কর্মক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিটক্সের প্রভাব
শিশির রায়

মোবাইল ডাটা অন করার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নোটিফিকেশনের শব্দ। ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার–আরও কত কিছু! যেন ডিজিটাল স্রোতের ঢেউ এসে মিশে কর্মক্ষেত্রের মোহনায়। একদিকে ডেস্কটপে কাজের ডেডলাইন, আর হাতে থাকা স্মার্টফোনে ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা–জীবন যেন একটা ডিজিটাল শিকলে বাঁধা পড়ে আছে! এই দ্বন্দ্বমুখর ডিজিটাল জীবনের টানাপোড়েনের সমস্যায় ‘মুশকিলে আসান’ হলো ‘ডিজিটাল ডিটক্স’।
ডিজিটাল ডিটক্স হলো প্রযুক্তি থেকে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেওয়া। কিন্তু বর্তমান সময়ে কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিটক্স প্রায় অকল্পনীয় ঘটনা। কিন্তু অনেকেই এটিকে প্রয়োজনীয় মনে করছেন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন সবকিছু মিলছে হাতের মুঠোয়। কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের স্বাভাবিক গতি। যখন মানুষের মনোযোগও বেশিক্ষণ স্থির থাকছে না, তখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে ডিজিটাল ডিটক্স।
ডিজিটাল ডিটক্স ধারণার প্রবক্তা ক্যাল নিউপোর্ট এ বিষয়ে দুটি বই লিখেছেন, ‘ডিপ ওয়ার্ক’ ও ‘ডিজিটাল মিনিমালিজম’। তিনি ‘ডিপ ওয়ার্ক’ বইয়ে লিখেছেন, ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর প্রতি মানুষের নির্ভরতা কাজের প্রতি তাঁদের মনোযোগ কমিয়ে দেয়। ডিজিটাল ডিটক্সের মাধ্যমে এই মনোযোগ পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর তাতে দীর্ঘ সময় কাজে মনোযোগ ধরে রাখা যায়।
‘ডিজিটাল মিনিমালিজম’ বইয়ে ক্যাল নিউপোর্ট প্রযুক্তিকে সরাসরি বর্জন না করে সচেতনভাবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিটি ডিজিটাল টুল ব্যবহারের পেছনে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
সমাজবিজ্ঞানী ‘শেরি টার্কল’ তাঁর ‘অ্যালোন টুগেদার ’ বইয়ে বলেছেন, ডিজিটাল সংযোগ মানুষকে মানবিক সংযোগ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। ডিজিটাল ডিটক্সের মাধ্যমে এই সংযোগ পুনর্গঠন করা সম্ভব। যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অপরিহার্য।
যখন একজন কর্মী একটা নির্দিষ্ট কাজে ব্যস্ত থাকেন, ওই সময় যদি ফোনে বারবার কল কিংবা মেসেজ আসে, তাহলে তাঁর মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। কিন্তু তিনি যদি ফোন সাইলেন্ট করে রাখেন বা মোবাইল ডাটা বন্ধ রাখেন–তাহলে তাঁর মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে না।
কর্মক্ষেত্রে যখন কেউ সব সময় অনলাইনে থাকেন, তখন তাঁর মানসিক উদ্বেগ ও অবসাদ–দুই-ই বাড়তে পারে। গবেষকেরা বলেন, ডিজিটাল ডিটক্স মানুষের মস্তিষ্ককে ক্লান্তি থেকে মুক্তি দেয়। মস্তিষ্ককে দেয় বিশ্রাম।
তাছাড়া সব রকম প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে দূরে থাকলে মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়ে।
সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল ডিটক্সের ভূমিকা আছে। সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপের সময় প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকলে দারুণ জমে ওঠে আড্ডা। পারস্পারিক বোঝাপড়া ভালো হয়, ভালো হয় সম্পর্ক।
তবে কর্মক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিটক্সের সুফলের মতো কিছু মন্দ দিকও আছে। কিছু কিছু কাজের ক্ষেত্রে অনেক সময় ডিজিটাল মাধ্যমে সংযুক্ত না থাকলে অনেক কিছু মিস হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও থাকে।
কেননা আধুনিক কর্মপরিবেশ অত্যন্ত গতিশীল। প্রতি মুহূর্তে আপডেট হতে থাকে কাজ। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপডেট, ই-মেইল, অফিশিয়াল কল, মিটিং আপডেট–কত কী। ডিজিটাল ডিটক্সের কারণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মিস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।
কিছু কর্মক্ষেত্র আছে যেমন কাস্টমার সার্ভিস, সেলস, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট–এসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকার সুযোগ নেই। এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিটক্সের উপকারের থেকে ক্ষতিই বেশি হয়।
রিংকু ইসলাম নামে একজন অনলাইন সংবাদকর্মী বলেন, ‘আমার সব সময় ডেস্কে বসে কাজ করতে হয়। মাঝেমধ্যে মনে হয় ডিজিটাল দুনিয়া ছেড়ে ডুব দিই। আমি এ রকম করেছিলামও। এটা করে একবার খুব বিপদে পড়েছিলাম। নিউজরুমের আপডেট মিস হয় তখন। পরে আমার মনে হলো, ডিজিটাল ডিটক্সের ক্ষেত্রে সময়ের ভারসাম্য থাকাটা জরুরি।’
গবেষকেরা ডিজিটাল ডিটক্স নিয়ে কিছু গঠনমূলক সমালোচনাও করেছেন। যেমন একজন চাকরিজীবী যদি হঠাৎ করে ডিজিটাল দুনিয়া থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন, তাহলে তাঁর মধ্যে ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ অনুভূতি হওয়ার শঙ্কা থাকে। এতে উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বর্জন নয় বরং কাজের সময়ের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে ডিজিটাল ডিটক্স প্রয়োগ করা উচিত।

মোবাইল ডাটা অন করার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নোটিফিকেশনের শব্দ। ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার–আরও কত কিছু! যেন ডিজিটাল স্রোতের ঢেউ এসে মিশে কর্মক্ষেত্রের মোহনায়। একদিকে ডেস্কটপে কাজের ডেডলাইন, আর হাতে থাকা স্মার্টফোনে ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা–জীবন যেন একটা ডিজিটাল শিকলে বাঁধা পড়ে আছে! এই দ্বন্দ্বমুখর ডিজিটাল জীবনের টানাপোড়েনের সমস্যায় ‘মুশকিলে আসান’ হলো ‘ডিজিটাল ডিটক্স’।
ডিজিটাল ডিটক্স হলো প্রযুক্তি থেকে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেওয়া। কিন্তু বর্তমান সময়ে কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিটক্স প্রায় অকল্পনীয় ঘটনা। কিন্তু অনেকেই এটিকে প্রয়োজনীয় মনে করছেন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন সবকিছু মিলছে হাতের মুঠোয়। কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের স্বাভাবিক গতি। যখন মানুষের মনোযোগও বেশিক্ষণ স্থির থাকছে না, তখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে ডিজিটাল ডিটক্স।
ডিজিটাল ডিটক্স ধারণার প্রবক্তা ক্যাল নিউপোর্ট এ বিষয়ে দুটি বই লিখেছেন, ‘ডিপ ওয়ার্ক’ ও ‘ডিজিটাল মিনিমালিজম’। তিনি ‘ডিপ ওয়ার্ক’ বইয়ে লিখেছেন, ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর প্রতি মানুষের নির্ভরতা কাজের প্রতি তাঁদের মনোযোগ কমিয়ে দেয়। ডিজিটাল ডিটক্সের মাধ্যমে এই মনোযোগ পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর তাতে দীর্ঘ সময় কাজে মনোযোগ ধরে রাখা যায়।
‘ডিজিটাল মিনিমালিজম’ বইয়ে ক্যাল নিউপোর্ট প্রযুক্তিকে সরাসরি বর্জন না করে সচেতনভাবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিটি ডিজিটাল টুল ব্যবহারের পেছনে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
সমাজবিজ্ঞানী ‘শেরি টার্কল’ তাঁর ‘অ্যালোন টুগেদার ’ বইয়ে বলেছেন, ডিজিটাল সংযোগ মানুষকে মানবিক সংযোগ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। ডিজিটাল ডিটক্সের মাধ্যমে এই সংযোগ পুনর্গঠন করা সম্ভব। যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অপরিহার্য।
যখন একজন কর্মী একটা নির্দিষ্ট কাজে ব্যস্ত থাকেন, ওই সময় যদি ফোনে বারবার কল কিংবা মেসেজ আসে, তাহলে তাঁর মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। কিন্তু তিনি যদি ফোন সাইলেন্ট করে রাখেন বা মোবাইল ডাটা বন্ধ রাখেন–তাহলে তাঁর মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে না।
কর্মক্ষেত্রে যখন কেউ সব সময় অনলাইনে থাকেন, তখন তাঁর মানসিক উদ্বেগ ও অবসাদ–দুই-ই বাড়তে পারে। গবেষকেরা বলেন, ডিজিটাল ডিটক্স মানুষের মস্তিষ্ককে ক্লান্তি থেকে মুক্তি দেয়। মস্তিষ্ককে দেয় বিশ্রাম।
তাছাড়া সব রকম প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে দূরে থাকলে মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়ে।
সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল ডিটক্সের ভূমিকা আছে। সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপের সময় প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকলে দারুণ জমে ওঠে আড্ডা। পারস্পারিক বোঝাপড়া ভালো হয়, ভালো হয় সম্পর্ক।
তবে কর্মক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিটক্সের সুফলের মতো কিছু মন্দ দিকও আছে। কিছু কিছু কাজের ক্ষেত্রে অনেক সময় ডিজিটাল মাধ্যমে সংযুক্ত না থাকলে অনেক কিছু মিস হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও থাকে।
কেননা আধুনিক কর্মপরিবেশ অত্যন্ত গতিশীল। প্রতি মুহূর্তে আপডেট হতে থাকে কাজ। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপডেট, ই-মেইল, অফিশিয়াল কল, মিটিং আপডেট–কত কী। ডিজিটাল ডিটক্সের কারণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মিস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।
কিছু কর্মক্ষেত্র আছে যেমন কাস্টমার সার্ভিস, সেলস, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট–এসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকার সুযোগ নেই। এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিটক্সের উপকারের থেকে ক্ষতিই বেশি হয়।
রিংকু ইসলাম নামে একজন অনলাইন সংবাদকর্মী বলেন, ‘আমার সব সময় ডেস্কে বসে কাজ করতে হয়। মাঝেমধ্যে মনে হয় ডিজিটাল দুনিয়া ছেড়ে ডুব দিই। আমি এ রকম করেছিলামও। এটা করে একবার খুব বিপদে পড়েছিলাম। নিউজরুমের আপডেট মিস হয় তখন। পরে আমার মনে হলো, ডিজিটাল ডিটক্সের ক্ষেত্রে সময়ের ভারসাম্য থাকাটা জরুরি।’
গবেষকেরা ডিজিটাল ডিটক্স নিয়ে কিছু গঠনমূলক সমালোচনাও করেছেন। যেমন একজন চাকরিজীবী যদি হঠাৎ করে ডিজিটাল দুনিয়া থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন, তাহলে তাঁর মধ্যে ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ অনুভূতি হওয়ার শঙ্কা থাকে। এতে উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বর্জন নয় বরং কাজের সময়ের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে ডিজিটাল ডিটক্স প্রয়োগ করা উচিত।

প্রযুক্তির ইতিহাসে ১৯২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। বর্তমান যুগে আমরা যে টেলিভিশনকে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরে নিয়েছি, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল এই দিনটিতেই। স্কটিশ প্রকৌশলী জন লগি বেয়ার্ড সেদিন প্রথমবারের মতো ‘রিয়েল টেলিভিশন’ বা প্রকৃত টেলিভিশন জনসমক্ষে প্রদর্শন কর
২ ঘণ্টা আগে
দোহারের ইকরাশি গ্রামের শান্তি রানী পাল। বয়স ৯২ বছর। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। চোখের আলো কমে গেছে, গলার স্বরও ভেঙে গেছে; তবু সংসারের চাকাকে সচল রাখতে আদি পেশা হিসেবে কুমারের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
১ দিন আগে
জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগে বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলে বন্যপ্রাণী বাস করত। কোন কোন বন্যপ্রাণী ও পাখি সেখানে ছিল? নদী, জলাভূমি ও পুকুরে কী কী মাছ পাওয়া যেত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত জে এন গুপ্ত-এর পূর্ববঙ্গ ও আসামের ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (বগুড়া) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
১ দিন আগে
আজ ২৫ জানুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন। সাহিত্যিক হিসেবে সাহিত্য-পরিসরে শতবর্ষ পরেও তিনি বেঁচে আছেন সক্রিয়তার ভেতর দিয়েই। এও সত্য যে, তাঁকে নিয়ে তাঁর কালেই তো বেশ জোরজারের সাথে চর্চা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধুন্ধুমারভাবে প্রভাবিত করে গেছেন বিচিত্র ধারার সাহিত্যের লোকজনকে। এসবের পরও সেইকালে মধুসূদন
১ দিন আগে