ইরান যুদ্ধ
স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল ঘনিষ্ঠতা। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ধারণা করা হয়েছিল, এটি আরও অটুট হবে। তবে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সেই হিসাব-নিকাশে এসেছে বড় পার্থক্য।
গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ইস্যুতে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রধান দুই নেতার মতপার্থক্য প্রকট হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুদ্ধের কৌশল নিয়ে তাঁদের চিন্তার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে সামরিক মিশনের ঘোষণা দেয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের যেকোনো হামলা প্রতিহত করতে নৌ ও বিমানবাহিনী প্রস্তুত থাকবে।
তবে ওই অভিযানে সৌদি আরব নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে বিস্মিত হয় খোদ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
পরে জানা যায়, প্রজেক্ট ফ্রিডম শুরুর আগে সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করেনি ওয়াশিংটন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ যুবরাজ ওই সিদ্ধান্ত নেন। অথচ ইরানে হামলা চালাতে সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করেছে বলে তথ্য রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে একাধিক জরুরি ফোনালাপও হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, অভিযানের প্রথম দিনই ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে যুবরাজের সঙ্গে কথা বলেন। পরবর্তী দুই দিনও তাঁদের মধ্যে আলোচনা চলে।
একই সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তবে সৌদি যুবরাজ নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি। তাঁর আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে শুরুর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
ওয়াশিংটনের আরব উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ ইনস্টিটিউটের গবেষক হুসেইন ইবিশের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিলে ইরানের আরও বড় ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে হবে।
এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব আগের তুলনায় বেড়েছে। সৌদি আরব ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে না দেখে অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকির কারণ হিসেবেও বিবেচনা করতে শুরু করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা চালানোর পর সৌদি আরব এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করে। একদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দেয়, অন্যদিকে ইরানের হামলার ঝুঁকিও মোকাবিলা করে। তবে যখনই রিয়াদের মনে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, তখন তারা প্রকাশ্যেই ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে, সেখানে সৌদি আরবও নিজস্ব কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটি পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে। ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতা করেছিল চীন। সেই ধারাবাহিকতায় সৌদি কর্মকর্তারা এখন সরাসরি ইরানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের সমর্থনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। সৌদি নেতৃত্বের কাছে এসব ইস্যু পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরুর আগে যুবরাজ মোহাম্মদ সালমান ট্রাম্পকে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। পরে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি এক সময় ইরানের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও সৌদি আরব এই দাবি অস্বীকার করেছে। পরে ইরানের অবস্থান শক্তিশালী থাকায় যুবরাজ সমঝোতার পক্ষেই জোর দেন।
বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি আরব ইরানে একটি গোপন পাল্টা অভিযান চালালেও যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে যুবরাজ আমিরাতের নেতৃত্বের তুলনায় কম আগ্রহী ছিলেন। অন্যদিকে কাতার ও ওমান যেখানে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছিল, সেখানে সৌদি আরবের অবস্থান তুলনামূলকভাবে বেশি কঠোর ছিল।
১৪ জুনের যুদ্ধবিরতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আরও বিস্তৃত সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ এমন একটি সমাধান চায়, যাতে ভবিষ্যতে ইরান, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে বড় যুদ্ধ শুরু হলেও তারা ক্ষতির মুখে না পড়ে।
যুদ্ধের সময় ট্রাম্পের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় সৌদি আরবে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতের কোনো সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কি না। ২০১৯ সালে সৌদি তেল স্থাপনায় ইরানের হামলার পরও যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেয়নি। সেই ঘটনার পর থেকেই রিয়াদের মধ্যে এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
তবে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো এখনো অটুট রয়েছে। সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালুর বিষয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির বিকল্প স্থলপথে পরিবহন করিডোর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের অন্যতম বড় ক্রেতাও সৌদি আরব।
ট্রাম্পের দুই মেয়াদেই তাঁর প্রথম বড় বিদেশ সফরের গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও যুবরাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকলেও যুদ্ধের সময় প্রকাশ্যেই যুবরাজকে বিদ্রুপ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছিলেন, যুবরাজ প্রথমে তাঁর প্রশাসনকে গুরুত্ব দেননি, পরে অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক উপসাগর সফরে মার্কো রুবিও সৌদি আরব সফর না করে বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈঠক করেন, যা সম্পর্কের টানাপড়েনের আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। যদিও পরে বাহরাইনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রুবিও বলেন, সাম্প্রতিক সংকট দুই দেশের অংশীদারিত্বকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল, কিন্তু তারা সেই পরীক্ষা সফলভাবে অতিক্রম করেছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তি ফিরলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান এখনো হয়নি। হরমুজ প্রণালি, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন এবং নতুন পারমাণবিক চুক্তি— এসব বিষয় এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সৌদি আরব প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল দেখার অপেক্ষা করছে। কারণ, ইরানের পুনর্গঠনে সহায়তার কথা আলোচনায় থাকলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সৌদি আরব কোনো অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন থেকে সংক্ষেপে অনূদিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল ঘনিষ্ঠতা। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ধারণা করা হয়েছিল, এটি আরও অটুট হবে। তবে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সেই হিসাব-নিকাশে এসেছে বড় পার্থক্য।
গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ইস্যুতে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রধান দুই নেতার মতপার্থক্য প্রকট হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুদ্ধের কৌশল নিয়ে তাঁদের চিন্তার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে সামরিক মিশনের ঘোষণা দেয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের যেকোনো হামলা প্রতিহত করতে নৌ ও বিমানবাহিনী প্রস্তুত থাকবে।
তবে ওই অভিযানে সৌদি আরব নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে বিস্মিত হয় খোদ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
পরে জানা যায়, প্রজেক্ট ফ্রিডম শুরুর আগে সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করেনি ওয়াশিংটন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ যুবরাজ ওই সিদ্ধান্ত নেন। অথচ ইরানে হামলা চালাতে সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করেছে বলে তথ্য রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে একাধিক জরুরি ফোনালাপও হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, অভিযানের প্রথম দিনই ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে যুবরাজের সঙ্গে কথা বলেন। পরবর্তী দুই দিনও তাঁদের মধ্যে আলোচনা চলে।
একই সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তবে সৌদি যুবরাজ নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি। তাঁর আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে শুরুর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
ওয়াশিংটনের আরব উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ ইনস্টিটিউটের গবেষক হুসেইন ইবিশের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিলে ইরানের আরও বড় ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে হবে।
এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব আগের তুলনায় বেড়েছে। সৌদি আরব ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে না দেখে অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকির কারণ হিসেবেও বিবেচনা করতে শুরু করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা চালানোর পর সৌদি আরব এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করে। একদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দেয়, অন্যদিকে ইরানের হামলার ঝুঁকিও মোকাবিলা করে। তবে যখনই রিয়াদের মনে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, তখন তারা প্রকাশ্যেই ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে, সেখানে সৌদি আরবও নিজস্ব কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটি পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে। ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতা করেছিল চীন। সেই ধারাবাহিকতায় সৌদি কর্মকর্তারা এখন সরাসরি ইরানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের সমর্থনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। সৌদি নেতৃত্বের কাছে এসব ইস্যু পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরুর আগে যুবরাজ মোহাম্মদ সালমান ট্রাম্পকে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। পরে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি এক সময় ইরানের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও সৌদি আরব এই দাবি অস্বীকার করেছে। পরে ইরানের অবস্থান শক্তিশালী থাকায় যুবরাজ সমঝোতার পক্ষেই জোর দেন।
বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি আরব ইরানে একটি গোপন পাল্টা অভিযান চালালেও যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে যুবরাজ আমিরাতের নেতৃত্বের তুলনায় কম আগ্রহী ছিলেন। অন্যদিকে কাতার ও ওমান যেখানে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছিল, সেখানে সৌদি আরবের অবস্থান তুলনামূলকভাবে বেশি কঠোর ছিল।
১৪ জুনের যুদ্ধবিরতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আরও বিস্তৃত সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ এমন একটি সমাধান চায়, যাতে ভবিষ্যতে ইরান, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে বড় যুদ্ধ শুরু হলেও তারা ক্ষতির মুখে না পড়ে।
যুদ্ধের সময় ট্রাম্পের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় সৌদি আরবে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতের কোনো সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কি না। ২০১৯ সালে সৌদি তেল স্থাপনায় ইরানের হামলার পরও যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেয়নি। সেই ঘটনার পর থেকেই রিয়াদের মধ্যে এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
তবে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো এখনো অটুট রয়েছে। সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালুর বিষয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির বিকল্প স্থলপথে পরিবহন করিডোর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের অন্যতম বড় ক্রেতাও সৌদি আরব।
ট্রাম্পের দুই মেয়াদেই তাঁর প্রথম বড় বিদেশ সফরের গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও যুবরাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকলেও যুদ্ধের সময় প্রকাশ্যেই যুবরাজকে বিদ্রুপ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছিলেন, যুবরাজ প্রথমে তাঁর প্রশাসনকে গুরুত্ব দেননি, পরে অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক উপসাগর সফরে মার্কো রুবিও সৌদি আরব সফর না করে বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈঠক করেন, যা সম্পর্কের টানাপড়েনের আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। যদিও পরে বাহরাইনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রুবিও বলেন, সাম্প্রতিক সংকট দুই দেশের অংশীদারিত্বকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল, কিন্তু তারা সেই পরীক্ষা সফলভাবে অতিক্রম করেছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তি ফিরলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান এখনো হয়নি। হরমুজ প্রণালি, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন এবং নতুন পারমাণবিক চুক্তি— এসব বিষয় এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সৌদি আরব প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল দেখার অপেক্ষা করছে। কারণ, ইরানের পুনর্গঠনে সহায়তার কথা আলোচনায় থাকলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সৌদি আরব কোনো অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন থেকে সংক্ষেপে অনূদিত
.png)

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন ৮৬ জন।
১ ঘণ্টা আগে
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু ও বাছুর জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন বলে বুধবার (৬ জুলাই) জানিয়েছে ভারতের গণমাধ্যম।
৩ ঘণ্টা আগে
কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের পরোক্ষ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশটি। বুধবার (১ জুলাই) দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্প্রতি দুই দেশের সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
কাতারের দোহায় যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দূতদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে না বলে জানিয়েছে ইরান। এ সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্সের।
০১ জুলাই ২০২৬