আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল ইসরায়েল: নিউইয়র্ক টাইমস

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ২২: ০৪
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার পর দেশটির নতুন নেতা হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল। বুধবার (২০ মে) এ খবর জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানো ছিল ইসরাইলের কল্পিত বহুধাপের যুদ্ধ পরিকল্পনার একটি অংশ। এ বিষয়ে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যা করা। একইসঙ্গে ইরাকের কুর্দি বাহিনীকে সক্রিয় করার পরিকল্পনা ছিল। তবে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা।

ইসরায়েলের ধারণা ছিল, ইরানে ক্রমাগত আক্রমণের ফলে শাসনব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। রাজনৈতিক চাপ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতির কারণে সরকার ভেঙে পড়বে। এরপর একটি ‘বিকল্প সরকার’ ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় মোসাদ।

টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে আহমাদিনেজাদের বাসভবনে হামলা চালানো হয়। প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে ধারণা করা হলেও হামলা হয়েছে আইআরজিসি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে। তারা আহমাদিনেজাদের গৃহবন্দির দায়িত্বে ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহমাদিনেজাদের সঙ্গে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও তাকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল তা জানা যায়নি।

হামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টকে মুক্ত করতে সফল হলেও তিনি আহত হন। পরে তিনি এই পরিকল্পনা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন বলে জানা যায়। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এবং তার অবস্থানও অজানা।

আহমাদিনেজাদের এক সহযোগী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করেছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট দেশটির ‘রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক পরিস্থিতি’ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, তাকে পুনরায় নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সঙ্গে মিল রয়েছে। মার্কিন সেনারা তখনকার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করলেও কারাকাসের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা বহাল রাখে।

টাইমসের তথ্যমতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অভিযানের মডেল অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন।

কট্টর ইসরায়েলবিরোধী রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত আহমাদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি হলোকাস্ট অস্বীকার করেন। পাশাপাশি ইসরায়েল ধ্বংসের আহ্বান জানান।

ক্ষমতা ছাড়ার পর আহমাদিনেজাদকে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার সমালোচক হয়ে ওঠেন এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও দুর্বল শাসনের অভিযোগ তোলেন।

আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়।

২০২৩ সালে গুয়াতেমালায় তার সফর এবং পরবর্তীতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হাঙ্গেরি সফর নতুন করে জল্পনার জন্ম দেয়।

টাইমসের এই প্রতিবেদন এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান সরকারের প্রতি তার ধৈর্য শেষ হয়ে আসছে।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জানান, তারা ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ইরানের আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে, পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতে, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নষ্ট করতে। পাশাপাশি ইরানের জনগণের নিজেদের শাসককে উৎখাতের পরিবেশ তৈরি করতে।

হামলার জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একইসঙ্গে দেশটি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে।

বছরের শুরুতে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পড়া ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির ধর্মীয় নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত হামলা মোকাবিলা করে টিকে রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত