হাসিনাকে আমরা ধরে আনতে চাই: ডা. জাহেদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ২৩
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: পিআইডি
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: পিআইডি

ভারত থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম– তিনি (শেখ হাসিনা) আসবেন এবং তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাঁকে ধরে আনতে চাই।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কিনা– এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে– এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো কৌশল বা দ্বৈত অবস্থান নেই। তিনি নিজে দেশে ফিরুন কিংবা তাঁকে ফিরিয়ে আনা হোক– সরকার তাঁকে দেশে ফেরাতে চায়। আমরা প্রায়ই বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) আসবেন না, আপনাকে ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন– ‘শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই’। ফলে তিনি দেশে ফিরে বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগ পাবেন না।

সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন– এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এই ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা এক্সপেক্ট করব– ভারত সরকার এ ব্যাপারে তাঁকে একটা বার (বাধা) দেবেন। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।

ভারত সরকারের এই অবস্থান ‘সঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে। সেটি হলো শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখা।

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ টেনে ডা. জাহেদ বলেন, তিনি গণমাধ্যমবান্ধব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। একইসঙ্গে পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোকে বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে বলেও জানান তিনি।

তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত বলে মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশিরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা ‘ইরিটেটিং’ (বিরক্তিকর) ও ক্ষোভের তা ভারত সরকারের বোঝা উচিত।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে বিশ্বাস করানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যথেষ্ট সম্পৃক্ত হতে চায়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত