লেখা:

পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন গরু নিয়ে ভিডিওতে সয়লাব। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুসলিম যুবকেরা হিন্দু গরু বিক্রেতাদের আটকে দিয়ে তাদের গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বলছেন। তারা বলছেন—‘কেন আপনি আপনার মাকে বিক্রি করতে এসেছেন? বাড়ি নিয়ে যান এর যত্ন করুন। আপনি গরু বিক্রি করে টাকা পাবেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের জেল খাটতে হবে।’
অন্য একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, মুসলিম যুবকেরা গবাদিপশু বোঝাই ট্রাক থামিয়ে চালকদের জেরা করছেন—‘কেন আপনি আপনার মাকে এভাবে বেঁধে অমানবিক উপায়ে নিয়ে যাচ্ছেন? পারলে সম্মানের সঙ্গে হাঁটিয়ে নিয়ে যান।’
একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন মুসলিম ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ এই কোরবানির ঈদে গরু না কেনার জন্য প্রকাশ্যে মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন।
এই ভিডিওগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু হৃদয়বিদারক ভিডিও দেখা যাচ্ছে, যেখানে হিন্দু গরুর খামারিরা জনশূন্য পশুর হাট থেকে কোনো আয় ছাড়াই বাড়ি ফিরছেন। তাদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তা ও হতাশার ছাপ স্পষ্ট।
অনেকেই এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে সরাসরি দায়ী করছেন। ‘জেন জি’ নেটিজেনরা এই পরিস্থিতিকে একটি ‘ইউএনও রিভার্স’ মুহূর্ত বলে অভিহিত করছেন। ইউএনও রিভার্স হচ্ছে বিখ্যাত কার্ড গেমের একটি রেফারেন্স, যেখানে হঠাৎ করে খেলোয়াড়দের ভূমিকা উল্টে যায়।
যে বিজ্ঞপ্তি এই সংকটের সূত্রপাত ঘটাল
গত ১৩ মে নবগঠিত বিজেপি সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ কঠোরভাবে কার্যকর করার ঘোষণা দেয়।
এই বিজ্ঞপ্তির পর হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী এবং পুলিশ রাস্তায় গবাদিপশু পরিবহনকারীদের আটকানো ও হয়রানি শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরপরই মুসলিম সংগঠনগুলো ঈদের জন্য গরু কেনা বয়কট করার প্রচারণা শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পশ্চিমবঙ্গের বাস্তবতা: মুসলিমরা মাংস খান, হিন্দুরা গরু পালন করেন
পশ্চিমবঙ্গের গবাদিপশু অর্থনীতি একটি ব্যতিক্রমি সামাজিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মূলত মুসলিমরা মাংসের দোকান পরিচালনা করেন। মুসলিমরা গরুর মাংস খান। তবে পশুপালক এবং বিক্রেতাদের সিংহভাগই হিন্দু—বিশেষ করে ‘ঘোষ’ সম্প্রদায়ের মানুষ। ঘোষরা পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যবসায়ী।
ঐতিহাসিকভাবে ঘোষ অধ্যুষিত এলাকাগুলো ছিল পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস-বিজেপির অন্যতম প্রাচীন এবং শক্তিশালী ঘাঁটি। এমনকি যখন বিধানসভায় বিজেপির কোনো বিধায়ক ছিল না, তখনও এই এলাকাগুলো তাদের পাশে ছিল। গত কয়েক দশকের বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সময় ঘোষ পাড়াগুলো মুসলিমবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পরিচিত ছিল।
অথচ পরিহাসের বিষয় হলো, বিজেপি সরকারের এই আইন কার্যকর করার অভিযানে সম্প্রদায়টিই প্রথম সর্বনাশের মুখে পড়েছে।
কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে মুসলিম সংগঠনগুলো তত বেশি গরুর বদলে ছাগল বা মহিষ কোরবানি করার আহ্বান জানাচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার হিন্দু গরুর খামারি চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন।
ঈদের আগে ফাঁকা পশুর হাট
সাধারণত ঈদের আগে পশ্চিমবঙ্গের পশুর হাটগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম আর শত শত গরু-মহিষের উপস্থিতিতে রাতভর উৎসবের পরিবেশ থাকে।
কিন্তু এ বছর অনেক হাটই নিস্তব্ধ। গত রোববার বিকেলের একটি হাটে, যেখানে সাধারণত ২০০-৩০০ পশু বিক্রি হয়, সেখানে মাত্র দুটি গরু দেখা গেছে। মুসলিম ক্রেতারা প্রায় পুরোপুরি অনুপস্থিত। পরিবর্তে, সেখানে একদল চিন্তিত হিন্দু পশুপালক দাঁড়িয়ে ঋণ এবং টিকে থাকার লড়াই নিয়ে আলোচনা করছেন।
৩৫ বছর বয়সী বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে, গয়না বন্ধক রেখে বা জমি লিজ দিয়ে গরু পালন করেছিলেন। আমার একারই প্রায় ১ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ আছে। পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ।’
৬৭ বছর বয়সী গোবিন্দ ঘোষের ১৫টি গরু এবং ১৫০টি মহিষ আছে। গোয়ালঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ২ কোটি টাকার ব্যাংক লোন আছে। এখানে ১২ জন শ্রমিক কাজ করেন। প্রত্যেকের বেতন ২২ হাজার টাকা। সঙ্গে খাওয়ার খরচ আছে। যদি কোনো সমাধান না হয়, তবে আমার পুরো পরিবারকে হয়তো আত্মহত্যা করতে হবে।’
‘১৪ বছরের নিয়ম’ কেন কৃষকদের আতঙ্কিত করছে
গরু সাধারণত সাত থেকে আট বছর পর দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। একটি গরুর রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৫০০ টাকা খরচ হয়—অর্থাৎ মাসে অন্তত ৯,০০০ টাকা। একটি গরু দুধ দেওয়া বন্ধ করার পর তাকে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখতে হলে অন্তত সাড়ে ৭ লাখ টাকা খরচ হবে।
১৪ বছরের গরু সাধারণত দুর্বল, রোগাক্রান্ত এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে মূল্যহীন হয়। কৃষকদের মতে, মাংসের জন্যও কেউ এমন পশু কিনবে না। আর এদের অনির্দিষ্টকাল বাঁচিয়ে রাখা অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব।
দুগ্ধ খামারিদের জন্য নতুন এই নিয়মের অর্থ দাঁড়ায়: একবার একটি গরু দুধ দেওয়া বন্ধ করলে সেটি আর কখনোই বিক্রি করা যাবে না।
অন্য যুগের একটি আইন
পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ মূলত একটি প্রাক-যান্ত্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে দুধের সরবরাহ এবং কৃষিকাজে পশুর শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ আর ১৯৫০-এর দশকের সেই কৃষিপ্রধান সমাজ নেই।
প্রাক্তন সিপিএম নেতা ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান রশিদ গাজী বলেন, ‘১৯৫০ সালে যখন এই আইন পাস হয়েছিল, তখন ট্রাক্টর ছিল না। হাল চাষের জন্য গরুর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখন কৃষিকাজ যান্ত্রিক। বর্তমানে গরু পালন করা হয় পুরোপুরি দুধ এবং মাংসের বাণিজ্যের জন্য। আপনি যদি একদিকের পথ বন্ধ করে দেন, তবে পুরো শৃংখলটিই ভেঙে পড়বে।’
ঝুঁকিতে গ্রামীণ অর্থনীতি
২০১৯ সালের প্রাণিসম্পদ শুমারি অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ১৯২ দশমিক ৯ মিলিয়ন গরু এবং ১০৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন মহিষ রয়েছে। ভারত বার্ষিক প্রায় ৯ থেকে সাড়ে ৯ মিলিয়ন টন গরুর মাংস (বেশিরভাগই মহিষের মাংস) উৎপাদন করে এবং ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৪৭৫ মিলিয়ন টন রপ্তানি করেছে। ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর মাংস রপ্তানিকারক।
