ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, জবাব দিলে কঠোর আঘাতের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ০১
মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আইআরজিসির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার পর সংঘাত আবার বড় যুদ্ধে গড়ানোর আশঙ্কার মধ্যেই মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এ অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর আইআরজিসির সাম্প্রতিক হামলা জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির উত্তর পাশে অবস্থিত কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা নূর নিউজ জানিয়েছে, বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস ও দক্ষিণ উপকূলীয় বন্দর চাবাহারেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

হামলার মধ্যেই পাল্টা আক্রমণ না চালাতে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান পাল্টা হামলা চালালে দেশটিতে আরও কঠোর ও বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।

ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় ও শক্তিশালী’ হামলা তখনো চলছিল। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন পেতে ইরানের ব্যর্থ চেষ্টা এবং জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার জবাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

‘এই ন্যায্য হামলার’ জবাবে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালালে আরও কঠোর ও উচ্চমাত্রার হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তবে সবচেয়ে বড় হামলাটি এখনো বাকি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, সেই হামলা হলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ‘খুব সামান্যই অবশিষ্ট থাকবে’।

টানা চার সপ্তাহের বেশি সামরিক সংঘাত বন্ধ থাকার পর গত রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ওই হামলার জবাবে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।

গত জুলাইয়ের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় ঘটনা। গত কয়েক মাসে দুই দেশের বিরোধ মূলত নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের লড়াইয়ে সীমিত ছিল। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আবার সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফেরার ইঙ্গিত নয়। তবে প্রয়োজনে আরও হামলা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অন্যদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলা ছিল ‘সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষ’।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

এক নিরাপত্তা সতর্কতায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল এবং পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিতভাবে আরও খারাপ হতে পারে। সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণ বিঘ্নের বিষয়েও সতর্ক থাকতে নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চলমান পরিস্থিতি দ্রুত আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা ও তাসনিম

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত