‘ইসরায়েলসহ পশ্চিমাদের বাঁচাতেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোকে রক্ষা করতেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ট্রাম্প বলেন, ইরান ইসরায়েলকে ধ্বংস করার পর মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো এবং পরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা ছিল। এ কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করছে ওয়াশিংটন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এটা করছি মধ্যপ্রাচ্যকে সাহায্য করতে। ইসরায়েলকে সাহায্য করতে। নিজেদের সাহায্য করতে। কারণ তারা ইসরায়েলকে ধ্বংস করার পর মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং আমাদের কিছু শহরের দিকে আসত।’

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব ভালো করছে’ বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

এর আগে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেএএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলিদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। জানেন কেন? কারণ আমি প্রেসিডেন্ট এবং আমি ইসরায়েলের দেখাশোনা করব।’

প্রায় এক মাসের বিরতির পর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার মধ্যেই এসব মন্তব্য করলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ইরানের লারাক দ্বীপে আইআরজিসির রকেট লঞ্চারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান।

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ। ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ। ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন পাহারায় হরমুজ পার হলো ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল

এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএন জানিয়েছে, মঙ্গলবার ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বহনকারী ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিয়ে প্রণালি পার করে দেয় মার্কিন বাহিনী। চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটিই এ ধরনের সামরিক পাহারায় সবচেয়ে বড় তেল পারাপারের অভিযান।

তেল পারাপারে এই প্রক্রিয়া চলাকালে প্রণালির আশপাশে প্রায় ৬০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা। মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্ততে ছিল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা, মাইন স্থাপনের সরঞ্জাম ও যোগাযোগব্যবস্থা। কয়েকটি জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন হতো। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, সোমবার প্রণালিটি দিয়ে ১৭ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল পরিবাহিত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছেন ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেন, ‘এখন আমরা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি। এটি আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি।’ ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রণালিটির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখাও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নাকচ করেছে। তাদের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালি ‘খোলা’ থাকার দাবি করে ওয়াশিংটন তেলের বাজারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এবং নিজেদের সামরিক ব্যর্থতা আড়াল করছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতেই তারা মাইন অপসারণ এবং ইরানি সামরিক স্থাপনায় আগাম হামলা চালাচ্ছে। তবে হরমুজের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত