মিনহাজ রহমান পিয়াস

আমরা ইতিমধ্যেই পঞ্চম প্রজন্মের (ফাইভ-জি) যুগে প্রবেশ করেছি। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন।
১৯৭৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের ব্যবধানে একের পর এক জন্ম হয়েছে নতুন নতুন নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির, প্রথম প্রজন্ম (ওয়ান-জি) থেকে শুরু করে পঞ্চম প্রজন্ম (ফাইভ-জি) পর্যন্ত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষ দাবি করছেন যখনই কোনো নতুন প্রজন্মের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি আসে, তার কাছাকাছি সময়েই মানবসভ্যতা কোনো না কোনো সংক্রামক রোগ বা মহামারির মুখোমুখি হয়।
ঘটনাগুলো একসঙ্গে পরপর সাজালে বিষয়টি দেখতে খানিকটা হলেও রহস্যময় মনে হয়। প্রশ্ন উঠতে পারে, এ কি নিছক কাকতালীয় মিল? নাকি এর পেছনে সত্যিই কোনো অজানা সম্পর্ক লুকিয়ে আছে?

১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সালের দিকে প্রথম প্রজন্ম বা ওয়ান-জি প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় জাপানে। ঠিক সেই সময়েই দেখা দেয় ‘রুশ ফ্লু’ নামে পরিচিত ইনফ্লুয়েঞ্জার বৈশ্বিক সংক্রমণ। যদিও ভাইরাসটি ছিল ১৯৫০–এর দশকে প্রচলিত ভাইরাসের পুনরাবির্ভাব। এরপর ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় প্রজন্ম বা টু-জি প্রযুক্তি চালুর সময়ও বিশ্বজুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যায়। যদিও বড় কোনো মহামারি হয়নি, তবু ফ্লু সংক্রমণের সংখ্যা ছিল আশংকাজনক।
১৯৯৮ সালে তৃতীয় প্রজন্ম বা থ্রি-জি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয় এবং বাণিজ্যিকভাবে চালু হয় ২০০১ সালে। যদিও সে সময় বড় কোনো বৈশ্বিক সংক্রমণ ঘটেনি, কিন্তু মৌসুমি ফ্লু’র সংক্রমণ চলছিল নিয়মিতভাবেই।
এরপর ২০০৯ সালে চতুর্থ প্রজন্ম বা ফোর-জি প্রযুক্তির সূচনা হয় সুইডেনের স্টকহোম ও নরওয়ের অসলো শহরে। কাকতালীয়ভাবে একই বছরেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ‘সোয়াইন ফ্লু’ বা ‘এইচওয়ানএনওয়ান’ ভাইরাস। যা লাখ লাখ মানুষকে আক্রান্ত করে আর হাজারো প্রাণ কেড়ে নেয়।
তবে সবচেয়ে আলোচিত মিলটি দেখা যায় ২০১৯ সালে। পঞ্চম প্রজন্ম বা ফাইভ-জি বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়ার সময়েই শুরু হয় করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারি। যে ভাইরাস তখন বদলে দিয়েছিল সমগ্র পৃথিবীর জীবনযাত্রা।
এই সময়গত মিল অনেকের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে, তবে কি সত্যিই প্রযুক্তি আর মহামারি বা বৈশ্বিক সংক্রমণ কোনো অদ্ভুত চক্রের অংশ? তবে কি আগামী প্রজন্মের নেটওয়ার্ক, অর্থাৎ ২০৩০ সালের দিকে চালু হতে যাওয়া সিক্স–জি আবারও কোনো নতুন সংক্রমণের ইঙ্গিত বহন করছে?
তবে বিজ্ঞান অন্য কথা বলছে। এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণ মেলেনি যে নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির প্রজন্ম পরিবর্তন কোনো ভাইরাস বা সংক্রমণ বা মহামারীর কারণ। আবার প্রতিটি নতুন নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি আসার সময়েই যে মহামারী বা বৈশ্বিক সংক্রমণ হয়েছে, তা বলা যাবে না। আর সবচেয়ে আলোচিত মিল ফাইভ-জি এবং কোভিড–১৯ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ ‘ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারি সৃষ্টি হয় মানুষের ঘনবসতি, আন্তর্জাতিক যাতায়াতের বিস্তার, পরিবেশগত পরিবর্তন, সামাজিক দুর্বলতা এবং সংক্রমণের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে। কোনোভাবেই তা প্রযুক্তির কারণে নয়। তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার মিথ ছড়িয়েছে ‘যেখানে নতুন প্রযুক্তি, সেখানে রোগ।’
তথ্যসূত্র: ইউরোপীয় ডিসইনফরমেশন মনিটর, ইউনিসেফ

আমরা ইতিমধ্যেই পঞ্চম প্রজন্মের (ফাইভ-জি) যুগে প্রবেশ করেছি। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন।
১৯৭৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের ব্যবধানে একের পর এক জন্ম হয়েছে নতুন নতুন নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির, প্রথম প্রজন্ম (ওয়ান-জি) থেকে শুরু করে পঞ্চম প্রজন্ম (ফাইভ-জি) পর্যন্ত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষ দাবি করছেন যখনই কোনো নতুন প্রজন্মের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি আসে, তার কাছাকাছি সময়েই মানবসভ্যতা কোনো না কোনো সংক্রামক রোগ বা মহামারির মুখোমুখি হয়।
ঘটনাগুলো একসঙ্গে পরপর সাজালে বিষয়টি দেখতে খানিকটা হলেও রহস্যময় মনে হয়। প্রশ্ন উঠতে পারে, এ কি নিছক কাকতালীয় মিল? নাকি এর পেছনে সত্যিই কোনো অজানা সম্পর্ক লুকিয়ে আছে?

১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সালের দিকে প্রথম প্রজন্ম বা ওয়ান-জি প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় জাপানে। ঠিক সেই সময়েই দেখা দেয় ‘রুশ ফ্লু’ নামে পরিচিত ইনফ্লুয়েঞ্জার বৈশ্বিক সংক্রমণ। যদিও ভাইরাসটি ছিল ১৯৫০–এর দশকে প্রচলিত ভাইরাসের পুনরাবির্ভাব। এরপর ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় প্রজন্ম বা টু-জি প্রযুক্তি চালুর সময়ও বিশ্বজুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যায়। যদিও বড় কোনো মহামারি হয়নি, তবু ফ্লু সংক্রমণের সংখ্যা ছিল আশংকাজনক।
১৯৯৮ সালে তৃতীয় প্রজন্ম বা থ্রি-জি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয় এবং বাণিজ্যিকভাবে চালু হয় ২০০১ সালে। যদিও সে সময় বড় কোনো বৈশ্বিক সংক্রমণ ঘটেনি, কিন্তু মৌসুমি ফ্লু’র সংক্রমণ চলছিল নিয়মিতভাবেই।
এরপর ২০০৯ সালে চতুর্থ প্রজন্ম বা ফোর-জি প্রযুক্তির সূচনা হয় সুইডেনের স্টকহোম ও নরওয়ের অসলো শহরে। কাকতালীয়ভাবে একই বছরেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ‘সোয়াইন ফ্লু’ বা ‘এইচওয়ানএনওয়ান’ ভাইরাস। যা লাখ লাখ মানুষকে আক্রান্ত করে আর হাজারো প্রাণ কেড়ে নেয়।
তবে সবচেয়ে আলোচিত মিলটি দেখা যায় ২০১৯ সালে। পঞ্চম প্রজন্ম বা ফাইভ-জি বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়ার সময়েই শুরু হয় করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারি। যে ভাইরাস তখন বদলে দিয়েছিল সমগ্র পৃথিবীর জীবনযাত্রা।
এই সময়গত মিল অনেকের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে, তবে কি সত্যিই প্রযুক্তি আর মহামারি বা বৈশ্বিক সংক্রমণ কোনো অদ্ভুত চক্রের অংশ? তবে কি আগামী প্রজন্মের নেটওয়ার্ক, অর্থাৎ ২০৩০ সালের দিকে চালু হতে যাওয়া সিক্স–জি আবারও কোনো নতুন সংক্রমণের ইঙ্গিত বহন করছে?
তবে বিজ্ঞান অন্য কথা বলছে। এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণ মেলেনি যে নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির প্রজন্ম পরিবর্তন কোনো ভাইরাস বা সংক্রমণ বা মহামারীর কারণ। আবার প্রতিটি নতুন নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি আসার সময়েই যে মহামারী বা বৈশ্বিক সংক্রমণ হয়েছে, তা বলা যাবে না। আর সবচেয়ে আলোচিত মিল ফাইভ-জি এবং কোভিড–১৯ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ ‘ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারি সৃষ্টি হয় মানুষের ঘনবসতি, আন্তর্জাতিক যাতায়াতের বিস্তার, পরিবেশগত পরিবর্তন, সামাজিক দুর্বলতা এবং সংক্রমণের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে। কোনোভাবেই তা প্রযুক্তির কারণে নয়। তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার মিথ ছড়িয়েছে ‘যেখানে নতুন প্রযুক্তি, সেখানে রোগ।’
তথ্যসূত্র: ইউরোপীয় ডিসইনফরমেশন মনিটর, ইউনিসেফ

দোহারের ইকরাশি গ্রামের শান্তি রানী পাল। বয়স ৯২ বছর। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। চোখের আলো কমে গেছে, গলার স্বরও ভেঙে গেছে; তবু সংসারের চাকাকে সচল রাখতে আদি পেশা হিসেবে কুমারের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
১৮ ঘণ্টা আগে
জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগে বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলে বন্যপ্রাণী বাস করত। কোন কোন বন্যপ্রাণী ও পাখি সেখানে ছিল? নদী, জলাভূমি ও পুকুরে কী কী মাছ পাওয়া যেত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত জে এন গুপ্ত-এর পূর্ববঙ্গ ও আসামের ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (বগুড়া) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
২০ ঘণ্টা আগে
আজ ২৫ জানুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন। সাহিত্যিক হিসেবে সাহিত্য-পরিসরে শতবর্ষ পরেও তিনি বেঁচে আছেন সক্রিয়তার ভেতর দিয়েই। এও সত্য যে, তাঁকে নিয়ে তাঁর কালেই তো বেশ জোরজারের সাথে চর্চা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধুন্ধুমারভাবে প্রভাবিত করে গেছেন বিচিত্র ধারার সাহিত্যের লোকজনকে। এসবের পরও সেইকালে মধুসূদন
১ দিন আগে
হাতে বই কিংবা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণ পরই চোখ চলে যায় স্মার্টফোনে। সিনেমা দেখতে বসেও কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য কনটেন্টে চলে যাওয়ার অভ্যাস এখন পরিচিত দৃশ্য। এই অস্থির মনোযোগ ও দ্রুত বিষয় বদলের প্রবণতাকেই আধুনিক মনোবিজ্ঞানে বলা হচ্ছে ‘পপকর্ন ব্রেইন’।
২ দিন আগে