ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে পাল্টা হামলা ইরানের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৩২
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির পাশে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলের এরবিল প্রদেশ, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি, জর্ডান ও কুয়েতে এসব হামলা চালানো হয়।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলের এরবিল প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হামলায় একটি মেরামতকেন্দ্র ও সরঞ্জাম রাখার কয়েকটি গুদাম ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া একটি নজরদারি নির্দেশনাব্যবস্থাও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসি আরও জানায়, হামলায় ঘাঁটির কয়েকটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায়। এতে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বাহরাইন জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

ইরান এর আগে দাবি করেছিল, তারা বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলায় ঘাঁটির রাডার স্থাপনা এবং সেখানে থাকা মার্কিন সেনাদের অবস্থানস্থল লক্ষ্য করা হয়েছিল বলে জানায় তারা।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির ওপর ড্রোন হামলা হয়েছে এবং তা প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কাজ করছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষ যে বিস্ফোরণের শব্দ শুনছেন, সেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ধ্বংস করার কারণে হয়েছে। সবাইকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জর্ডানের সেনাবাহিনী বলেছে, ইরান থেকে ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে ১০টি ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি তিনটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে জর্ডানের প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে পড়ে। এসব এলাকায় জনবসতি ছিল না বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেছেন, দক্ষিণ ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় অবকাঠামো, স্থাপনা, অস্ত্র ও সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন কমান্ডার ও সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা অব্যাহত রাখলে এর জবাব হবে আরও বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করবে, তাদেরও এর বিপজ্জনক পরিণতি মেনে নিতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সূত্র: আল জাজিরা

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত