মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার প্রায় উজাড়, শঙ্কায় ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে একটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্য। ছবি : বিবিসি

ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে দূরপাল্লার হামলায় ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মজুত প্রায় শেষ। আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের (পিআরএসএম) পুরো মজুত ব্যবহার করে ফেলেছে মার্কিন বাহিনী। একইসঙ্গে দ্রুত কমছে টমাহক, থাড ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সিএনএনের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে খোদ মার্কিন বাহিনীতেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যাপক হারে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী। পাশাপাশি ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে গণহারে ব্যবহার করতে হয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র। এতে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক- উভয় ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে গেছে। এই মুহূর্তে ইরান বা অন্য কোনো ফ্রন্টে নতুন সংঘাত শুরু হলে বর্তমান অস্ত্রভান্ডার নিয়ে তা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা।

জার্মানির উন্টারলুসে রাইনমেটালের একটি অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত যুক্তরাষ্ট্রের এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ছবি : রয়টার্স।
জার্মানির উন্টারলুসে রাইনমেটালের একটি অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত যুক্তরাষ্ট্রের এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ছবি : রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। এই দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দূরপাল্লা থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অন্যতম প্রধান অস্ত্র। একইসঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতেরও প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছে পেন্টাগন।

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি : সংগৃহীত
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি : সংগৃহীত

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ বিমান থেকে বোমাবর্ষণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। একইসঙ্গে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা উদ্বেগজনক। যুদ্ধের শুরু থেকে থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছে ওয়াশিংটন। ফলে পেন্টাগনের গোলাবারুদের মজুত এখন ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি।

সিএনএন আরও জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একাধিকবার সতর্ক করেছেন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা। আলোচনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকির বিষয়টিও উঠে আসে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন হামলা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়টের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি : লকহিড মার্টিন
মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়টের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি : লকহিড মার্টিন

তবে এসব উদ্বেগ নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি গোলাবারুদ রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষাশিল্প রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র উৎপাদন করছে বলে দাবি তাঁর।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমান ঘাটতি তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে থাড ইন্টারসেপ্টরের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। একইভাবে দূরপাল্লার অন্যান্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতেও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

সূত্র : রয়টার্স, সিএনএন

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত