সাক্ষরতা দিবসের ছয় দশক/এখনো মৌলিক শিক্ষার বাইরে কোটি মানুষ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ২৯
৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ছবি: সংগৃহীত
৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ছবি: সংগৃহীত

আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এ বছর দিবসটির ৬০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। বিশ্বের শত কোটি মানুষের কাছে এখনো মৌলিক সাক্ষরতার সুযোগ পৌঁছায়নি। তাই মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে সাক্ষরতার গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরার লক্ষ্যেই দিবসটি পালিত হচ্ছে। ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সাক্ষরতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এ দিবস।

এ বছর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য—‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। এ উপলক্ষে গত ছয় দশকে সাক্ষরতা অর্জনে অগ্রগতি পর্যালোচনা, বিদ্যমান ও নতুন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে বোঝা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভবিষ্যতের সাক্ষরতা কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সাক্ষরতা একটি মৌলিক মানবাধিকার। অন্য অধিকার ভোগ, স্বাধীনতা ও বিভিন্ন সুযোগ লাভের ভিত্তি হিসেবেও সাক্ষরতা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে গত ছয় দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বিশ্বে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ মৌলিক সাক্ষরতা থেকে বঞ্চিত। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে অন্তত ৭৩ কোটি ৯০ লাখ তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কের মৌলিক পড়াশোনার দক্ষতা ছিল না। শিশুদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে চারজনই পড়াশোনায় ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এ ছাড়া ২০২৩ সালে বিশ্বে ২৭ কোটি ২০ লাখ শিশু ও কিশোর-কিশোরী বিদ্যালয়ের বাইরে ছিল। এই পরিসংখ্যানগুলো সবার জন্য সাক্ষরতা নিশ্চিত করতে সরকার ও শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের চিত্র তুলে ধরেছে।

স্বাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের ভিত্তি তৈরি করে স্বাক্ষরতা। আর এসবই মানুষকে সমাজে কীভাবে অংশ নেবে এবং অন্যদের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কোর) মতে, স্বাক্ষরতা মানুষের মধ্যে সমতা ও বৈষম্যহীনতার প্রতি সম্মান, আইনের শাসন, সংহতি, ন্যায়বিচার, বৈচিত্র্য ও সহনশীলতার মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি মানুষের মধ্যে এবং মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

ইউনেস্কোর মহাপরিচালক খালেদ এল-এনানি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপনের এই সময়ে আমরা আবারও স্বাক্ষরতাকে একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছি।’

১৯৬৬ সালে ইউনেস্কোর ১৪তম সাধারণ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করা হয়। এর পরের বছর, ১৯৬৭ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়। গত ছয় দশকে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা স্বাক্ষরতাকে শুধু একটি মৌলিক অধিকার হিসেবেই নয়, শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবেও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসের ৬০ বছর পূর্তি তাই গত কয়েক দশকের অগ্রগতি পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২০১৫ সালের পর স্বাক্ষরতার ক্ষেত্রে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, তা মূল্যায়নের পাশাপাশি দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে এখনো যেসব পুরোনো সমস্যা রয়ে গেছে এবং নতুন যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, সেগুলোও আলোচনায় আসছে।

এ উপলক্ষে আজ ও আগামীকাল মেক্সিকোতে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসের বৈশ্বিক আয়োজন করছে ইউনেস্কো। মেক্সিকো সরকারের সহযোগিতায় আয়োজিত এই দুই দিনের অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা পুরস্কার।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাক্ষরতা উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখা কর্মসূচি ও উদ্যোগকে এই পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এ ছাড়া বৈশ্বিক এই আয়োজনে সবার জন্য স্বাক্ষরতা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন নীতি, কার্যক্রম ও অংশীদারত্ব তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাজ গঠনে স্বাক্ষরতার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, অঞ্চল ও স্থানীয় পর্যায়েও নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত