আজ ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। ১৯৪৮ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। ১৯৫০ সালে এই দিনটিকে জাতিসংঘ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিনটি পালিত হচ্ছে।
স্ট্রিম ডেস্ক

ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজায় বেড়ে ওঠা শিশুদের দিকে তাকালে কি মনে হয় তার কোনো 'অধিকার' অবশিষ্ট আছে? কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যার স্বজন হারিয়েছে, সে কি মানবাধিকারে আর বিশ্বাস করে? আফ্রিকার দেশ সুদানের লাখো মানুষ আজ বাস্তুচ্যুত, খাদ্যাভাব আর গৃহযুদ্ধের আগুনে পুড়ছে একটি আস্ত জনপদ। সেখানেই বা মানবাধিকার কোথায়?
অথচ প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার হলো মাথা উঁচু করে নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচার। তাঁর গায়ের রং যা-ই হোক, ধর্ম বা ভাষা যা-ই হোক, মানুষ হিসেবে মৌলিক অধিকার রয়েছে যা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। এই সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর পালিত হয় ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’।
মানবাধিকার দিবস মূলতএকটি 'রিমাইন্ডার' বা সতর্কবার্তা, যা আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়, মানুষের মর্যাদা রক্ষায় আমরা কতটা পিছিয়ে আছি এবং আমাদের আরও কতটা পথ পাড়ি দিতে হবে।
খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় বলতে গেলে, মানবাধিকার হলো সেই সব সুযোগ-সুবিধা ও স্বাধীনতা, যা একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। এটি কোনো রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার বা সংস্থার দেওয়া ত্রাণসামগ্রী নয়। একজন মানুষ হিসেবে মাতৃগর্ভ থেকে পৃথিবীতে পদার্পণের মুহূর্তেই আপনি এই অধিকারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্জন করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তর বলছে, ‘মানবাধিকার হলো আমাদের সেই সব সহজাত অধিকার, যা আমাদের জাতীয়তা, বসবাসের স্থান, লিঙ্গ, জাতিসত্তা, গায়ের রঙ, ধর্ম বা ভাষা নির্বিশেষে সবার জন্য সমান।’

অর্থাৎ, একজন রাষ্ট্রপতির জীবনের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার ঠিক যতটুকু, একজন রিকশাচালকেরও ঠিক ততটুকু অধিকারই প্রাপ্য।
মানবাধিকারের ধারণা মানব সভ্যতার মতোই প্রাচীন। কিন্তু আজকের এই ‘সর্বজনীন মানবাধিকার’-এর ধারণাটি এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পর।
১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল। এই ছয় বছরে পৃথিবী দেখেছিল ধ্বংসলীলার চূড়ান্ত রূপ। প্রায় ছয় কোটি মানুষ প্রাণ হারায়। নাৎসি বাহিনীর চালানো নারকীয় গণহত্যা (হলোকাস্ট), জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞ এবং যুদ্ধবন্দিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দেয়।
আন্তর্জাতিক নেতারা অনুধাবন করলেন, কেবল শান্তিচুক্তি করে ‘যুদ্ধ’ নামের এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। তাই স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজন প্রতিটি মানুষের মর্যাদাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া। এই লক্ষ্যেই ১৯৪৫ সালে জন্ম নিল জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পরপরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে, মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য কি একটি বৈশ্বিক দলিল থাকা উচিত? এই দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ফার্স্ট লেডি এলিনর রুজভেল্ট। তিনি ছিলেন এই ঘোষণাপত্রের মুখ্য রূপকার। তবে এই দলিলের পেছনে এমন কিছু মানুষের অবদান আছে যা আমরা অনেকেই জানি না।
যেমন এই দলিলের মূল খসড়ায় শুরুতে লেখা ছিল, ‘অল ম্যান আর বর্ন ফ্রি অ্যান্ড একুয়াল।’ ভারতের প্রতিনিধি ও সমাজকর্মী হংস মেহতাল এটার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন, ‘ম্যান’ শব্দটি নারীদের অধিকারকে খাটো করতে পারে। তাঁর জেদেই শেষ পর্যন্ত বাক্যটি পরিবর্তন করে লেখা হয় ' অল হিউম্যান বিং আর বর্ন ফ্রি অ্যান্ড একুয়াল।'
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর। ফ্রান্সের প্যারিসে তখন গভীর রাত। ‘প্যালে ডি শাইলো’-তে বসেছে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত তখনও দগদগে; যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের রাস্তায় এখনও ধোঁয়া ওঠে, শহরগুলো তখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এমন প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ পথ ঠিক করতে সেই রাতে সিদ্ধান্ত নিতে বসেছিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। সেদিন ৪৮টি দেশের সমর্থনে গৃহীত হলো মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র।
তবে এই দলিলটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়নি। সেই রাতে ৪৮টি দেশ পক্ষে ভোট দিলেও ৮টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। তারা সরাসরি বিরোধিতা করেনি, কিন্তু সমর্থনও দেয়নি। এ নীরবতা ছিল রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও শীতল যুদ্ধের টানাপোড়েনের প্রতিফলন।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজায় বেড়ে ওঠা শিশুদের দিকে তাকালে কি মনে হয় তার কোনো 'অধিকার' অবশিষ্ট আছে? কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যার স্বজন হারিয়েছে, সে কি মানবাধিকারে আর বিশ্বাস করে? আফ্রিকার দেশ সুদানের লাখো মানুষ আজ বাস্তুচ্যুত, খাদ্যাভাব আর গৃহযুদ্ধের আগুনে পুড়ছে একটি আস্ত জনপদ। সেখানেই বা মানবাধিকার কোথায়?
অথচ প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার হলো মাথা উঁচু করে নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচার। তাঁর গায়ের রং যা-ই হোক, ধর্ম বা ভাষা যা-ই হোক, মানুষ হিসেবে মৌলিক অধিকার রয়েছে যা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। এই সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর পালিত হয় ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’।
মানবাধিকার দিবস মূলতএকটি 'রিমাইন্ডার' বা সতর্কবার্তা, যা আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়, মানুষের মর্যাদা রক্ষায় আমরা কতটা পিছিয়ে আছি এবং আমাদের আরও কতটা পথ পাড়ি দিতে হবে।
খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় বলতে গেলে, মানবাধিকার হলো সেই সব সুযোগ-সুবিধা ও স্বাধীনতা, যা একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। এটি কোনো রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার বা সংস্থার দেওয়া ত্রাণসামগ্রী নয়। একজন মানুষ হিসেবে মাতৃগর্ভ থেকে পৃথিবীতে পদার্পণের মুহূর্তেই আপনি এই অধিকারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্জন করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তর বলছে, ‘মানবাধিকার হলো আমাদের সেই সব সহজাত অধিকার, যা আমাদের জাতীয়তা, বসবাসের স্থান, লিঙ্গ, জাতিসত্তা, গায়ের রঙ, ধর্ম বা ভাষা নির্বিশেষে সবার জন্য সমান।’

অর্থাৎ, একজন রাষ্ট্রপতির জীবনের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার ঠিক যতটুকু, একজন রিকশাচালকেরও ঠিক ততটুকু অধিকারই প্রাপ্য।
মানবাধিকারের ধারণা মানব সভ্যতার মতোই প্রাচীন। কিন্তু আজকের এই ‘সর্বজনীন মানবাধিকার’-এর ধারণাটি এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পর।
১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল। এই ছয় বছরে পৃথিবী দেখেছিল ধ্বংসলীলার চূড়ান্ত রূপ। প্রায় ছয় কোটি মানুষ প্রাণ হারায়। নাৎসি বাহিনীর চালানো নারকীয় গণহত্যা (হলোকাস্ট), জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞ এবং যুদ্ধবন্দিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দেয়।
আন্তর্জাতিক নেতারা অনুধাবন করলেন, কেবল শান্তিচুক্তি করে ‘যুদ্ধ’ নামের এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। তাই স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজন প্রতিটি মানুষের মর্যাদাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া। এই লক্ষ্যেই ১৯৪৫ সালে জন্ম নিল জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পরপরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে, মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য কি একটি বৈশ্বিক দলিল থাকা উচিত? এই দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ফার্স্ট লেডি এলিনর রুজভেল্ট। তিনি ছিলেন এই ঘোষণাপত্রের মুখ্য রূপকার। তবে এই দলিলের পেছনে এমন কিছু মানুষের অবদান আছে যা আমরা অনেকেই জানি না।
যেমন এই দলিলের মূল খসড়ায় শুরুতে লেখা ছিল, ‘অল ম্যান আর বর্ন ফ্রি অ্যান্ড একুয়াল।’ ভারতের প্রতিনিধি ও সমাজকর্মী হংস মেহতাল এটার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন, ‘ম্যান’ শব্দটি নারীদের অধিকারকে খাটো করতে পারে। তাঁর জেদেই শেষ পর্যন্ত বাক্যটি পরিবর্তন করে লেখা হয় ' অল হিউম্যান বিং আর বর্ন ফ্রি অ্যান্ড একুয়াল।'
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর। ফ্রান্সের প্যারিসে তখন গভীর রাত। ‘প্যালে ডি শাইলো’-তে বসেছে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত তখনও দগদগে; যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের রাস্তায় এখনও ধোঁয়া ওঠে, শহরগুলো তখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এমন প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ পথ ঠিক করতে সেই রাতে সিদ্ধান্ত নিতে বসেছিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। সেদিন ৪৮টি দেশের সমর্থনে গৃহীত হলো মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র।
তবে এই দলিলটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়নি। সেই রাতে ৪৮টি দেশ পক্ষে ভোট দিলেও ৮টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। তারা সরাসরি বিরোধিতা করেনি, কিন্তু সমর্থনও দেয়নি। এ নীরবতা ছিল রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও শীতল যুদ্ধের টানাপোড়েনের প্রতিফলন।
.png)
চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। প্রতিটি সংগ্রহশালায় ক্যানভাস থেকে ক্যানভাসে তিনি খুঁজেছেন শিল্পের ভাষা; রঙ, আলো আর তুলির আঁচড়ে অনুভব করেছেন শিল্পীদের জীবন, সময় ও সৃষ্টির গল্প। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক ‘আর্ট মিউজ
১ ঘণ্টা আগে
ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
১ দিন আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
১ দিন আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
২৫ জুলাই ২০২৬