পশ্চিমবঙ্গ নিজেই ভারতের বৃহত্তম গরুর মাংস উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি। সেখানে প্রায় সাড়ে ১২ মিলিয়ন গরু এবং দেড় মিলিয়ন মহিষ রয়েছে।
রাজ্যের সাপ্তাহিক পশুর হাটগুলো—যেমন শুনুকপাহাড়ি হাট, মায়াপুর গরুর হাট, ধোলা গরুর বাজার, বীরশিবপুর গরুহাট, বাগজোলা গরু হাট, পাঁশকুড়া গরু হাট, বিরহী গরুর বাজার, সামসি সাপ্তাহিক হাট, গোসাইপুর হাট এবং স্বরূপনগর হাট—প্রতি সপ্তাহে গ্রামীণ পশু বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকার জোগান দেয়।
অনেক দরিদ্র কৃষি পরিবারের কাছে, যাদের প্রথাগত ব্যাংকিং সুবিধা নেই। গবাদিপশু হলো তাদের নগদ সঞ্চয় বা আপদকালীন বিমার মতো—যা বিপদে বিক্রি করে তারা সংসার চালায়।
জাতিগত সমস্যা নিয়ে গবেষণা করা কুমার রানা বলেন, যদিও বাংলায় ঘোষ সম্প্রদায় গবাদিপশু পালনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যুক্ত, তবে অনেক গ্রামীণ সম্প্রদায়ই পশুপালনের ওপর তাদের প্রাথমিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হিসেবে নির্ভর করে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিজেপি নেতা অবনী মন্ডল পশুপালকদের মধ্যে বাড়তে থাকা অস্থিরতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৫০ সালের একটি আইন যা পূর্ববর্তী সরকারগুলো কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আমরা এখন আইনের শাসন বাস্তবায়ন করছি। স্বাভাবিকভাবেই কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমাদের তা কাটিয়ে উঠতে হবে।’
পশুপালকদের জন্য কোনো ত্রাণ ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো হয়নি, তবে দ্রুত কিছু একটা ভাবতে হবে।’
এদিকে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী আইনের ১২ নম্বর ধারার অধীনে ছাড় চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখেছেন। ১২ নম্বর ধারা ধর্মীয় কারণে পশু জবাইয়ের বিশেষ অনুমতি দেয়। চিঠিতে তিনি সতর্ক করেছেন যে, ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট পেতে দেরি এবং প্রশাসনিক বাধার কারণে দরিদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং কৃষকরা তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
মজার বিষয় হলো, অনেক মুসলিম সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী নওশাদ সিদ্দিকীর এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। অনলাইনে করা কমেন্টগুলোর মধ্যে ছিল—‘নওশাদ ভাই, আমাদের জন্য ভাবার দরকার নেই। আমরা এবার ঈদে গরু কোরবানি না দিয়ে খুশিতে আছি। পশুপালকরা আপনার দলের সমর্থক, তাদের জন্য বরং আপনি চিন্তা করুন।’
সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানাও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে ঈদের আগে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
কলকাতা হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, এই আইন কার্যকর করার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি করেছে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন। রাজ্য কমিটির নেতা মলয় তিওয়ারি বলেছেন, পিটিশনে একটি অন্তর্বর্তী আদেশের আবেদন জানানো হয়েছে যাতে ১৯৫০ সালের একটি অকেজো ও পুরনো আইনকে গো-রক্ষার নামে সাধারণ মানুষের জীবিকার বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।
একটি মামলায় পশুপালক ও দুগ্ধ খামারিদের পক্ষে আইনজীবী শামীম আহমেদ যুক্তি দিয়েছেন—‘রাষ্ট্র পর্যাপ্ত ভেটেরিনারি পরিকাঠামো বা সার্টিফিকেট ব্যবস্থার সুবিধা না রেখেই হঠাৎ করে একটি সুপ্ত আইন চালু করেছে। এটি ব্যবসায়ী, খামারি, চর্মশ্রমিক ও পরিবহন কর্মীদের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। যদি এই নিয়ম বলবৎ থাকে, তবে কৃষকরা দুধের জন্য গরু পালন বন্ধ করে দেবেন, কারণ একটি অনুৎপাদনশীল পশুকে মৃত্যু পর্যন্ত লালন-পালন করা তাদের পথে বসিয়ে দেবে।’
১৯৫০ সালের আইনের প্রভাব কেবল মাংসের অর্থনীতির ওপর সীমাবদ্ধ নয়। পশুখাদ্য সরবরাহকারী, ভেটেরিনারি ওষুধ, চামড়া শিল্প, কসাইখানা, রেস্তোরাঁ, পরিবহন কর্মী এবং গ্রামীণ শ্রমিক—সবাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অর্থাৎ প্রভাবটি এখন আর কেবল ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নয়; এটি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সভ্যতাগত।
এবং সবচেয়ে বড় পরিহাস সম্ভবত হলো এই— বাংলার ইতিহাসে এই প্রথমবার মুসলিম সমাজের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে গরু কোরবানির বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে হিন্দুত্বের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত হিন্দু পশুপালকদের একটি বড় অংশ ব্যাকুল হয়ে আশা করছে—গরু যেন কোরবানি হয়, যেভাবেই হোক!
(দ্য কুইন্ট থেকে অনূদিত)

পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন গরু নিয়ে ভিডিওতে সয়লাব। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুসলিম যুবকেরা হিন্দু গরু বিক্রেতাদের আটকে দিয়ে তাদের গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বলছেন। তারা বলছেন—‘কেন আপনি আপনার মাকে বিক্রি করতে এসেছেন? বাড়ি নিয়ে যান এর যত্ন করুন। আপনি গরু বিক্রি করে টাকা পাবেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের জেল খাটতে হবে।’
অন্য একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, মুসলিম যুবকেরা গবাদিপশু বোঝাই ট্রাক থামিয়ে চালকদের জেরা করছেন—‘কেন আপনি আপনার মাকে এভাবে বেঁধে অমানবিক উপায়ে নিয়ে যাচ্ছেন? পারলে সম্মানের সঙ্গে হাঁটিয়ে নিয়ে যান।’
একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন মুসলিম ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ এই কোরবানির ঈদে গরু না কেনার জন্য প্রকাশ্যে মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন।
এই ভিডিওগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু হৃদয়বিদারক ভিডিও দেখা যাচ্ছে, যেখানে হিন্দু গরুর খামারিরা জনশূন্য পশুর হাট থেকে কোনো আয় ছাড়াই বাড়ি ফিরছেন। তাদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তা ও হতাশার ছাপ স্পষ্ট।
অনেকেই এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে সরাসরি দায়ী করছেন। ‘জেন জি’ নেটিজেনরা এই পরিস্থিতিকে একটি ‘ইউএনও রিভার্স’ মুহূর্ত বলে অভিহিত করছেন। ইউএনও রিভার্স হচ্ছে বিখ্যাত কার্ড গেমের একটি রেফারেন্স, যেখানে হঠাৎ করে খেলোয়াড়দের ভূমিকা উল্টে যায়।
যে বিজ্ঞপ্তি এই সংকটের সূত্রপাত ঘটাল
গত ১৩ মে নবগঠিত বিজেপি সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ কঠোরভাবে কার্যকর করার ঘোষণা দেয়।
এই বিজ্ঞপ্তির পর হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী এবং পুলিশ রাস্তায় গবাদিপশু পরিবহনকারীদের আটকানো ও হয়রানি শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরপরই মুসলিম সংগঠনগুলো ঈদের জন্য গরু কেনা বয়কট করার প্রচারণা শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পশ্চিমবঙ্গের বাস্তবতা: মুসলিমরা মাংস খান, হিন্দুরা গরু পালন করেন
পশ্চিমবঙ্গের গবাদিপশু অর্থনীতি একটি ব্যতিক্রমি সামাজিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মূলত মুসলিমরা মাংসের দোকান পরিচালনা করেন। মুসলিমরা গরুর মাংস খান। তবে পশুপালক এবং বিক্রেতাদের সিংহভাগই হিন্দু—বিশেষ করে ‘ঘোষ’ সম্প্রদায়ের মানুষ। ঘোষরা পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যবসায়ী।
ঐতিহাসিকভাবে ঘোষ অধ্যুষিত এলাকাগুলো ছিল পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস-বিজেপির অন্যতম প্রাচীন এবং শক্তিশালী ঘাঁটি। এমনকি যখন বিধানসভায় বিজেপির কোনো বিধায়ক ছিল না, তখনও এই এলাকাগুলো তাদের পাশে ছিল। গত কয়েক দশকের বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সময় ঘোষ পাড়াগুলো মুসলিমবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পরিচিত ছিল।
অথচ পরিহাসের বিষয় হলো, বিজেপি সরকারের এই আইন কার্যকর করার অভিযানে সম্প্রদায়টিই প্রথম সর্বনাশের মুখে পড়েছে।
কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে মুসলিম সংগঠনগুলো তত বেশি গরুর বদলে ছাগল বা মহিষ কোরবানি করার আহ্বান জানাচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার হিন্দু গরুর খামারি চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন।
ঈদের আগে ফাঁকা পশুর হাট
সাধারণত ঈদের আগে পশ্চিমবঙ্গের পশুর হাটগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম আর শত শত গরু-মহিষের উপস্থিতিতে রাতভর উৎসবের পরিবেশ থাকে।
কিন্তু এ বছর অনেক হাটই নিস্তব্ধ। গত রোববার বিকেলের একটি হাটে, যেখানে সাধারণত ২০০-৩০০ পশু বিক্রি হয়, সেখানে মাত্র দুটি গরু দেখা গেছে। মুসলিম ক্রেতারা প্রায় পুরোপুরি অনুপস্থিত। পরিবর্তে, সেখানে একদল চিন্তিত হিন্দু পশুপালক দাঁড়িয়ে ঋণ এবং টিকে থাকার লড়াই নিয়ে আলোচনা করছেন।
৩৫ বছর বয়সী বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে, গয়না বন্ধক রেখে বা জমি লিজ দিয়ে গরু পালন করেছিলেন। আমার একারই প্রায় ১ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ আছে। পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ।’
৬৭ বছর বয়সী গোবিন্দ ঘোষের ১৫টি গরু এবং ১৫০টি মহিষ আছে। গোয়ালঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ২ কোটি টাকার ব্যাংক লোন আছে। এখানে ১২ জন শ্রমিক কাজ করেন। প্রত্যেকের বেতন ২২ হাজার টাকা। সঙ্গে খাওয়ার খরচ আছে। যদি কোনো সমাধান না হয়, তবে আমার পুরো পরিবারকে হয়তো আত্মহত্যা করতে হবে।’
‘১৪ বছরের নিয়ম’ কেন কৃষকদের আতঙ্কিত করছে
গরু সাধারণত সাত থেকে আট বছর পর দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। একটি গরুর রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিদিন প্রায় ৩০০-৫০০ টাকা খরচ হয়—অর্থাৎ মাসে অন্তত ৯,০০০ টাকা। একটি গরু দুধ দেওয়া বন্ধ করার পর তাকে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখতে হলে অন্তত সাড়ে ৭ লাখ টাকা খরচ হবে।
১৪ বছরের গরু সাধারণত দুর্বল, রোগাক্রান্ত এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে মূল্যহীন হয়। কৃষকদের মতে, মাংসের জন্যও কেউ এমন পশু কিনবে না। আর এদের অনির্দিষ্টকাল বাঁচিয়ে রাখা অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব।
দুগ্ধ খামারিদের জন্য নতুন এই নিয়মের অর্থ দাঁড়ায়: একবার একটি গরু দুধ দেওয়া বন্ধ করলে সেটি আর কখনোই বিক্রি করা যাবে না।
অন্য যুগের একটি আইন
পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ মূলত একটি প্রাক-যান্ত্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে দুধের সরবরাহ এবং কৃষিকাজে পশুর শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ আর ১৯৫০-এর দশকের সেই কৃষিপ্রধান সমাজ নেই।
প্রাক্তন সিপিএম নেতা ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান রশিদ গাজী বলেন, ‘১৯৫০ সালে যখন এই আইন পাস হয়েছিল, তখন ট্রাক্টর ছিল না। হাল চাষের জন্য গরুর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখন কৃষিকাজ যান্ত্রিক। বর্তমানে গরু পালন করা হয় পুরোপুরি দুধ এবং মাংসের বাণিজ্যের জন্য। আপনি যদি একদিকের পথ বন্ধ করে দেন, তবে পুরো শৃংখলটিই ভেঙে পড়বে।’
ঝুঁকিতে গ্রামীণ অর্থনীতি
২০১৯ সালের প্রাণিসম্পদ শুমারি অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ১৯২ দশমিক ৯ মিলিয়ন গরু এবং ১০৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন মহিষ রয়েছে। ভারত বার্ষিক প্রায় ৯ থেকে সাড়ে ৯ মিলিয়ন টন গরুর মাংস (বেশিরভাগই মহিষের মাংস) উৎপাদন করে এবং ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৪৭৫ মিলিয়ন টন রপ্তানি করেছে। ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর মাংস রপ্তানিকারক।
পশ্চিমবঙ্গ নিজেই ভারতের বৃহত্তম গরুর মাংস উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি। সেখানে প্রায় সাড়ে ১২ মিলিয়ন গরু এবং দেড় মিলিয়ন মহিষ রয়েছে।
রাজ্যের সাপ্তাহিক পশুর হাটগুলো—যেমন শুনুকপাহাড়ি হাট, মায়াপুর গরুর হাট, ধোলা গরুর বাজার, বীরশিবপুর গরুহাট, বাগজোলা গরু হাট, পাঁশকুড়া গরু হাট, বিরহী গরুর বাজার, সামসি সাপ্তাহিক হাট, গোসাইপুর হাট এবং স্বরূপনগর হাট—প্রতি সপ্তাহে গ্রামীণ পশু বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকার জোগান দেয়।
অনেক দরিদ্র কৃষি পরিবারের কাছে, যাদের প্রথাগত ব্যাংকিং সুবিধা নেই। গবাদিপশু হলো তাদের নগদ সঞ্চয় বা আপদকালীন বিমার মতো—যা বিপদে বিক্রি করে তারা সংসার চালায়।
জাতিগত সমস্যা নিয়ে গবেষণা করা কুমার রানা বলেন, যদিও বাংলায় ঘোষ সম্প্রদায় গবাদিপশু পালনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যুক্ত, তবে অনেক গ্রামীণ সম্প্রদায়ই পশুপালনের ওপর তাদের প্রাথমিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হিসেবে নির্ভর করে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিজেপি নেতা অবনী মন্ডল পশুপালকদের মধ্যে বাড়তে থাকা অস্থিরতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৫০ সালের একটি আইন যা পূর্ববর্তী সরকারগুলো কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আমরা এখন আইনের শাসন বাস্তবায়ন করছি। স্বাভাবিকভাবেই কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমাদের তা কাটিয়ে উঠতে হবে।’
পশুপালকদের জন্য কোনো ত্রাণ ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো হয়নি, তবে দ্রুত কিছু একটা ভাবতে হবে।’
এদিকে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী আইনের ১২ নম্বর ধারার অধীনে ছাড় চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখেছেন। ১২ নম্বর ধারা ধর্মীয় কারণে পশু জবাইয়ের বিশেষ অনুমতি দেয়। চিঠিতে তিনি সতর্ক করেছেন যে, ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট পেতে দেরি এবং প্রশাসনিক বাধার কারণে দরিদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং কৃষকরা তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
মজার বিষয় হলো, অনেক মুসলিম সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী নওশাদ সিদ্দিকীর এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। অনলাইনে করা কমেন্টগুলোর মধ্যে ছিল—‘নওশাদ ভাই, আমাদের জন্য ভাবার দরকার নেই। আমরা এবার ঈদে গরু কোরবানি না দিয়ে খুশিতে আছি। পশুপালকরা আপনার দলের সমর্থক, তাদের জন্য বরং আপনি চিন্তা করুন।’
সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানাও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে ঈদের আগে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
কলকাতা হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, এই আইন কার্যকর করার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি করেছে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন। রাজ্য কমিটির নেতা মলয় তিওয়ারি বলেছেন, পিটিশনে একটি অন্তর্বর্তী আদেশের আবেদন জানানো হয়েছে যাতে ১৯৫০ সালের একটি অকেজো ও পুরনো আইনকে গো-রক্ষার নামে সাধারণ মানুষের জীবিকার বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।
একটি মামলায় পশুপালক ও দুগ্ধ খামারিদের পক্ষে আইনজীবী শামীম আহমেদ যুক্তি দিয়েছেন—‘রাষ্ট্র পর্যাপ্ত ভেটেরিনারি পরিকাঠামো বা সার্টিফিকেট ব্যবস্থার সুবিধা না রেখেই হঠাৎ করে একটি সুপ্ত আইন চালু করেছে। এটি ব্যবসায়ী, খামারি, চর্মশ্রমিক ও পরিবহন কর্মীদের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। যদি এই নিয়ম বলবৎ থাকে, তবে কৃষকরা দুধের জন্য গরু পালন বন্ধ করে দেবেন, কারণ একটি অনুৎপাদনশীল পশুকে মৃত্যু পর্যন্ত লালন-পালন করা তাদের পথে বসিয়ে দেবে।’
১৯৫০ সালের আইনের প্রভাব কেবল মাংসের অর্থনীতির ওপর সীমাবদ্ধ নয়। পশুখাদ্য সরবরাহকারী, ভেটেরিনারি ওষুধ, চামড়া শিল্প, কসাইখানা, রেস্তোরাঁ, পরিবহন কর্মী এবং গ্রামীণ শ্রমিক—সবাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অর্থাৎ প্রভাবটি এখন আর কেবল ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নয়; এটি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সভ্যতাগত।
এবং সবচেয়ে বড় পরিহাস সম্ভবত হলো এই— বাংলার ইতিহাসে এই প্রথমবার মুসলিম সমাজের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে গরু কোরবানির বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে হিন্দুত্বের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত হিন্দু পশুপালকদের একটি বড় অংশ ব্যাকুল হয়ে আশা করছে—গরু যেন কোরবানি হয়, যেভাবেই হোক!
(দ্য কুইন্ট থেকে অনূদিত)

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ এর বরাতে এ খবর জানায় আল জাজিরা।
১ ঘণ্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের ঘোষপাড়ার গরু খামারি সাধন ঘোষ। নিজের গোয়াল ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, তাঁর আর কোনো পথ খোলা নেই। স্থানীয় এক মহাজনের কাছ থেকে তিনি ৪ শতাংশ সুদে ৫ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, নিজের ১০টি গরুর মধ্যে ৯টি বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করবেন।
৪ ঘণ্টা আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে কথিত গরু পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে বিজেপি ও সংঘ পরিবার। কাটোয়ায় সেই অভিযান রূপ নেয় সহিংসতায়।
৫ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, ইরান বিষয়ে কীভাবে এগোনো উচিত, তা নিয়ে দুই নেতার মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
৬ ঘণ্টা আগে