রয়টার্স এক্সক্লুসিভ/কসকোর জাহাজে গোপন সরঞ্জাম বসিয়ে গোয়েন্দাগিরি করছে চীন: যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং কোম্পানি কসকোর বিরুদ্ধে জাহাজে গোপন সরঞ্জাম ব্যবহার করে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সের কাছে দাবি করেছেন, এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উপকূলের কাছে গোপন সামরিক যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করছে বেইজিং।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তারা বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে কসকোর কয়েক দশকের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অংশীদারত্ব রয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়াজুড়ে চলাচলকারী জাহাজ ও বিমানের যোগাযোগসংক্রান্ত সংকেত সংগ্রহ করতে পারে চীন।

এক কর্মকর্তা বলেন, কসকোর জাহাজে থাকা উন্নত সরঞ্জামগুলো ‘সামরিক যোগাযোগ প্রযুক্তি ও এনক্রিপশনের উন্নয়ন’ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হয়।

এসব সরঞ্জামের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও সমুদ্রপথও পর্যবেক্ষণ করতে পারে বেইজিং। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সামরিক নৌ চলাচলের জন্যও এসব পথ গুরুত্বপূর্ণ।

কসকোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করেছিল রয়টার্স। তবে তাতে সাড়া দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। তবে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং রয়টার্সকে বলেন, চীন সরকার কখনো কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তিকে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করে বিদেশে তথ্য বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কিংবা সরবরাহের নির্দেশ দেয় না।

তিনি বলেন, ‘তথাকথিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের বয়ান ছড়িয়ে চীনকে অপমান করার চেষ্টা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

চলতি মাসের শেষ দিকে ওয়াশিংটনে এক শীর্ষ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের বৈঠকের কথা রয়েছে। নিরাপত্তা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যুতে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা।

মার্কিন কর্মকর্তারা কসকোর জাহাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের ধরন বিস্তারিত জানাননি। তবে তাঁরা বলেছেন, এগুলো সাধারণ যোগাযোগ সরঞ্জাম নয়; বরং অত্যাধুনিক গোয়েন্দা সংকেতের তথ্য সংগ্রহের প্ল্যাটফর্ম।

তাঁদের দাবি, এসব তথ্য ব্যবহার করে আঞ্চলিক বিরোধে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিদেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে সামুদ্রিক নজরদারি ও আগাম সতর্কতামূলক তথ্য সংগ্রহ করে চীন।

২০২৫ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) দেশটির মাছ ধরার ও বাণিজ্যিক জাহাজ বহরকে গোয়েন্দা ও নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পেন্টাগন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত কোম্পানির তালিকায় কসকোকে যুক্ত করে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই তালিকাভুক্তি আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা নয়।

চীনা আইন অনুযায়ী, দেশটির কোম্পানিগুলোকে সরকারি গোয়েন্দা কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বন্দরে যাতায়াতকারী বিশ্বের অন্যতম বড় শিপিং কোম্পানি কসকো। দেশটির বিভিন্ন বন্দরে কনটেইনার জাহাজ পরিচালনার জন্য তাদের কয়েকটি টার্মিনাল সেবার যৌথ উদ্যোগও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক শিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে গত বছর কসকোসহ চীনা শিপিং কোম্পানিগুলোর ওপর কয়েকশ কোটি ডলারের বন্দর ফি আরোপের পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে গত অক্টোবরে শি চিন পিংয়ের সঙ্গে এক বছরের বাণিজ্যযুদ্ধ বিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর পর সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। নভেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ও শির বৈঠকে এর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।

জনস হপকিন্স স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চীনের সামুদ্রিক কৌশলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইজ্যাক কারডন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যব্যবস্থার সঙ্গে কসকো গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হতে পারে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহব্যবস্থা ও পরিবহন নেটওয়ার্ক থেকে কসকোকে সরিয়ে দেওয়া দেশটির বাণিজ্যব্যবস্থার জন্য ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের অস্ত্রোপচারের’ মতো হতে পারে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত