ছয় সাহিত্যিকের ভুল ছবি: মান বাড়াতে গিয়ে ‘অনিচ্ছাকৃত পরিবর্তন’ বলছে ডাকসু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ১৩
ছয় সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে এই ভুল ছবিগুলো ব্যবহার করেছিল ডাকসু। ছবি: সংগৃহীত
ছয় সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে এই ভুল ছবিগুলো ব্যবহার করেছিল ডাকসু। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় জসীমউদ্দীন, মুনীর চৌধুরীসহ ছয় কবি-সাহিত্যিকের ভুল ছবি সরিয়ে নতুন ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। ভুল ছবি ব্যবহার করায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার পর বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ছবিগুলো সরিয়ে নেয় ডাকসু।

ডাকসুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে নকশার সময় ছবির মান বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হলে কয়েকটি ছবির চেহারায় অনিচ্ছাকৃত পরিবর্তন আসে।

ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম ঝুমা বলেন, ‘ছবিগুলোর মান বাড়াতে এআই ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে দুই-তিনটি ছবির চেহারা একরকম হয়ে যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর ডিজাইনারকে তা জানানো হয়। পরে নতুন ছবি পাঠানো হলে বৃহস্পতিবার সেগুলো প্রিন্ট করে সংগ্রহশালায় লাগানো হয়েছে।’

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সংগ্রহশালায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের একাংশ’ শিরোনামের ওই ফ্রেমে পল্লিকবি জসীমউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহীদ মুনীর চৌধুরী, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, কবি আসাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজল ও ভাষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হকের নামের পাশে ভুল ছবি ব্যবহার করা হয়।

সমালোচনার পর ভুল ছবিগুলো সরিয়ে নামের সঙ্গে সঠিক ছবি সংযুক্ত করা হয়া। ছবি: সংগৃহীত
সমালোচনার পর ভুল ছবিগুলো সরিয়ে নামের সঙ্গে সঠিক ছবি সংযুক্ত করা হয়া। ছবি: সংগৃহীত

ছবির পরিচয় নিয়ে আপত্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী, কবি ও সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান আজাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডাকসু সংগ্রহশালার ফ্রেমে থাকা সাহিত্যিকদের ছবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

পোস্টে আখতারুজ্জামান আজাদ বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালার ফ্রেমে ব্যবহৃত জসীমউদ্দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক, আসাদ চৌধুরী ও আবুল ফজলের ছবিগুলো তাঁদের পরিচিত ছবির সঙ্গে মেলে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব ছবিতে থাকা ব্যক্তিরা আসলে কারা এবং তাঁদের পরিচয় কী।

এছাড়া কয়েকটি ছবির মধ্যে চেহারাগত সাদৃশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। জসীমউদ্দীন ও আসাদ চৌধুরীর নামে ব্যবহৃত ছবির মধ্যে এবং আবুল কাসেম ফজলুল হক ও মুনীর চৌধুরীর নামে ব্যবহৃত ছবির মধ্যে মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন আজাদ। একই ব্যক্তির ছবি সম্পাদনা করে একাধিক সাহিত্যিকের নামে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ছয় সাহিত্যিকের ছবি বাছাই নিয়েও প্রশ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুরের মতে, ফ্রেমে জসীমউদ্দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক, আসাদ চৌধুরী ও আবুল ফজলের নামে ব্যবহৃত ছবিগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নয়। ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কয়েকজন সাহিত্যিককে বেছে নিয়ে ছবি টাঙানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, 'খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের একাংশ’ শিরোনামে যে তালিকা করা হয়েছে, তা মারাত্মকভাবে খণ্ডিত। এই তালিকা এত বড় যে বাস্তবেই সবাইকে এক দেয়ালে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে নির্দিষ্ট কয়েকজনের ছবি টাঙানো উচিৎ মনে হয়নি।

সংগ্রহশালা বিতর্ক ঘিরে তদন্ত কমিটি

সংস্কারের পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর ডাকসু সংগ্রহশালাটি পুনরায় চালু করা হয়। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি এবং ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখা হয়। পরে সোমবার ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী। পরদিন জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতাপেটার একটি ছবি সংগ্রহশালায় টানিয়ে দেন।

এদিকে সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি টানানোর ঘটনা তদন্তে সোমবার পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত