ফটো ফিচার

জলের বুকে দুইশ বছরের চাষ

যেদিকে চোখ যায়, জল আর জল। বর্ষায় বরিশালের বানারীপাড়ার বিশারকান্দির উমারেরপাড় যেন হারিয়ে যায় বিলের ভেতর। একসময় এই জলেই ভাসত কচুরিপানা, দুলালীলতা, শ্যাওলা আর ফ্যানা ঘাস। সবাই বলত আগাছা, কিন্তু কৃষকের চোখে সেগুলো ছিল সম্ভাবনা।

সেই জলজ উদ্ভিদ (আগাছা) স্তরে স্তরে সাজিয়ে বানানো হলো ভাসমান ধাপ। পানির বুকে তৈরি হলো জমি। সেই জমিতে জন্ম নিতে লাগল সবজির চারা। প্রায় দুইশ বছর ধরে জলকে জয় করে চাষ করে আসছেন এখানকার মানুষ।

একেকটি ধাপ ৫০ থেকে ৬০ মিটার লম্বা, দেড় মিটার চওড়া। ধাপের বুকে বীজের নতুন সংসার। অঙ্কুরিত বীজ বসানোর জন্য তৈরি হয় ‘দৌল্লা’। টেপাপানা, দুলালীলতা আর নারিকেলের ছোবড়ার গুঁড়া দিয়ে ছোট এই আধার (দৌল্লা) বানান গ্রামের নারীরা। তাঁদের হাতেই যেন বীজ পায় প্রথম আশ্রয়। 

উমারেরপাড়ে প্রায় ২০০ কৃষক এই চাষের সঙ্গে জড়িত। বিশ্ব কৃষি ঐতিহ্যের স্বীকৃতি মিলেছে ধাপচাষে, তবুও বদলায়নি কৃষকের বাস্তবতা। বাজারে চারা বিক্রি কমেছে, বেড়েছে পানির অনিশ্চয়তা। তবু ধাপ ভাসে। পানির সঙ্গে ভেসে থাকে কৃষকের পুরোনো অভিজ্ঞতা, নারীর নীরব শ্রম আর দেশি বীজের উত্তরাধিকার। 

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম
বরিশাল

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৪২
সারি সারি ভাসমান বেডে ফলছে কৃষকের কাঙ্ক্ষিত ফসল
নৌকায় করে কচুরিপানার বেড নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
একজন নারী কচুরিপানা, শ্যাওলা আর ফ্যানা ঘাস দিয়ে গুটি (দৌল্লা) বানাচ্ছেন, তার ভেতর দেওয়া হবে নানা রকম সবজির বীজ
বেশির ভাগ বাড়ির নারীরা এভাবে দলবেঁধে কাজ করেন
সারি সারি ভাসমান বেডে সবজির বীজ পোঁতা হয়েছে
ভাসমান বেডে বীজ থেকে চারা বড় হয়ে উঠছে
কৃষকরা যত্ন নিচ্ছেন ভাসমান বেডে বেড়ে ওঠা সবজির চারাগুলোর
ভাসমান বিভিন্ন বেডে বেড়ে উঠছে সবজির চারা
জলের বুকে ভাসমান বেডে ফলবে কৃষকের কাঙ্ক্ষিত ফসল
Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত