স্ট্রিম ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে কথিত গরু পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে বিজেপি ও সংঘ পরিবার। কাটোয়ায় সেই অভিযান রূপ নেয় সহিংসতায়।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় (১২ মে) পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে চার মুসলিম যুবককে নির্মমভাবে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতারা, যাদের সঙ্গে বজরং দলের সদস্যরাও ছিলেন। হামলাকারীদের সন্দেহ ছিল, ওই চারজন গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত।
কাটোয়া একটি প্রাচীন শহর। সেখানকার বাসিন্দারা সাধারণত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস নিয়ে গর্ব করেন। শহরের অতীতের সঙ্গে এই সহিংসতাকে তারা মেলাতে পারছেন না। কাটোয়ার সাবেক বিধায়ক ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় দ্য ওয়্যারকে বলেন, ‘সরকার শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এরা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে। আমাদের শহরে এরকম লজ্জাজনক ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।’
কাটোয়ার মাধাইতলা এলাকার বাসিন্দা রাহুল দত্ত নিজেকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘দুপুরের দিকে পাঁচজন লোক ১৫–২০টি গরু নিয়ে মূল সড়ক ধরে গঙ্গার ঘাটের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ সেখানে জড়ো হওয়া একদল লোক তাদের ঘিরে ধরে মারতে শুরু করে। অনেকক্ষণ ধরে মারধর চলে।’
পাঁচজনের একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর হামলাকারীরা বাকি চারজনকে রাস্তার পাশে একটি স্থানীয় ক্লাবঘরের সামনে বসিয়ে রাখে এবং পুলিশ ডাকে বলে জানান দত্ত। তখন পর্যন্ত চারজনই গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত ছিলেন। পুলিশ আসার পরেও তাদের মারধর করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর পুলিশ আহতদের নিয়ে যায়। কাটোয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, ১২ মে ঘটনার পর আহত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও ১৫ মে তারা জামিনে মুক্তি পান।
হামলাকারীদের দাবি, গরু পরিবহনের অনুমতিপত্র না থাকাই প্রমাণ করে যে সেগুলো নদিয়া হয়ে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, গরুগুলো নদিয়ার একটি শহরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ওই লোকদের ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। হামলার পর গরুর আসল ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে এসে খোঁজ নেওয়ার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পারেন।
এক ব্যবসায়ী বলেন, এলাকায় গরু পরিবহন খুবই সাধারণ ঘটনা। ‘কৈচরসহ কয়েকটি এলাকায় বহু পুরনো গরুর হাট আছে। মানুষ সেখান থেকে গরু কিনে নদীপথে নৌকায় করে পাশের নদিয়া জেলায় নিয়ে যায়। ঐতিহ্যগতভাবে এই ব্যবসা কৃষিকাজ ও দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এখন বলা হচ্ছে এসব গরু নাকি বাংলাদেশে পাচার হয়। কিন্তু সীমান্ত তো বিএসএফ পাহারা দেয়। যদি পাচার হয়, তাহলে তাদের আটকানো উচিত নয়?’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপির সহসভাপতি সীমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘অবৈধ গরু পাচার ঠেকাতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। শুধু বিএসএফকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এসব পাচারকারী সীমান্তের গোপন পথ ব্যবহার করে। এভাবেই তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আমরা গরু পাচার বন্ধ করব। এখন থেকে বজরং দলের কর্মীরা এলাকার সব নদীর ঘাট পাহারা দেবে।’
কাটোয়া থানায় পুলিশের বক্তব্য জানতে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ এ ব্যাপারে বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
কাটোয়া কৃষিনির্ভর এলাকা, যেখানে পশুপালন দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ গরু পালন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
গবাদিপশুর হাটে ক্রেতাদের কেনা গরুর জন্য সরকারি অনুমতিপত্র দেওয়া হয়। পরে অনেক ক্রেতা সেগুলো বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করেন।
আরেক স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী এনায়েত আলি বলেন, ‘আমাদের পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ব্যবসায় আছে। আমরা রাতে ২৫–৩০ কিলোমিটার গরুর পাল নিয়ে হেঁটে যাই, দিনে বিশ্রাম নিই, তারপর আবার রাতে হাঁটি। রাতে চলাফেরা সহজ, কারণ রাস্তায় ভিড় কম থাকে। পুলিশ থামালে সাধারণত কিছু টাকা নেয়, তারপর যেতে দেয়।’
আলি বলেন, পরিবহনের অনুমতিপত্র রাখা সাধারণ বিষয় হলেও অনেক পরিবহনকারী খরচ বাঁচাতে সেটি করেন না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা গরু পাচার করছে।
কাটোয়ার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘পাচার আর চলবে না। ১৪ বছরের কম বয়সী গরু বিক্রি করা যাবে না। আর কয়েক দিন অপেক্ষা করুন, দেখবেন আরও কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’
তবে সহিংসতা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে কথিত গরু পাচারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের কর্মীরা।
১৪ মে রাজ্য সরকার জবাইয়ের জন্য গবাদিপশুর ক্ষেত্রে ‘ফিট ফর স্লটার’ সনদ বাধ্যতামূলক করে। একই সঙ্গে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ষাঁড়, বলদ, গাভী, বাছুর, মহিষ, মহিষের বাছুর ও নির্বীর্য মহিষ—সনদ থাকলেও—সর্বসমক্ষে জবাই নিষিদ্ধ করা হয়।
বর্ধমান শহরে গরু পরিবহনকারী একটি দলকে আটকে হয়রানি করা হয়। বীরভূমেও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় বিজেপি নেতারা সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা দেন, ১৭ মের পর শুধু গরু পাচার নয়, গরুর মাংস বিক্রি বা প্রকাশ্যে কসাইখানা পরিচালনাও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
১৪ মে বীরভূমের গরুর হাটগুলোর মালিকদের পুলিশ মৌখিকভাবে হাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামীণ বাংলায় ঘোষ সম্প্রদায়ের বহু নিম্নআয়ের পরিবার দুগ্ধ খামারের ওপর নির্ভরশীল। মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের দুগ্ধ খামারি অপূর্ব ঘোষ বলেন, ‘গরু পালনই আমাদের জীবিকা। সারা রাজ্যে প্রায় এক লাখ পরিবার দুধ বিক্রি করে চলে। আমাদের পাঁচটি গরু আছে, যেগুলো প্রতিদিন ১৯–২০ কেজি দুধ দেয়।’
অপূর্ব বলেন, একটি গরু সর্বোচ্চ ২০–২১ বছর বাঁচে। ‘বয়স বাড়লে দুধ কমে যায়। তখন আমরা গরু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। ষাঁড় বাছুরও বিক্রি করতে হয়, কারণ তারা দুধ দেয় না। গরু পালন খুব ব্যয়বহুল। যদি এসব গরু বিক্রি করতে না পারি, তাহলে ভয়াবহ চাপে পড়ব,’ তিনি বলেন।
খড়গ্রামের গরু ব্যবসায়ী নিজামুদ্দিনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ‘আমরা মূলত এসব গরু কিনে হাটে বিক্রি করি, যেখানে মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী কিনে নেয়। যারা মাংসের জন্য গরু কেনে, তারা সাধারণত ১২–১৩ বছরের বেশি বয়সী পশু পছন্দ করে। শুনছি সরকার কম বয়সী গরু জবাই নিষিদ্ধ করবে। তাহলে আমাদের মতো যারা এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের কী হবে’।
কাটোয়া থেকে দাইহাট—গঙ্গার ঘাটজুড়ে এখন উড়ছে বিজেপির পতাকা। কোথাও পুলিশ টহল দিচ্ছে, কোথাও সংঘ পরিবারের কর্মীরাই পাহারা দিচ্ছে।
কিন্তু পশুপালন যেহেতু গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, তাই গরুর ব্যবসায় ধর্মীয় বিধিনিষেধ বাড়তে থাকায় আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গবাদিপশু বিক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কাটোয়ার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, ‘বিজেপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, তারা সবার উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন। আশা করি তারা আমাদের সমস্যাও বুঝবেন এবং বৈধভাবে জীবিকা অর্জনে বাধা দেবেন না।’
(দ্য ওয়্যার থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে কথিত গরু পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে বিজেপি ও সংঘ পরিবার। কাটোয়ায় সেই অভিযান রূপ নেয় সহিংসতায়।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় (১২ মে) পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে চার মুসলিম যুবককে নির্মমভাবে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতারা, যাদের সঙ্গে বজরং দলের সদস্যরাও ছিলেন। হামলাকারীদের সন্দেহ ছিল, ওই চারজন গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত।
কাটোয়া একটি প্রাচীন শহর। সেখানকার বাসিন্দারা সাধারণত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস নিয়ে গর্ব করেন। শহরের অতীতের সঙ্গে এই সহিংসতাকে তারা মেলাতে পারছেন না। কাটোয়ার সাবেক বিধায়ক ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় দ্য ওয়্যারকে বলেন, ‘সরকার শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এরা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে। আমাদের শহরে এরকম লজ্জাজনক ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।’
কাটোয়ার মাধাইতলা এলাকার বাসিন্দা রাহুল দত্ত নিজেকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘দুপুরের দিকে পাঁচজন লোক ১৫–২০টি গরু নিয়ে মূল সড়ক ধরে গঙ্গার ঘাটের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ সেখানে জড়ো হওয়া একদল লোক তাদের ঘিরে ধরে মারতে শুরু করে। অনেকক্ষণ ধরে মারধর চলে।’
পাঁচজনের একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর হামলাকারীরা বাকি চারজনকে রাস্তার পাশে একটি স্থানীয় ক্লাবঘরের সামনে বসিয়ে রাখে এবং পুলিশ ডাকে বলে জানান দত্ত। তখন পর্যন্ত চারজনই গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত ছিলেন। পুলিশ আসার পরেও তাদের মারধর করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর পুলিশ আহতদের নিয়ে যায়। কাটোয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, ১২ মে ঘটনার পর আহত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও ১৫ মে তারা জামিনে মুক্তি পান।
হামলাকারীদের দাবি, গরু পরিবহনের অনুমতিপত্র না থাকাই প্রমাণ করে যে সেগুলো নদিয়া হয়ে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, গরুগুলো নদিয়ার একটি শহরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ওই লোকদের ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। হামলার পর গরুর আসল ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে এসে খোঁজ নেওয়ার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পারেন।
এক ব্যবসায়ী বলেন, এলাকায় গরু পরিবহন খুবই সাধারণ ঘটনা। ‘কৈচরসহ কয়েকটি এলাকায় বহু পুরনো গরুর হাট আছে। মানুষ সেখান থেকে গরু কিনে নদীপথে নৌকায় করে পাশের নদিয়া জেলায় নিয়ে যায়। ঐতিহ্যগতভাবে এই ব্যবসা কৃষিকাজ ও দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এখন বলা হচ্ছে এসব গরু নাকি বাংলাদেশে পাচার হয়। কিন্তু সীমান্ত তো বিএসএফ পাহারা দেয়। যদি পাচার হয়, তাহলে তাদের আটকানো উচিত নয়?’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপির সহসভাপতি সীমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘অবৈধ গরু পাচার ঠেকাতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। শুধু বিএসএফকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এসব পাচারকারী সীমান্তের গোপন পথ ব্যবহার করে। এভাবেই তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আমরা গরু পাচার বন্ধ করব। এখন থেকে বজরং দলের কর্মীরা এলাকার সব নদীর ঘাট পাহারা দেবে।’
কাটোয়া থানায় পুলিশের বক্তব্য জানতে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ এ ব্যাপারে বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
কাটোয়া কৃষিনির্ভর এলাকা, যেখানে পশুপালন দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ গরু পালন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
গবাদিপশুর হাটে ক্রেতাদের কেনা গরুর জন্য সরকারি অনুমতিপত্র দেওয়া হয়। পরে অনেক ক্রেতা সেগুলো বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করেন।
আরেক স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী এনায়েত আলি বলেন, ‘আমাদের পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ব্যবসায় আছে। আমরা রাতে ২৫–৩০ কিলোমিটার গরুর পাল নিয়ে হেঁটে যাই, দিনে বিশ্রাম নিই, তারপর আবার রাতে হাঁটি। রাতে চলাফেরা সহজ, কারণ রাস্তায় ভিড় কম থাকে। পুলিশ থামালে সাধারণত কিছু টাকা নেয়, তারপর যেতে দেয়।’
আলি বলেন, পরিবহনের অনুমতিপত্র রাখা সাধারণ বিষয় হলেও অনেক পরিবহনকারী খরচ বাঁচাতে সেটি করেন না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা গরু পাচার করছে।
কাটোয়ার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘পাচার আর চলবে না। ১৪ বছরের কম বয়সী গরু বিক্রি করা যাবে না। আর কয়েক দিন অপেক্ষা করুন, দেখবেন আরও কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’
তবে সহিংসতা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে কথিত গরু পাচারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের কর্মীরা।
১৪ মে রাজ্য সরকার জবাইয়ের জন্য গবাদিপশুর ক্ষেত্রে ‘ফিট ফর স্লটার’ সনদ বাধ্যতামূলক করে। একই সঙ্গে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ষাঁড়, বলদ, গাভী, বাছুর, মহিষ, মহিষের বাছুর ও নির্বীর্য মহিষ—সনদ থাকলেও—সর্বসমক্ষে জবাই নিষিদ্ধ করা হয়।
বর্ধমান শহরে গরু পরিবহনকারী একটি দলকে আটকে হয়রানি করা হয়। বীরভূমেও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় বিজেপি নেতারা সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা দেন, ১৭ মের পর শুধু গরু পাচার নয়, গরুর মাংস বিক্রি বা প্রকাশ্যে কসাইখানা পরিচালনাও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
১৪ মে বীরভূমের গরুর হাটগুলোর মালিকদের পুলিশ মৌখিকভাবে হাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামীণ বাংলায় ঘোষ সম্প্রদায়ের বহু নিম্নআয়ের পরিবার দুগ্ধ খামারের ওপর নির্ভরশীল। মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের দুগ্ধ খামারি অপূর্ব ঘোষ বলেন, ‘গরু পালনই আমাদের জীবিকা। সারা রাজ্যে প্রায় এক লাখ পরিবার দুধ বিক্রি করে চলে। আমাদের পাঁচটি গরু আছে, যেগুলো প্রতিদিন ১৯–২০ কেজি দুধ দেয়।’
অপূর্ব বলেন, একটি গরু সর্বোচ্চ ২০–২১ বছর বাঁচে। ‘বয়স বাড়লে দুধ কমে যায়। তখন আমরা গরু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। ষাঁড় বাছুরও বিক্রি করতে হয়, কারণ তারা দুধ দেয় না। গরু পালন খুব ব্যয়বহুল। যদি এসব গরু বিক্রি করতে না পারি, তাহলে ভয়াবহ চাপে পড়ব,’ তিনি বলেন।
খড়গ্রামের গরু ব্যবসায়ী নিজামুদ্দিনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ‘আমরা মূলত এসব গরু কিনে হাটে বিক্রি করি, যেখানে মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী কিনে নেয়। যারা মাংসের জন্য গরু কেনে, তারা সাধারণত ১২–১৩ বছরের বেশি বয়সী পশু পছন্দ করে। শুনছি সরকার কম বয়সী গরু জবাই নিষিদ্ধ করবে। তাহলে আমাদের মতো যারা এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের কী হবে’।
কাটোয়া থেকে দাইহাট—গঙ্গার ঘাটজুড়ে এখন উড়ছে বিজেপির পতাকা। কোথাও পুলিশ টহল দিচ্ছে, কোথাও সংঘ পরিবারের কর্মীরাই পাহারা দিচ্ছে।
কিন্তু পশুপালন যেহেতু গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, তাই গরুর ব্যবসায় ধর্মীয় বিধিনিষেধ বাড়তে থাকায় আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গবাদিপশু বিক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কাটোয়ার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, ‘বিজেপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, তারা সবার উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন। আশা করি তারা আমাদের সমস্যাও বুঝবেন এবং বৈধভাবে জীবিকা অর্জনে বাধা দেবেন না।’
(দ্য ওয়্যার থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের ঘোষপাড়ার গরু খামারি সাধন ঘোষ। নিজের গোয়াল ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, তাঁর আর কোনো পথ খোলা নেই। স্থানীয় এক মহাজনের কাছ থেকে তিনি ৪ শতাংশ সুদে ৫ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, নিজের ১০টি গরুর মধ্যে ৯টি বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করবেন।
২ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, ইরান বিষয়ে কীভাবে এগোনো উচিত, তা নিয়ে দুই নেতার মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নির্ধারিত করিডোর দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ২৬টি জাহাজ চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল ফের চালু নিয়ে স্থবিরতার মধ্যে এই তথ্য দিল বাহিনীটি। খবর আল-জাজিরার।
৪ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার পর দেশটির নতুন নেতা হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল।
১৬ ঘণ্টা আগে