দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স-স্পেন, ঘরছাড়া ২ লাখ ২০ হাজার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০: ৪৫
স্পেনের আভিলা প্রদেশের লা আদ্রাদা এলাকায় শুক্রবার ভয়াবহ দাবানলের আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ছবি : এপি

ফ্রান্স ও স্পেনে চলমান দাবানল ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দাবানলের তীব্রতায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি স্থানীয় মানুষকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই দেশেই সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরোঁদ ও লঁদ অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে বোর্দোর কাছে আরও প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

জিরোঁদের দাবানলে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। এই অঞ্চলে অন্তত ৮০টি বাড়ি পুড়ে গেছে। বোর্দোর উপকূলীয় জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপও খালি করা হয়েছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাটি থেকে শত শত মানুষকে নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ বিবিসিকে বলেন, ‘আগুনের তীব্রতা ২০২২ সালের ভয়াবহ দাবানলকেও ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। আগুনের গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় তা বোর্দোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

অন্যদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়া তিনটি দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে অঞ্চলটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিজেদের ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাদ্রিদ অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াস আয়ুসো একে অঞ্চলটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তীব্র তাপপ্রবাহ, প্রবল বাতাস ও একাধিক আগুনের মিলিত বিস্তারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’

মাদ্রিদ আঞ্চলিক সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিয়ো বলেন, ‘দাবানল এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দমকল বাহিনীর পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

দাবানলের বিস্তার ঠেকাতে সেনাবাহিনীর বিশেষ জরুরি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। একই সময়ে পাশের আভিলা প্রদেশের আরেকটি বড় দাবানল মাদ্রিদের আগুনের সঙ্গে মিলিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।

এদিকে তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। স্পেন ও ফ্রান্সের আগুন নিয়ন্ত্রণে বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কপেরনিকাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশক থেকে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হারে উষ্ণ হচ্ছে ইউরোপ। এতে বনভূমি আরও বেশি শুষ্ক হয়ে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

ইউরোপীয় বন অগ্নিকাণ্ড তথ্যব্যবস্থা (ইএফএফআইএস) জানিয়েছে, চলতি বছর ইউরোপে দাবানলে পুড়ে যাওয়া ভূমির পরিমাণ গত তিন বছরের সম্মিলিত পুড়ে যাওয়া ভূমির প্রায় সমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত