রয়টার্সের প্রতিবেদন

৫৭ মৃত্যুর পর স্পেন-মরক্কো সীমান্তে থামল অভিবাসী ঢল, ফিরেছেন বেশির ভাগ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৪৬
সেউতা থেকে মরক্কো সীমান্তের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন অভিবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় হঠাৎ করেই নেমেছিল অভিবাসীদের ঢল। মরক্কো সীমান্ত থেকে সমুদ্র সাঁতরে পাড়ি দিতে গিয়ে ডুবে এবং সেউতা সীমান্তে পদদলিত হয়ে প্রাণ যায় অন্তত ৫৭ জনের।

মরিয়া চেষ্টায় সীমান্ত পেরিয়ে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সেউতায় ঢুকেও পড়ে। তবে কড়াকড়ির পর সেই ঢেউ থেমেছে। অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশী স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরেও গেছেন। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেউতায় স্পেন সরকারের প্রতিনিধি জানান, সীমান্তের স্পেন অংশ থেকে ৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরক্কোর অংশেও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের কেউ সাগরে ডুবে, আবার কেউ সীমান্ত–বেড়া ঘেঁষে থাকা ব্রেকওয়ালে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা গেছেন।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশ করেন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে ৪৮ হাজার ৩০০ জন ফিরে গেছেন।

তবে সেউতার স্থানীয় সরকারের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাসের দাবি, গত দুই দিনে সীমান্ত পেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ।

সীমান্তে কড়াকড়ি

আর কেউ যেন সেউতায় ঢুকতে না পারেন, সে জন্য সীমান্তে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী। স্পেনও সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে দেখেছেন, সীমান্তে জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হচ্ছে।

খাবার ও আশ্রয়ের অভাবে কয়েকশ মানুষকে সীমান্তচৌকি ও বেড়ার ফাঁক দিয়ে মরক্কোয় ফিরে যেতে দেখা গেছে।

তাঞ্জিয়ারের এক তরুণ বলেন, তিনি কেন এসেছিলেন, সেটিই এখন বুঝতে পারছেন না। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে তিনি কিছু খেতে পারেননি। তাই ফিরে যাচ্ছেন।

লারাশ শহরের ২০ বছর বয়সি এক যুবক জানান, তিনি পাঁচ ঘণ্টা সাঁতরে সেউতায় পৌঁছান। কিন্তু সেখানে খাবার পাননি। পরে স্প্যানিশ সেনাবাহিনী তাঁকে বের করে দেয়।

ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি এই ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে জানান। একই সঙ্গে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে বলেও জানান।

সেউতা ও মেলিয়া আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। সেখানে মাঝেমধ্যেই অভিবাসীদের সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। তবে এবারের ঘটনা ছিল নজিরবিহীন।

ঘটনাটি নিয়ে ইউরোপেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন ব্যবস্থার সীমান্তমুক্ত ভ্রমণ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। তবে মাদ্রিদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির পরিপন্থি।

ইউরোপের ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এ ঘটনায় স্পেনের তুলনামূলক শিথিল অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেছে।

এদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, শনিবারের মধ্যে স্পেন সীমান্তে পুলিশের উপস্থিতি পাঁচ গুণ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারি ও ট্রেনে টহলও জোরদার করা হবে।

স্পেনের সরকার মনে করছে, চলতি মাসে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ও সীমান্তে মানুষের ঢল বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিয়ায় যাওয়ার পথে সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানো যাবে না।

মরক্কোর সীমান্ত শহর ফনিদেকে শুক্রবারও হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে বেশির ভাগই সীমান্ত পার হতে পারেননি। এরপর তাঁদের অনেককে ফিরে যেতে দেখা যায়। তবে কেউ কেউ উপকূল ধরে বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত