তৌফিক হাসান

বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসেও বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া ও ওমানের শ্রমবাজার চালু করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে এ সময়ে মোট প্রবাসী শ্রমিকের অর্ধেকেরও বেশি বা ৫১ শতাংশ এককভাবে গেছে সৌদি আরবে।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি বাজার এখনো বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়ে ওঠেনি। হাতেগোনা কয়েকটি দেশে বেশিরভাগ অদক্ষ কর্মী পাঠাচ্ছেন রপ্তানিকারকেরা। নতুন বিকল্প বাজার না গড়ে ওঠায় প্রবাসীদের কয়েকটি প্রধান গন্তব্যও বন্ধ হয়ে রয়েছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ জন কর্মী বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬১ জন গিয়েছেন সৌদি আরবে। অর্থাৎ মোট জনশক্তি রপ্তানির ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশই হয়েছে সৌদি আরবে।
বিএমইটি অবশ্য দাবি করেছে, গত ছয় মাসে ১০৪টি দেশে কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু অর্ধেকই কেন সৌদি আরবে—সেই প্রশ্ন অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের। তাদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর তালিকায় ১৪০টি দেশের নাম থাকলেও মাত্র ১০ থেকে ১২টি দেশেই কর্মী যাচ্ছেন। এরপর আবার কর্মীদের পছন্দের পাঁচ থেকে ছয়টি বাজার বন্ধ হয়ে রয়েছে।
এদিকে ইউরোপসহ এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো দক্ষ কর্মীর চেয়ে অদক্ষ কর্মীই বেশি পাঠাচ্ছে। ফলে সবচেয়ে বেশি কর্মী যাচ্ছেন সৌদি আরবেই। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা এখনো দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারছি না। ফলে আমরা বিকল্প শ্রমবাজারও তৈরি করতে পারিনি। উল্টো ২০১৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ওমান ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন বাজার বন্ধ কিংবা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।’
বিএনপি সরকারের ছয় মাসে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি দেখছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সরকার এখন পর্যন্ত চলমান বাজারগুলোর বাইরে নতুন কোনো বাজার চালুর ঘোষণা দিতে পারেনি। এমনকি বন্ধ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাজার চালু হয়নি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অবশ্য বলছেন, ‘সব চলবে। আরম্ভ হয়েছে খোলা। সব খুলে যাবে ইনশাআল্লাহ। মালয়েশিয়া তো খুলে গেছে, ওমানও খুলে যাবে।’
এদিকে মন্ত্রী মালয়েশিয়ার বাজার খোলার কথা বললেও তার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই বলছেন, এ বিষয়ে প্রক্রিয়াগত কাজগুলো এখন পর্যন্ত শুরু করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। এমনকি মালয়েশিয়া-বাংলাদেশের যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকও কবে হবে, তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্ট্রিমকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া বিষয়ে আমরা যা শুনছি, তা সংবাদপত্রের মাধ্যমেই শুনছি। আমাদের কোনো কিছু ব্রিফ করা হচ্ছে না। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও কোনো চিঠি আমরা পাচ্ছি না। ফলে আমরা কোনো কাজ শুরু করতে পারিনি।’
গত ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানিয়েছিলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ নাগাদ মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হবে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘২০২১ সালে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার চালুর আগে প্রায় দুই থেকে তিন মাস দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের একাধিক বৈঠক ও চিঠি চালাচালি হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া ঠিক করা হয়েছিল। এবার মন্ত্রীর সফরের দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা কিংবা চিঠি চালাচালি শুরু হয়নি। এতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়া নিয়ে আমরা নিজেরাই সন্দিহান।’
মালয়েশিয়ার বাজার পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তার সেই ভাষ্যে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানেন না, অথচ মন্ত্রী বলছেন বাজার খুলে যাবে। এটা একেবারে অস্বচ্ছ একটি প্রক্রিয়া। এতেই বোঝা যায়, সরকার পরিবর্তন হলেও এই খাতে সুশাসন তৈরি হয়নি।’
সাত বছরে ছয়টি শ্রমবাজার বন্ধ-সংকুচিত
বিএমইটির তথ্য বলছে, ১৯৭৬ সাল থেকে বিদেশে কর্মী পাঠায় বাংলাদেশ। সে সময় থেকে ধাপে ধাপে ১৪০টি দেশ বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার তালিকায় যুক্ত হয়। তবে শুরু থেকেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বাজার ও এশিয়ার কয়েকটি বাজারে সবচেয়ে বেশি কর্মী যেতে থাকে, যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজারের ৬টি বাজারই বন্ধ হয়ে যায়।
এর মধ্যে ২০১৩ সালে প্রথম বন্ধ হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার। সে সময় প্রবাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ভিসা জালিয়াতি ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার অভিযোগে দেশটি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বিএমইটির হিসাব বলছে, ২০১৩ সালে নিষেধাজ্ঞা জারির আগে দেশটিতে ৩৬ বছরে ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮২ জন কর্মী গিয়েছেন। এরপর ২০২১ সাল পর্যন্ত তেমন কোনো কর্মী দেশটিতে যায়নি। তবে ২০২২ সালের দিকে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা না তুললেও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার হার বাড়িয়ে দেয়, যা আবার কমে যায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর। বিএমইটির তথ্য বলছে এ সময়কালে দেশটিতে ২ লাখ ১৯৭ জন কর্মী গেছেন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ওই দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আন্দোলন করার পর থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভিসা চালু করলেও তা খুবই সীমিত আকারে ছাড়া হয়।
২০১৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর ২০১৬ সালে তীব্র গৃহযুদ্ধ, চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় লিবিয়ার শ্রমবাজার। বিএমইটি বলছে, বন্ধ হওয়ার আগে এই শ্রমবাজারটিতে ১ লাখ ২২ হাজার ১২৫ জন কর্মী গেছেন। লিবিয়ার পর ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় মিশরের শ্রমবাজার। তবে বাজারটিতে ২০০০ সাল থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হয়েছিল। এর ফলে মাত্র ২৩ হাজার ৫ জন কর্মী ওই বাজারে গেছেন।
এরপর ২০১৮ সালে এক মসজিদের ইমাম হত্যাকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ হয় বাহরাইনের শ্রমবাজার। মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় এই শ্রমবাজারটিতেও বন্ধের আগ পর্যন্ত ৪ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ জন কর্মী গেছেন। বাহরাইনের পর ৫ বছর বিরতি দিয়ে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বন্ধ হয় মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ওমান। যেখানে বন্ধের আগ পর্যন্ত ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮২ জন কর্মী গেছেন। ওমান বন্ধ হওয়ার ঠিক ৭ মাস পর একই অভিযোগে বন্ধ হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া। দেশটিতে এর আগেও ৩ বার বন্ধ হলেও বিএমইটি বলছে, দেশটিতে সর্বশেষ বন্ধের আগ পর্যন্ত ১৪ লাখ ৫৯ হাজার কর্মী গেছেন। এর মধ্যে সর্বশেষ চালু থাকা ২ বছরে গেছেন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ১৮০ জন কর্মী।
নতুন বাজারের রয়েছে চিন্তা, নেই কার্যকারিতা
বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন করে ৮টি দেশে শ্রমবাজার চালুর চিন্তা শুরু করে। এ দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়া। কিন্তু এর কোনোটিই এখন পর্যন্ত কার্যকরীভাবে চালু করতে পারেনি এই সরকার। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারগুলো চালুর জন্য দেশগুলোতে সফর থেকে শুরু করে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে দেশগুলো থেকে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সাড়া মিলছে না।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডল স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডে সকল কাগজপত্র তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। তারা স্বাক্ষর করলেই বাজারটি চালু হয়ে যাবে। আশা করি দ্রুত বাজারগুলো চালু করা সম্ভব হবে।’

বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসেও বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া ও ওমানের শ্রমবাজার চালু করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে এ সময়ে মোট প্রবাসী শ্রমিকের অর্ধেকেরও বেশি বা ৫১ শতাংশ এককভাবে গেছে সৌদি আরবে।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি বাজার এখনো বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়ে ওঠেনি। হাতেগোনা কয়েকটি দেশে বেশিরভাগ অদক্ষ কর্মী পাঠাচ্ছেন রপ্তানিকারকেরা। নতুন বিকল্প বাজার না গড়ে ওঠায় প্রবাসীদের কয়েকটি প্রধান গন্তব্যও বন্ধ হয়ে রয়েছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ জন কর্মী বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬১ জন গিয়েছেন সৌদি আরবে। অর্থাৎ মোট জনশক্তি রপ্তানির ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশই হয়েছে সৌদি আরবে।
বিএমইটি অবশ্য দাবি করেছে, গত ছয় মাসে ১০৪টি দেশে কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু অর্ধেকই কেন সৌদি আরবে—সেই প্রশ্ন অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের। তাদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর তালিকায় ১৪০টি দেশের নাম থাকলেও মাত্র ১০ থেকে ১২টি দেশেই কর্মী যাচ্ছেন। এরপর আবার কর্মীদের পছন্দের পাঁচ থেকে ছয়টি বাজার বন্ধ হয়ে রয়েছে।
এদিকে ইউরোপসহ এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো দক্ষ কর্মীর চেয়ে অদক্ষ কর্মীই বেশি পাঠাচ্ছে। ফলে সবচেয়ে বেশি কর্মী যাচ্ছেন সৌদি আরবেই। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা এখনো দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারছি না। ফলে আমরা বিকল্প শ্রমবাজারও তৈরি করতে পারিনি। উল্টো ২০১৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ওমান ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন বাজার বন্ধ কিংবা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।’
বিএনপি সরকারের ছয় মাসে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে সরকারের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি দেখছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সরকার এখন পর্যন্ত চলমান বাজারগুলোর বাইরে নতুন কোনো বাজার চালুর ঘোষণা দিতে পারেনি। এমনকি বন্ধ হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাজার চালু হয়নি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অবশ্য বলছেন, ‘সব চলবে। আরম্ভ হয়েছে খোলা। সব খুলে যাবে ইনশাআল্লাহ। মালয়েশিয়া তো খুলে গেছে, ওমানও খুলে যাবে।’
এদিকে মন্ত্রী মালয়েশিয়ার বাজার খোলার কথা বললেও তার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই বলছেন, এ বিষয়ে প্রক্রিয়াগত কাজগুলো এখন পর্যন্ত শুরু করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। এমনকি মালয়েশিয়া-বাংলাদেশের যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকও কবে হবে, তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্ট্রিমকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া বিষয়ে আমরা যা শুনছি, তা সংবাদপত্রের মাধ্যমেই শুনছি। আমাদের কোনো কিছু ব্রিফ করা হচ্ছে না। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও কোনো চিঠি আমরা পাচ্ছি না। ফলে আমরা কোনো কাজ শুরু করতে পারিনি।’
গত ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানিয়েছিলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ নাগাদ মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হবে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘২০২১ সালে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার চালুর আগে প্রায় দুই থেকে তিন মাস দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের একাধিক বৈঠক ও চিঠি চালাচালি হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া ঠিক করা হয়েছিল। এবার মন্ত্রীর সফরের দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা কিংবা চিঠি চালাচালি শুরু হয়নি। এতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়া নিয়ে আমরা নিজেরাই সন্দিহান।’
মালয়েশিয়ার বাজার পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তার সেই ভাষ্যে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানেন না, অথচ মন্ত্রী বলছেন বাজার খুলে যাবে। এটা একেবারে অস্বচ্ছ একটি প্রক্রিয়া। এতেই বোঝা যায়, সরকার পরিবর্তন হলেও এই খাতে সুশাসন তৈরি হয়নি।’
সাত বছরে ছয়টি শ্রমবাজার বন্ধ-সংকুচিত
বিএমইটির তথ্য বলছে, ১৯৭৬ সাল থেকে বিদেশে কর্মী পাঠায় বাংলাদেশ। সে সময় থেকে ধাপে ধাপে ১৪০টি দেশ বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার তালিকায় যুক্ত হয়। তবে শুরু থেকেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বাজার ও এশিয়ার কয়েকটি বাজারে সবচেয়ে বেশি কর্মী যেতে থাকে, যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজারের ৬টি বাজারই বন্ধ হয়ে যায়।
এর মধ্যে ২০১৩ সালে প্রথম বন্ধ হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার। সে সময় প্রবাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ভিসা জালিয়াতি ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার অভিযোগে দেশটি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বিএমইটির হিসাব বলছে, ২০১৩ সালে নিষেধাজ্ঞা জারির আগে দেশটিতে ৩৬ বছরে ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮২ জন কর্মী গিয়েছেন। এরপর ২০২১ সাল পর্যন্ত তেমন কোনো কর্মী দেশটিতে যায়নি। তবে ২০২২ সালের দিকে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা না তুললেও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার হার বাড়িয়ে দেয়, যা আবার কমে যায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর। বিএমইটির তথ্য বলছে এ সময়কালে দেশটিতে ২ লাখ ১৯৭ জন কর্মী গেছেন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ওই দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আন্দোলন করার পর থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভিসা চালু করলেও তা খুবই সীমিত আকারে ছাড়া হয়।
২০১৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর ২০১৬ সালে তীব্র গৃহযুদ্ধ, চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় লিবিয়ার শ্রমবাজার। বিএমইটি বলছে, বন্ধ হওয়ার আগে এই শ্রমবাজারটিতে ১ লাখ ২২ হাজার ১২৫ জন কর্মী গেছেন। লিবিয়ার পর ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় মিশরের শ্রমবাজার। তবে বাজারটিতে ২০০০ সাল থেকে কর্মী যাওয়া শুরু হয়েছিল। এর ফলে মাত্র ২৩ হাজার ৫ জন কর্মী ওই বাজারে গেছেন।
এরপর ২০১৮ সালে এক মসজিদের ইমাম হত্যাকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ হয় বাহরাইনের শ্রমবাজার। মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় এই শ্রমবাজারটিতেও বন্ধের আগ পর্যন্ত ৪ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ জন কর্মী গেছেন। বাহরাইনের পর ৫ বছর বিরতি দিয়ে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বন্ধ হয় মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ওমান। যেখানে বন্ধের আগ পর্যন্ত ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮২ জন কর্মী গেছেন। ওমান বন্ধ হওয়ার ঠিক ৭ মাস পর একই অভিযোগে বন্ধ হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া। দেশটিতে এর আগেও ৩ বার বন্ধ হলেও বিএমইটি বলছে, দেশটিতে সর্বশেষ বন্ধের আগ পর্যন্ত ১৪ লাখ ৫৯ হাজার কর্মী গেছেন। এর মধ্যে সর্বশেষ চালু থাকা ২ বছরে গেছেন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ১৮০ জন কর্মী।
নতুন বাজারের রয়েছে চিন্তা, নেই কার্যকারিতা
বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন করে ৮টি দেশে শ্রমবাজার চালুর চিন্তা শুরু করে। এ দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়া। কিন্তু এর কোনোটিই এখন পর্যন্ত কার্যকরীভাবে চালু করতে পারেনি এই সরকার। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারগুলো চালুর জন্য দেশগুলোতে সফর থেকে শুরু করে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে দেশগুলো থেকে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সাড়া মিলছে না।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডল স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডে সকল কাগজপত্র তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। তারা স্বাক্ষর করলেই বাজারটি চালু হয়ে যাবে। আশা করি দ্রুত বাজারগুলো চালু করা সম্ভব হবে।’
.png)

বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, বরং জনগণের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১ ঘণ্টা আগে
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৪০৯ জন সহকারী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
১ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জনগণের চরম দুর্ভোগ এবং নিজেদের ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
২ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীর পুঠিয়ার চারআনি রাজবংশের শেষ পুরুষ নরেশ নারায়ণের দ্বিতীয় স্ত্রী কমর বেগমের কাঠের পালঙ্ক উদ্ধার করেছে প্রশাসন। স্থানীয় এক মাছচাষির বাড়ি থেকে ৩৫ বছর পর রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পালঙ্কটি উদ্ধার করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে