হামলা আতঙ্কে নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৫২
ইরানের আসালুয়েহে সাউথ পার্স গ্যাস কমপ্লেক্সের তেল শোধনাগার। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। সম্ভাব্য এই হামলা ঘিরে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের অঞ্চলটি ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জর্ডানের আম্মান, জেরুজালেম ও ইরাকের বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস এসব নিরাপত্তা সতর্কবার্তা দিয়েছে। খবর সিবিএস নিউজের।

চলতি সপ্তাহেই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই অভিযানের জন্য এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করেছে।

এতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি প্রয়োজনে দ্রুত অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

জর্ডানে থাকা নাগরিকদের দেশটির মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এড়িয়ে চলতে এবং ইসরায়েলে অবস্থানকারীদের নিকটতম ভুগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান জেনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়, ইরানের আচরণ অনিশ্চিত। সাম্প্রতিক সময়ে তারা কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা উসকানি ছাড়াই এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এমনকি আগে লক্ষ্যবস্তু না হওয়া এলাকাতেও হামলা বিস্তৃত করেছে।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের অর্থনৈতিক প্রভাব কমাতে সোমবার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজার খোলার আগেই অভিযান শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েলকে অবহিত করার দাবিও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ইরানে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে তারা অবগত নন। সম্ভাব্য হামলায় অংশ নিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পায়নি ইসরায়েল।

এদিকে, ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব। এক সময় তারা (ইরান) বলবে, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সিবিএস নিউজকে বলেন, যেকোনো অভিযানের জন্য প্রতিরক্ষা বিভাগ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল শোধনাগার। পাশাপাশি রাজধানী তেহরানের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ক্যাম্প ডেভিডে বৈঠকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে ট্রাম্প হামলা স্থগিত রেখে আবার আলোচনায় ফিরতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া সম্ভাব্য হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে দেশটির আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, আমরা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জবাব পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছি, যাতে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত। প্রয়োজন হলে তা বাস্তবায়নে আমরা প্রস্তুত।

ওই কর্মকর্তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো হামলার জবাব দেওয়ার সামর্থ্য ও সদিচ্ছা ইরানের রয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত