আন্তর্জাতিক সার্ফিং দিবস
দেশের প্রথম আইএসএ স্বীকৃত সার্ফিং কোচ ও আন্তর্জাতিক লাইফসেভিং রেফারি সাইফুল্লাহ সিফাত। গত এক যুগে তাঁর হাত ধরে সার্ফিং শিখেছেন দেশ-বিদেশের ২০০-এর বেশি তরুণ-তরুণী।
ফাবিহা বিনতে হক

কক্সবাজারের কলাতলী বিচের ঠিক পাশেই বেড়ে উঠেছেন সাইফুল্লাহ সিফাত। ছোটবেলা থেকে তাঁর সঙ্গী ছিল নোনা জল আর বালুকাময় সৈকত। বালুর ওপর বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট-ফুটবল খেলা কিংবা সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মিতালিতেই কেটেছে শৈশব।
ছোটবেলার সমুদ্র-প্রেমই সিফাতকে টেনে নিয়ে যায় সার্ফিংয়ের দুনিয়ায়। বাংলাদেশের প্রথম সার্ফার জাফর আলমের কাছে হাতেখড়ি। তবে শুধু সার্ফিং-ই নয়, ২০০৫ সাল থেকে বিচের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কাজ করছেন তিনি।
শুরুর দিকে সাঁতারে শুরুতে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও সিফাতের সাহস ছিল আকাশচুম্বী। সেই প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি বারবার ঝাঁপ দিয়েছেন সাগরের বুকে। ২০১০-১১ সালের দিকে লাইফ গার্ডিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে তোলেন। এভাবেই শুরু সিফাতের। এরপর গত এক যুগে সার্ফিং তাঁর হাত ধরে সার্ফিং শিখেছেন দেশ-বিদেশের ২০০-এর বেশি তরুণ-তরুণী।
সাইফুল্লাহ সিফাতের কাছে সার্ফিং কখনোই কেবল জীবিকার মাধ্যম ছিল না, ছিল অদম্য নেশার। আর এই নেশা থেকেই তিনি বাংলাদেশের সার্ফিংকে নিয়ে গেছেন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে।
২০২০ সালে সিফাত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএ) থেকে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রথম স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সার্ফিং কোচ। এরপর ২০২১ সালে আইএসএ সাইফুল্লাহকে সার্ফিং প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে মনোনীত করে।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোর প্রতিটিতেই বিচারকের দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন সাইফুল্লাহ সিফাত। সর্বশেষ গত ৩ ও ৪ এপ্রিল সপ্তম জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতায় সাইফুল্লাহ সিফাত প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালে সাইফুল্লাহ সিফাতের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সার্ফিং টিম মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত এশিয়ান সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়। এই পথটাও সহজ ছিল না। ২০২২ সালে যখন ইতালিতে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে বিচারক হিসেবে যান, তখন এশিয়ান সার্ফিং ফেডারেশনের সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতা করার জন্য যোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে হলে বিভিন্ন দেশের ভোট লাগে। ইতালি থেকে ফিরে সিফাত ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং শুরু করে ভোট সংগ্রহ করেন। ২০২৩ সালের শেষে এসে বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনকে ‘আন্তর্জাতিক সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন’-এ অন্তর্ভুক্ত করেন। এর ফলেই ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সার্ফিং টিম এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়।
এসব অর্জন নিয়ে সাইফুল্লাহ সিফাত স্ট্রিমকে বলেন, ‘সার্ফিং-এ আমার ব্যক্তিগত কোনো অবদান নেই। দলগত সহায়তায় আমরা সার্ফিং-কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছি। ব্যক্তিগত অর্জন বলতে সার্ফিং শেখার প্ল্যাটফর্ম সবার জন্য সহজ করেছি এটুকুই।’
তবে সাইফুল্লাহর কাছে সার্ফিং কোনোদিন নেশা থেকে ‘পেশা’ হয়ে ওঠেনি। তাঁর ভাষায়, ‘সার্ফিং এখনো আমার কাছে নেশাই, এখান থেকে কোনো আয় নেই। আমি এখনও এই কাজে ইনভেস্ট করছি যাতে দেশের মানুষ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল হতে পারে।’
আজকের তরুণ প্রজন্ম যখন চার দেয়ালে স্মার্টফোনে বন্দি, সাইফুল্লাহ তাঁদের ডাকছেন সাগরের বিশালতায়। তিনি বলেন, ‘সার্ফিংয়ে যখন কেউ নামে, তখন ডিভাইস দূরে রেখে পুরোপুরি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে হয়। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সার্ফিং খুবই উপকারী।’ এই চিন্তা থেকেই থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন ‘সার্ফ লাইফ সেভিং বাংলাদেশ’।
সৈকতের আশেপাশের ছেলেদের নিয়ে শুরু হয় প্র্যাকটিস। তাঁর একাডেমিতে সার্ফিং-এর পাশাপাশি আরও যুক্ত করেছেন ‘ওয়াটার সেফটি স্কিল’ বা লাইফ সেভিং গেম। সিফাত নিজে লাইফসেভিং স্পোর্টসের আন্তর্জাতিক বিচারক হিসেবে ইতালি ও অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করেছেন। তিনি চান, তাঁর ছাত্ররা যেন শুধু সার্ফার না হয়ে একেকজন উদ্ধারকর্মী হিসেবেও গড়ে ওঠে, যেন নিজেরাও নিরাপদ থাকে এবং অন্যকেও বাঁচাতে পারে।
বর্তমানে সাইফুল্লাহ সিফাতের একাডেমিতে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী সার্ফিং শেখে। ইকুইপমেন্ট বা সার্ফিং বোর্ডের সীমাবদ্ধতা থাকায় তিনি ৫ থেকে ১০ জনের ছোট ছোট গ্রুপ করে শেখান। সিফাত এ পর্যন্ত দেশ-বিদেশের ২০০-এর বেশি মানুষকে সার্ফিং শিখিয়েছেন।
সাইফুল্লাহ সিফাতের আক্ষেপ করে বলেন, ‘একটি ভালো মানের সার্ফিং বোর্ডের দাম প্রায় এক হাজার ডলার। বাংলাদেশে এগুলো পাওয়া যায় না। ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়ে বিদেশ থেকে আনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ ছাড়া সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বা আধুনিক ইকুইপমেন্টের অভাব তো রয়েছেই।’

তবে সিফাতকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় অন্য একটি জায়গা। মাঝে মাঝেই এমন হয়, সম্ভাবনাময় একজন ছাত্র অভাবের তাড়নায় বা কোনো কিশোর গ্যাংয়ের প্রলোভনে পড়ে সার্ফিং ছেড়ে দিচ্ছে। সিফাত বলেন, ‘ওরা ভালো সার্ফার ছিল, কিন্তু ভালো মানুষ হওয়ার আগেই ছিটকে পড়ে। কারণ আমরা ওদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারিনি।’
সিফাত নিজে যা বেতন পান, তার অনেকটা অংশই দেন একাডেমির পেছনে। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সার্ফিং বোর্ড কেনেন, ছাত্রদের সরঞ্জাম জোগান। অনেক সময় এই ব্যক্তিগত পাগলামির জন্য তাঁকে পরিবারের টানাপোড়েন আর কাছের মানুষের অনুযোগও শুনতে হয়।
অনেকের মনেই একটা ভয় কাজ করে, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে সার্ফিং করা মানেই বুঝি বড় কোনো বিপদ। এ নিয়ে সাইফুল্লাহ সিফাত বলছেন, ‘বাংলাদেশে সার্ফিং ভয়ের কিছু না। আমাদের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতটি পুরোপুরি বালুর সৈকত। এখানে কোনো হাঙর বা শার্ক নেই, সাগরে কোনো প্রবাল-পাথর নেই। তাই আহত হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। মালদ্বীপের মতো আমাদের সাগরে কোনো পোকাও নেই, তাই মোটা ওয়েট স্যুট বা জুতো পরতেও হয় না।’
সিফাতের মতে, কক্সবাজারে সমুদ্রের ঢেউ নতুনদের সাফিং শেখার জন্য খুবই উপযোগী। প্রথমে নতুনদের কোমর থেকে বুক পানি পর্যন্ত গভীরতায় প্রথম লেয়ারের ঢেউয়ে সার্ফিং শেখান, যেখানে ডুবে যাওয়ার কোনো চান্স থাকে না। আর সঙ্গে সবসময় ট্রেইনার থাকেন। সাইফুল্লাহ বলেন, ‘এই সাগরে অনেকে সার্ফিং শিখতে এসে উল্টো সাঁতারও শিখে ফেলেছেন।’
এত সম্ভাবনার মাঝেও সিফাতের আক্ষেপ মেয়েদের সার্ফিং নিয়ে। তিনি স্বপ্ন দেখেন মেয়েদের জন্য সার্ফিং শেখার নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে তাঁদের আরও বেশি করে নিয়ে আসার। বিকেএসপির সঙ্গে সার্ফিংকে যুক্ত করার স্বপ্নও দেখেন তিনি, যাতে এই জলক্রীড়াকে ক্যারিয়ার হিসেবে তরুণরা বেছে নিতে পারে।

কক্সবাজারের কলাতলী বিচের ঠিক পাশেই বেড়ে উঠেছেন সাইফুল্লাহ সিফাত। ছোটবেলা থেকে তাঁর সঙ্গী ছিল নোনা জল আর বালুকাময় সৈকত। বালুর ওপর বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট-ফুটবল খেলা কিংবা সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মিতালিতেই কেটেছে শৈশব।
ছোটবেলার সমুদ্র-প্রেমই সিফাতকে টেনে নিয়ে যায় সার্ফিংয়ের দুনিয়ায়। বাংলাদেশের প্রথম সার্ফার জাফর আলমের কাছে হাতেখড়ি। তবে শুধু সার্ফিং-ই নয়, ২০০৫ সাল থেকে বিচের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কাজ করছেন তিনি।
শুরুর দিকে সাঁতারে শুরুতে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও সিফাতের সাহস ছিল আকাশচুম্বী। সেই প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি বারবার ঝাঁপ দিয়েছেন সাগরের বুকে। ২০১০-১১ সালের দিকে লাইফ গার্ডিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে তোলেন। এভাবেই শুরু সিফাতের। এরপর গত এক যুগে সার্ফিং তাঁর হাত ধরে সার্ফিং শিখেছেন দেশ-বিদেশের ২০০-এর বেশি তরুণ-তরুণী।
সাইফুল্লাহ সিফাতের কাছে সার্ফিং কখনোই কেবল জীবিকার মাধ্যম ছিল না, ছিল অদম্য নেশার। আর এই নেশা থেকেই তিনি বাংলাদেশের সার্ফিংকে নিয়ে গেছেন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে।
২০২০ সালে সিফাত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএ) থেকে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রথম স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সার্ফিং কোচ। এরপর ২০২১ সালে আইএসএ সাইফুল্লাহকে সার্ফিং প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে মনোনীত করে।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোর প্রতিটিতেই বিচারকের দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন সাইফুল্লাহ সিফাত। সর্বশেষ গত ৩ ও ৪ এপ্রিল সপ্তম জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতায় সাইফুল্লাহ সিফাত প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালে সাইফুল্লাহ সিফাতের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সার্ফিং টিম মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত এশিয়ান সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়। এই পথটাও সহজ ছিল না। ২০২২ সালে যখন ইতালিতে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে বিচারক হিসেবে যান, তখন এশিয়ান সার্ফিং ফেডারেশনের সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতা করার জন্য যোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে হলে বিভিন্ন দেশের ভোট লাগে। ইতালি থেকে ফিরে সিফাত ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং শুরু করে ভোট সংগ্রহ করেন। ২০২৩ সালের শেষে এসে বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনকে ‘আন্তর্জাতিক সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন’-এ অন্তর্ভুক্ত করেন। এর ফলেই ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সার্ফিং টিম এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়।
এসব অর্জন নিয়ে সাইফুল্লাহ সিফাত স্ট্রিমকে বলেন, ‘সার্ফিং-এ আমার ব্যক্তিগত কোনো অবদান নেই। দলগত সহায়তায় আমরা সার্ফিং-কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছি। ব্যক্তিগত অর্জন বলতে সার্ফিং শেখার প্ল্যাটফর্ম সবার জন্য সহজ করেছি এটুকুই।’
তবে সাইফুল্লাহর কাছে সার্ফিং কোনোদিন নেশা থেকে ‘পেশা’ হয়ে ওঠেনি। তাঁর ভাষায়, ‘সার্ফিং এখনো আমার কাছে নেশাই, এখান থেকে কোনো আয় নেই। আমি এখনও এই কাজে ইনভেস্ট করছি যাতে দেশের মানুষ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল হতে পারে।’
আজকের তরুণ প্রজন্ম যখন চার দেয়ালে স্মার্টফোনে বন্দি, সাইফুল্লাহ তাঁদের ডাকছেন সাগরের বিশালতায়। তিনি বলেন, ‘সার্ফিংয়ে যখন কেউ নামে, তখন ডিভাইস দূরে রেখে পুরোপুরি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে হয়। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সার্ফিং খুবই উপকারী।’ এই চিন্তা থেকেই থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন ‘সার্ফ লাইফ সেভিং বাংলাদেশ’।
সৈকতের আশেপাশের ছেলেদের নিয়ে শুরু হয় প্র্যাকটিস। তাঁর একাডেমিতে সার্ফিং-এর পাশাপাশি আরও যুক্ত করেছেন ‘ওয়াটার সেফটি স্কিল’ বা লাইফ সেভিং গেম। সিফাত নিজে লাইফসেভিং স্পোর্টসের আন্তর্জাতিক বিচারক হিসেবে ইতালি ও অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করেছেন। তিনি চান, তাঁর ছাত্ররা যেন শুধু সার্ফার না হয়ে একেকজন উদ্ধারকর্মী হিসেবেও গড়ে ওঠে, যেন নিজেরাও নিরাপদ থাকে এবং অন্যকেও বাঁচাতে পারে।
বর্তমানে সাইফুল্লাহ সিফাতের একাডেমিতে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী সার্ফিং শেখে। ইকুইপমেন্ট বা সার্ফিং বোর্ডের সীমাবদ্ধতা থাকায় তিনি ৫ থেকে ১০ জনের ছোট ছোট গ্রুপ করে শেখান। সিফাত এ পর্যন্ত দেশ-বিদেশের ২০০-এর বেশি মানুষকে সার্ফিং শিখিয়েছেন।
সাইফুল্লাহ সিফাতের আক্ষেপ করে বলেন, ‘একটি ভালো মানের সার্ফিং বোর্ডের দাম প্রায় এক হাজার ডলার। বাংলাদেশে এগুলো পাওয়া যায় না। ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়ে বিদেশ থেকে আনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ ছাড়া সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বা আধুনিক ইকুইপমেন্টের অভাব তো রয়েছেই।’

তবে সিফাতকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় অন্য একটি জায়গা। মাঝে মাঝেই এমন হয়, সম্ভাবনাময় একজন ছাত্র অভাবের তাড়নায় বা কোনো কিশোর গ্যাংয়ের প্রলোভনে পড়ে সার্ফিং ছেড়ে দিচ্ছে। সিফাত বলেন, ‘ওরা ভালো সার্ফার ছিল, কিন্তু ভালো মানুষ হওয়ার আগেই ছিটকে পড়ে। কারণ আমরা ওদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারিনি।’
সিফাত নিজে যা বেতন পান, তার অনেকটা অংশই দেন একাডেমির পেছনে। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সার্ফিং বোর্ড কেনেন, ছাত্রদের সরঞ্জাম জোগান। অনেক সময় এই ব্যক্তিগত পাগলামির জন্য তাঁকে পরিবারের টানাপোড়েন আর কাছের মানুষের অনুযোগও শুনতে হয়।
অনেকের মনেই একটা ভয় কাজ করে, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে সার্ফিং করা মানেই বুঝি বড় কোনো বিপদ। এ নিয়ে সাইফুল্লাহ সিফাত বলছেন, ‘বাংলাদেশে সার্ফিং ভয়ের কিছু না। আমাদের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতটি পুরোপুরি বালুর সৈকত। এখানে কোনো হাঙর বা শার্ক নেই, সাগরে কোনো প্রবাল-পাথর নেই। তাই আহত হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। মালদ্বীপের মতো আমাদের সাগরে কোনো পোকাও নেই, তাই মোটা ওয়েট স্যুট বা জুতো পরতেও হয় না।’
সিফাতের মতে, কক্সবাজারে সমুদ্রের ঢেউ নতুনদের সাফিং শেখার জন্য খুবই উপযোগী। প্রথমে নতুনদের কোমর থেকে বুক পানি পর্যন্ত গভীরতায় প্রথম লেয়ারের ঢেউয়ে সার্ফিং শেখান, যেখানে ডুবে যাওয়ার কোনো চান্স থাকে না। আর সঙ্গে সবসময় ট্রেইনার থাকেন। সাইফুল্লাহ বলেন, ‘এই সাগরে অনেকে সার্ফিং শিখতে এসে উল্টো সাঁতারও শিখে ফেলেছেন।’
এত সম্ভাবনার মাঝেও সিফাতের আক্ষেপ মেয়েদের সার্ফিং নিয়ে। তিনি স্বপ্ন দেখেন মেয়েদের জন্য সার্ফিং শেখার নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে তাঁদের আরও বেশি করে নিয়ে আসার। বিকেএসপির সঙ্গে সার্ফিংকে যুক্ত করার স্বপ্নও দেখেন তিনি, যাতে এই জলক্রীড়াকে ক্যারিয়ার হিসেবে তরুণরা বেছে নিতে পারে।

সাম্প্রতিককালে যখন নারী নির্যাতন, সামাজিক বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সংকট আমাদের উদ্বিগ্ন করে, তখন সুফিয়া কামালের আদর্শ নতুন করে আমাদের সামনে পথনির্দেশক হয়ে ওঠে।
৪ ঘণ্টা আগে
বনে ছাড়ার পর দেখা গেল, প্রতিটি বনরুই তুলনামূলকভাবে ছোট একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা চেনা পরিবেশের ভেতরেই নিজেদের চলাফেরা সীমাবদ্ধ রাখছে। এই তথ্য গবেষকদের বেশ অবাক করেছে। কারণ এর আগের অন্যান্য প্রজাতির গবেষণায় দেখা গেছে, বনের নতুন পরিবেশে ছাড়লে প্রাণীরা অনেক দূরে দূরে ঘুরে বেড়া
১ দিন আগে
মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের রোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক। তিনি ব্রিটিশ শাসনামলের ভারত, পকিস্তান ও বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কিছু প্রশংসিত গ্রন্থের লেখক। এক দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
১ দিন আগে
আজ ১৯ জুন, ‘ওয়ার্ল্ড স্যান্টারিং ডে’ বা ‘বিশ্ব ধীরে হাঁটা দিবস’। ‘স্যান্টারিং’ শব্দের অর্থ হলো কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যের তাড়া না রেখে আয়েশি ভঙ্গিতে উদ্দেশ্যহীনভাবে চারপাশটা দু’চোখ ভরে দেখতে দেখতে হেঁটে বেড়ানো। ১৯৭৯ সালে ডব্লিউ টি র্যাবে মানুষের ব্যস্ততা ও ক্যালোরি পোড়ানোর ফিটনেস-আসক্তির প্রতিবাদে এই
১ দিন আগে