যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষিত স্বর্ণ সরিয়ে নিল নেদারল্যান্ডস

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ২০
স্বর্ণের বার। ছবি: সংগৃহীত
স্বর্ণের বার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষিত স্বর্ণের একটি অংশ সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে উত্তর আমেরিকায় থাকা প্রায় ৩১৩ টন স্বর্ণের মধ্যে ৮৬ টন লন্ডনে নেওয়া হয়েছে। সংকটের সময় দ্রুত ব্যবহারের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসি।

ব্যাংকটির গভর্নর ওলাফ স্লেইপেন বলেন, ‘আমরা আশা করি, কখনো এসব স্বর্ণ ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। তবে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা প্রয়োজন।’

নেদারল্যান্ডসের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কোনো অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা বাণিজ্যিক ও সামরিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশগুলো তাদের রিজার্ভ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে রাখা স্বর্ণ সরিয়ে নেওয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে নেদারল্যান্ডস। এর আগে জানুয়ারিতে একই পদক্ষেপ নেয় ফ্রান্স। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা ১২৯ টন স্বর্ণ বিক্রি করে দেয়।

জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্ডেসব্যাংকও ২০১৬ সালের মধ্যে বিদেশি ভল্ট থেকে ২১৬ টনের বেশি স্বর্ণ সরিয়ে নেয়। এর মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে ১১১ টন এবং প্যারিস থেকে ১০৫ টন স্বর্ণ জার্মানিতে ফিরিয়ে আনা হয়।

স্বর্ণ মজুতে লন্ডন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সংকটের সময় দ্রুত স্বর্ণ বিক্রির জন্য লন্ডনের বাজার সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থানগুলোর একটি। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে প্রায় চার লাখ বার রয়েছে, যার মূল্য ২০০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি।

তবে সব স্বর্ণ সরাসরি এক দেশ থেকে অন্য দেশে নেওয়া হয় না। নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিউইয়র্কে থাকা স্বর্ণ বিক্রি করে লন্ডনে একই পরিমাণ কিনেছে। ফলে ওই স্বর্ণ আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে পরিবহনের প্রয়োজন নেই।

বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ জোসেফ কাভাতোনি জানান, যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন দেশ স্বর্ণের মজুত কোথায় রাখবে, তা নতুন করে ভাবছে। তবে শুধু এসব কারণেই নয়, মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত স্বর্ণ কেনাবেচার সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বর্ণ কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে। বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার টন স্বর্ণ কিনেছে। এর আগের দশকে বছরে গড়ে কেনা হয়েছিল প্রায় ৫০০ টন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বাড়তি কেনাকাটায় স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। একইসঙ্গে আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি মানুষের আগ্রহও বাড়ছে। এ ছাড়া মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হারও স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলছে। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের গবেষকদের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা টাকায় ৬ লাখের বেশি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত