অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৩৫
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সংগৃহীত ছবি
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সংগৃহীত ছবি

উপযুক্ত সময় বা পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তবে দ্বিপাক্ষিক এ সফরের জন্য কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখন আবার আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। দেখা যাক কী হয়। উপযুক্ত সময় ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন।’

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) আগে সফরটি হতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা থেমে গেছে—এমন ধারণা নাকচ করে দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলেই আলোচনা বন্ধ হয়ে গেছে, এমনটা নয়। আমরা এখনো তারিখ চূড়ান্ত করিনি, তবে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলমান ছিল।’

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর বাংলাদেশ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। ওই ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, যা দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টার জন্য সহায়ক নয়। এ বিষয়ে ঢাকা তার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তখন ভারত জানিয়েছিল, অনুষ্ঠানটি বেসরকারি একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছিল এবং এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।’

ভারতের নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে গত ২৯ আগস্ট একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার হওয়ার কথা ছিল। পরে দিল্লি পুলিশ সেটি বাতিল করে দেয়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে হুমায়ুন কবির ঘটনাটিকে ভারতের একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ধরনের পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের কেউই অন্য দেশে সন্ত্রাসবাদ বা গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় বা কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেবে না—এমনটাই ঢাকা প্রত্যাশা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে আমরা যেমন ঢাকায় আশ্রয় দেব না, তেমনি আমরা প্রত্যাশা করি, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীকে দিল্লি বা ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অন্য কোথাও আশ্রয় দেওয়া হবে না।’

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা আশা করি, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই, এ ধরনের পদক্ষেপ পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টিতে সহায়তা করে। সুতরাং, পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা দেখা যাক। তবে, এটি নিঃসন্দেহে ভারত সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।’

এ সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী। অ্যাভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কোনো চাপের মুখে অথবা অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, কোনো চাপের কারণে নয়।’

বাংলাদেশে এয়ারক্রাফট ফ্লিটের (বিমানের বহর) সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তা না হলে নতুন রুট চালু করা সম্ভব হবে না ও ব্যবসা হারাতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে রাজস্ব ও যাত্রীসংখ্যা বাড়াতে হলে দীর্ঘ মেয়াদে এয়ারক্রাফট কিনতেই হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে, নাকি প্রাথমিক আলোচনা—এ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, ওয়াশিংটনের সঙ্গে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আবার বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বৈদেশিক সম্পর্কে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার চলছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। তাই তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও উড়োজাহাজ কেনাকাটা করা হবে।

আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিগতভাবে বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত