক বাংলাদেশের শোষিত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল। এই কারণেই বাংলাদেশের মানুষের কাছে সিরাজউদ্দৌলা কোনো বিজাতীয় শাসক নন। তিনি নিজের ঘরের একজন অভিভাবক হিসেবে গণ্য হন, যাঁর বিদায়ের পর পুরো পরিবার ব্রিটিশ অপশাসনের শিকলে বন্দি হয়েছিল।
বাঙালি কেন সিরাজউদ্দৌলাকে বীর হিসেবে শ্রদ্ধা করে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে সিরাজের আপসহীন জাতীয়তাবাদী সত্তার ভেতরে। সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। তাঁর পরবর্তী শাসকেরা ছিলেন নামমাত্র নবাব বা ব্রিটিশদের পুতুল। সিরাজই ছিলেন সেই নির্ভীক তরুণ, যিনি অত্যন্ত অল্প বয়সে ব্রিটিশদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণে বাধা দেওয়া এবং তাদের উদ্ধত আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তিনি বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নন। তাঁর এই চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে তাঁর অবাধ্য অবস্থানই তাঁকে বাঙালি জাতির চোখে এক চিরকালীন বীরের মর্যাদা দিয়েছে।

সিরাজউদ্দৌলার বীরত্ব এবং ট্র্যাজেডিকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে বাঙালির বিশ্বাসঘাতকতার সংজ্ঞা। পলাশীর যুদ্ধে নবাবের নিজের সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা বাংলার ইতিহাসে এক কালো দাগ হয়ে আছে। যুদ্ধের ময়দানে বিশাল সৈন্যবাহিনী থাকা সত্ত্বেও সেনাপতিদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ষড়যন্ত্রের কারণে সিরাজের পরাজয় ঘটেছিল। এই বিশ্বাসঘাতকতার গল্প বাঙালির লোকগাথায় এবং ইতিহাসের বয়ানে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে, ‘মীর জাফর’ শব্দটি আজও বাংলা ভাষায় বিশ্বাসঘাতকের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে সিরাজউদ্দৌলা হয়ে ওঠেন ষড়যন্ত্র ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নিঃসঙ্গ লড়াইয়ের প্রতীক। সমসাময়িক কিছু ইংরেজ ইতিহাসবিদ সিরাজকে উদ্ধত বা অদূরদর্শী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করলেও, বাঙালি জনমানসে তিনি এক ‘ট্র্যাজিক হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে যখন ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে, তখন সিরাজউদ্দৌলা হয়ে ওঠেন বিপ্লবীদের অনুপ্রেরণার উৎস। মীর মোশাররফ হোসেনের ‘জমিদার দর্পণ’ থেকে শুরু করে সিকান্দার আবু জাফরের নাটক পর্যন্ত সিরাজকে জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন দেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর বাঙালিরা সিরাজের পতনকে স্বাধীনতা হারানোর মূল মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করত। সাহিত্যের এই বিশাল সম্ভার সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রকে সাধারণ মানুষের আবেগের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশেও পলাশী দিবস পালনের মাধ্যমে সিরাজের দেশপ্রেম এবং ব্রিটিশবিরোধী অবস্থানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।
সিরাজউদ্দৌলার সীমাবদ্ধতা বা তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু তাঁর দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার প্রতি দায়বদ্ধতা প্রশ্নাতীত। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি বীর হওয়ার কারণ তিনি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে বাংলার মাটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বর্তমান বাংলাদেশেরও শাসক ছিলেন, তাই তাঁর ভাগ্য এই ভূখণ্ডের মানুষের ভাগ্যের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।
পলাশীর পরাজয় আমাদের শিখিয়েছে যে, অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র কীভাবে একটি স্বাধীন জাতিকে ২০০ বছরের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করতে পারে।

নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা রক্ষা এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম বড় প্রতিরোধের মহাকাব্য। বর্তমান বাংলাদেশের সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলার সম্পর্ক অতি গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা শুধু মুর্শিদাবাদকেন্দ্রিক কোনো আঞ্চলিক শাসক ছিলেন না। তিনি ছিলেন সমগ্র বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার অধিপতি। তাঁর শাসনাধীন বাংলা সুবাহর একটি বিশাল অংশ ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ড। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, যশোর ও সোনারগাঁর মতো জনপদগুলো তখন নবাবি প্রশাসনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো। বিশেষ করে ঢাকা ছিল নবাবি প্রশাসনের অন্যতম ভিত্তি এবং পূর্ব বাংলার কৃষিজাত পণ্য ও মসলিন শিল্পের রাজস্ব মুর্শিদাবাদের কোষাগারকে সমৃদ্ধ করত।
এসব কারণে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে সিরাজউদ্দৌলার যে পরাজয় ঘটেছিল, তা শুধু মুর্শিদাবাদের মসনদের পতন ছিল না। এটি ছিল আজকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতেরও এক চরম বিপর্যয়।
পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল বর্তমান বাংলাদেশের জনজীবনে যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল, তা ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হয়ে আছে। সিরাজের পতনের পর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন বাংলার ক্ষমতা দখল করে, তখন থেকেই পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষের ওপর নেমে আসে চরম অর্থনৈতিক শোষণ।
১৭৬৫ সালে কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করার পর রাজস্ব আদায়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব পেয়ে যায়। আর এই কর্তৃত্ব এমনভাবে শোষণের হাতিয়ারে পরিণত করে ইংরেজরা, তাতে বাংলার কৃষক, তাঁতি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এবং নীল চাষের মতো নিপীড়নমূলক ব্যবস্থাগুলো এই ভূখণ্ডের কৃষি অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।
ভারতীয় ইতিহাসবিদ আর সি দত্ত তাঁর দ্য ইকোনমিক হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া বইয়ে বলেছেন, দেওয়ানি লাভের পর কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য ছিল সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়, ফলে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ে এবং বাংলার সম্পদ ইংল্যান্ডে স্থানান্তরিত হতে থাকে।
আরেক ইতিহাসবিদ রণজিৎ গুহ তাঁর আ রুল অব প্রপার্টি ফর বেঙ্গল বইয়ে বলছেন, কোম্পানি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে জমির ওপর নতুন ধরনের মালিকানা কাঠামো তৈরি করে, যার ফলে কৃষকদের ঐতিহ্যগত অধিকার দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জমিদার-নির্ভর শোষণ তীব্র হয়।
বলার অপেক্ষা রাখে না, সিরাজের পতনের মাধ্যমেই আধুনিক বাংলাদেশের শোষিত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল। এই কারণেই বাংলাদেশের মানুষের কাছে সিরাজউদ্দৌলা কোনো বিজাতীয় শাসক নন। তিনি নিজের ঘরের একজন অভিভাবক হিসেবে গণ্য হন, যাঁর বিদায়ের পর পুরো পরিবার ব্রিটিশ অপশাসনের শিকলে বন্দি হয়েছিল।
বাঙালি কেন সিরাজউদ্দৌলাকে বীর হিসেবে শ্রদ্ধা করে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে সিরাজের আপসহীন জাতীয়তাবাদী সত্তার ভেতরে। সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। তাঁর পরবর্তী শাসকেরা ছিলেন নামমাত্র নবাব বা ব্রিটিশদের পুতুল। সিরাজই ছিলেন সেই নির্ভীক তরুণ, যিনি অত্যন্ত অল্প বয়সে ব্রিটিশদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণে বাধা দেওয়া এবং তাদের উদ্ধত আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তিনি বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নন। তাঁর এই চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে তাঁর অবাধ্য অবস্থানই তাঁকে বাঙালি জাতির চোখে এক চিরকালীন বীরের মর্যাদা দিয়েছে।

সিরাজউদ্দৌলার বীরত্ব এবং ট্র্যাজেডিকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে বাঙালির বিশ্বাসঘাতকতার সংজ্ঞা। পলাশীর যুদ্ধে নবাবের নিজের সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা বাংলার ইতিহাসে এক কালো দাগ হয়ে আছে। যুদ্ধের ময়দানে বিশাল সৈন্যবাহিনী থাকা সত্ত্বেও সেনাপতিদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ষড়যন্ত্রের কারণে সিরাজের পরাজয় ঘটেছিল। এই বিশ্বাসঘাতকতার গল্প বাঙালির লোকগাথায় এবং ইতিহাসের বয়ানে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে, ‘মীর জাফর’ শব্দটি আজও বাংলা ভাষায় বিশ্বাসঘাতকের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে সিরাজউদ্দৌলা হয়ে ওঠেন ষড়যন্ত্র ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নিঃসঙ্গ লড়াইয়ের প্রতীক। সমসাময়িক কিছু ইংরেজ ইতিহাসবিদ সিরাজকে উদ্ধত বা অদূরদর্শী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করলেও, বাঙালি জনমানসে তিনি এক ‘ট্র্যাজিক হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে যখন ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে, তখন সিরাজউদ্দৌলা হয়ে ওঠেন বিপ্লবীদের অনুপ্রেরণার উৎস। মীর মোশাররফ হোসেনের ‘জমিদার দর্পণ’ থেকে শুরু করে সিকান্দার আবু জাফরের নাটক পর্যন্ত সিরাজকে জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন দেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর বাঙালিরা সিরাজের পতনকে স্বাধীনতা হারানোর মূল মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করত। সাহিত্যের এই বিশাল সম্ভার সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রকে সাধারণ মানুষের আবেগের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশেও পলাশী দিবস পালনের মাধ্যমে সিরাজের দেশপ্রেম এবং ব্রিটিশবিরোধী অবস্থানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।
সিরাজউদ্দৌলার সীমাবদ্ধতা বা তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু তাঁর দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার প্রতি দায়বদ্ধতা প্রশ্নাতীত। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি বীর হওয়ার কারণ তিনি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে বাংলার মাটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বর্তমান বাংলাদেশেরও শাসক ছিলেন, তাই তাঁর ভাগ্য এই ভূখণ্ডের মানুষের ভাগ্যের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।
পলাশীর পরাজয় আমাদের শিখিয়েছে যে, অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র কীভাবে একটি স্বাধীন জাতিকে ২০০ বছরের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করতে পারে।
.png)

হোমারের লেখা মহাকাব্য ‘ওডিসি’র প্রধান চরিত্র ওডিসিউস বাড়ি ফেরার পর তার বিশ্বস্ত কুকুর আর্গোস তাকে চিনতে পারে। তাদের পুনর্মিলনের এই আবেগঘন দৃশ্যটি বর্ণনা করতে হোমার ব্যবহার করেছেন মাত্র প্রায় ৪০টি লাইন। অথচ এটি পুরো মহাকাব্যের অন্যতম আবেগঘন ঘটনা। মহাকাব্যের এই দৃশ্যটি পর্দায় নতুন করে তুলে ধরেছেন
৯ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত বন্য প্রাণীগুলোর একটি সিংহ। ছোটবেলা থেকেই গল্প, সিনেমা আর ছবিতে আমরা তাকে দেখে এসেছি বনের রাজা হিসেবে। তার গর্জন, কেশর আর রাজকীয় উপস্থিতি যেন আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। ‘বনের রাজা’কে বিশ্ব সিংহ দিবসের পরের দিন একটু অন্যভাবে চেনা যাক।
১০ ঘণ্টা আগে
শিল্পপ্রেমীদের কাছে ‘চিত্রার লাল মিয়া’ নামে পরিচিত বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মদিন আজ (১০ আগস্ট)। তাঁর তুলিতে সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও জীবনগাথা উঠে এসেছিল এক অনন্য উচ্চতায়। সেই শিল্পকর্মগুলো কোথায়, কেমন আছে এখন?
১০ আগস্ট ২০২৬
অলসতার জন্যও যে একটা দিন থাকতে পারে, তা শুনে হয়তো অবাক লাগছে! সারাদিন কাজের চাপ, ব্যস্ততা আর ‘প্রোডাক্টিভ’ থাকার দৌড়ে আমরা বিশ্রাম নেওয়াকেও অনেক সময় অপরাধ মনে করি। কিন্তু সত্যিই কি সব অলসতা খারাপ? বরং কিছু অভ্যাস, যেগুলোকে আমরা অলসতা ভাবি, সেগুলোই হতে পারে বুদ্ধিমত্তার ইঙ্গিত।
১০ আগস্ট ২০২৬