জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অর্থ আদায়ের পথে ইরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৬, ২৩: ৪১
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ। ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগিয়ে সেখান দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিনিময়ে অর্থ আদায়ের দিকে এগোচ্ছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোন দেশের জাহাজ কী শর্তে চলাচল করবে, তা এখন তেহরানই নিয়ন্ত্রণ করছে।

সিএনএনকে ইরানি সূত্র জানিয়েছে, ‘আমরা ইসরায়েলকে অবদমিত করা অব্যাহত রাখব এবং হরমুজ প্রণালিতে নতুন আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করব।’ মূলত প্রতিটি তেলের ট্যাংকার পারাপারের জন্য প্রায় ২০ লাখ ডলার (২ মিলিয়ন) করে ফি আদায়ের খবরের দিকেই ইঙ্গিত করেছে ওই সূত্র।

ওই সূত্র আরও জানায়, যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের উচিত ‘ইরানের শর্ত মেনে নেওয়া’, অন্যথায় তাঁকে রাজনৈতিক আত্মহত্যার ঝুঁকিতে পড়তে হবে। সূত্র বলে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ চাপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দামের মুখে ট্রাম্পের উচিত নেতানিয়াহুর পাতা ফাঁদ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা এবং ইরানের শর্তগুলো মেনে নেওয়া। তিনি যদি ইরানকে প্রয়োজনীয় ছাড় না দেন, তবে এমন এক অন্তহীন পথে প্রবেশ করবেন, যা তাঁর পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে বাজির মুখে ফেলে দেবে।’

এর আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার (২১ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইরান যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত করে গুঁড়িয়ে দেবে। আর সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিয়েই এই হামলা শুরু হবে। গত শুক্রবার ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিলেও তাঁর এই নতুন হুমকি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

ট্রাম্পের এই আল্টিমেটামের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রোববার (২২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ‘অপূরণীয়ভাবে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হলে আঞ্চলিক অবকাঠামোগুলোও তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হবে এবং এই প্রতিশোধের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বহুগুণ বেড়ে যাবে।

সম্পর্কিত