‘ইরানের করিডর দিয়ে একদিনে হরমুজ পার ২৬ জাহাজ’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১০: ০১
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নির্ধারিত করিডোর দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ২৬টি জাহাজ চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল ফের চালু নিয়ে স্থবিরতার মধ্যে এই তথ্য দিল বাহিনীটি। খবর আল-জাজিরার।

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আইআরজিসি নৌবাহিনীর অনুমতি ও সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

পরে ইরানের পারস্য উপসাগর স্ট্রেইট অথরিটি (পিজিএসএ) সামাজিক মাধ্যম এক্সে হরমুজে জাহাজ চলাচলে একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে হরমুজ প্রণালির পূর্ব প্রবেশমুখে ইরানের কুহ-এ মোবারক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহর দক্ষিণ পর্যন্ত এবং পশ্চিম প্রবেশমুখে কেশম দ্বীপের প্রান্ত থেকে উম্ম আল-কুয়াইন পর্যন্ত দুটি পথ চিহ্নিত করা হয়েছে।

পিজিএসএ জানিয়েছে, এই পথ ছাড়া হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলতে পারবে না। সেখানেও ইরানের অনুমোদন নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলার আগে বৈশ্বিক জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। যুদ্ধ শুরুর পর প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। দেশটি জাহাজগুলোকে সতর্ক করে দেয়, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শুরু হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের বন্ধ করে দেয় ইরান। জবাবে ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ শুরু করে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, ইরানি বন্দরে যাওয়া বা সেখান থেকে কোনো জাহাজ বের হতে পারবে না।

মূলত ইরানের তেল বিক্রি বন্ধ করে চাপ সৃষ্টির জন্য ওই অবরোধ করে মার্কিন বাহিনী। তবে ইরান এতে দমেনি। তারা আগের মতোই হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে।

এর মধ্যে গত মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর জন্য সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেন। কিন্তু ইরানের ড্রোন, নৌ-মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

এদিকে, এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বাড়িয়েছে।

বুধবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সতর্ক করেছে, এই অবরোধ আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে গুরুতর বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে। রোমভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, এটি শুধু নৌপরিবহন বা জ্বালানি বাজারের সমস্যা নয়। এই ধাক্কা ধাপে ধাপে বৈশ্বিক কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত