মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা, তদন্তের মুখে টেলিনর

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৫৮
টেলিনরের লোগো
টেলিনরের লোগো

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে নরওয়ে-ভিত্তিক টেলি কমিউনিকেশন কোম্পানি টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তারা এ তথ্য জানায়।

মিয়ানমারে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ অভিযোগে মঙ্গলবার অসলোতে টেলিনরের সদর দপ্তরে তদন্তকারীরা অভিযান চালিয়েছেন বলে এক যৌথ বিবৃতিতে জানায় নরওয়ের ন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস ও নিরাপত্তা সংস্থা পিএসটি।

নরওয়ে পুলিশ বলছে, যখন বেসামরিক জনগোষ্ঠীর একটি অংশের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকার ব্যাপক নিপীড়ন চালাচ্ছিল তখন টেলিনর–মিয়ানমার গ্রাহকদের যোগাযোগের তথ্য সামরিক সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে।

অবশ্য টেলিনর জানিয়েছে, এই বিষয়ে তাঁদের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না। অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে নিজেদের ব্যবসা বিক্রি করে দেওয়া টেলিনর ২০২২ সালের মার্চে দেশটি থেকে কার্যক্রম পুরোপুরি গুটিয়ে নেয়।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, নরওয়ের তদন্তকারীদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে এবং ঘটনাটি স্পষ্ট করতে যতটা সম্ভব সবকিছু করবে।

এক বিবৃতিতে টেলিনর বলেছে, ‘ওই সামরিক অভ্যুত্থানটি ছিল মিয়ানমারের মানুষের জন্য একটি শোচনীয় ঘটনা। এর মধ্যে আমরা এমন এক অসম্ভব পরিস্থিতিতে পড়ে গিয়েছিলাম, যেখানে ভালো কোনো বিকল্পই আমাদের হাতে ছিল না।’

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা না হলে (আমাদের) কর্মীদের কারাদণ্ড, নির্যাতন বা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তে হতো। এ পরিস্থিতিতে আমাদের হাতে সত্যিকার অর্থে কোনো বিকল্প ছিল না। অন্যদিকে আমরা আমাদের কর্মীদের জীবনও ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুর দিকে সুইডেনের একটি অলাভজনক সংস্থা টেলিনর–মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। এতে অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার রাজনৈতিক বিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ফোনকল ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য টেলিনর–মিয়ানমার দিয়েছিল। এর ফলে অন্তত একজন অধিকারকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

এদিকে নরওয়ের পুলিশ আরও জানিয়েছে, মিয়ানমারে টেলিনরের ব্যবসা বিক্রির সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা নজরদারি সরঞ্জাম হস্তান্তরও করা হয়েছিল। এ লেনদেনের জন্য নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত