নেপাল-তিব্বতে প্রাণহানি বেড়ে ১২২৫, নিখোঁজ ৪ হাজার ৭৫৭ জন

>> এক সপ্তাহ পরও ধংসস্তূপের কাদাপাথরের তলায় জীবনের সন্ধান করছেন উদ্ধারকারীরা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ০০
কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের বাইরে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে টাঙানো ছবি দেখছেন স্বজনেরা। ছবি: রয়টার্স
কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের বাইরে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে টাঙানো ছবি দেখছেন স্বজনেরা। ছবি: রয়টার্স

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১ হাজার ২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ ৪ হাজার ৭৫৭ জন। দুর্যোগের এক সপ্তাহ পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে ও পাহাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকা মানুষের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জন। অন্যদিকে তিব্বতে মারা গেছেন ২১ জন এবং নিখোঁজ আরও ৫৪১ জন। নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে এখন জীবিত কাউকে উদ্ধারের সবচেয়ে বড় আশা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়েকটি টানেলকে ঘিরে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২১ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

গত সপ্তাহে চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি হিমবাহ ধসে এই বিপর্যয়ের শুরু। এরপর লহেন্দে খোলা নদী দিয়ে বরফ, কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত নেমে আসে। এই স্রোতের তোড়ে ভেসে যায় ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী উপত্যকার পাহাড়ি জনপদগুলো। ভেঙে পড়ে সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো।

ভয়ংকর এই দুর্যোগের এক সপ্তাহ পর এসে উদ্ধার অভিযানের মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর টানেল। কর্মকর্তাদের ধারণা, বন্যার সময় প্রায় ৯০০ শ্রমিক এসব টানেলের ভেতরে আটকা পড়েছেন।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য অংশু কিরণ শাহি রয়টার্সকে বলেন, টানেলের ভেতরে এখনো মানুষের বেঁচে থাকার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী। কয়েকটি টানেলে বাতাস চলাচলের সুযোগ রয়েছে। যোগাযোগ ও বিশ্রামের জন্য নির্মিত কিছু কক্ষে খাবার ও পানি থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চলছে। দুটি স্থানে প্রায় ৯০ জন আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের একটি টানেলে শুকনো কক্ষ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে অক্সিজেন প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ থাকায় পাইপ ব্যবহার করে টানেলের ভেতরে অক্সিজেন পাঠানোর চেষ্টা চলছে।

এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত দল। তবে টানেলের বাইরে জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা ক্রমেই কমে আসছে বলে জানিয়েছেন নেপালের কর্মকর্তারা।

নেপালের জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পাউডেল বলেন, জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা কমলেও উদ্ধার অভিযান চলছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও বলেছেন, নিখোঁজদের খুঁজে বের করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

পাহাড়ি নদী বেয়ে আকস্মিক নেমে আসা এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ৩৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। নওয়ালপরাসি ইস্টে ২১৭, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ২০২, নুওয়াকোটে ১৫৫ এবং রাসুয়ায় ১১৫ জন মারা গেছেন।

নিখোঁজদের মধ্যে ৮৩ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া নুওয়াকোটের ১ হাজার ৫৫৮ জন, রাসুয়ার প্রায় ৮৬৫ জন, প্রায় ৯০০ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক এবং ৫৮৩ বিদেশি নাগরিকের খোঁজ মিলছে না।

দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের পথ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় হেলিকপ্টারনির্ভর উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে নেপালি সেনাবাহিনী। শত শত হেলিকপ্টার ফ্লাইটে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়া গিরং সীমান্ত পারাপারের সড়ক পুনরায় চালু হওয়ার পর তিব্বতে উদ্ধার অভিযান নতুন গতি পেয়েছে। এতে প্রথমবারের মতো ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে দুর্গত এলাকার মূল অংশে পৌঁছাতে পেরেছেন উদ্ধারকারীরা।

চীনা উদ্ধারকারীরা এখন ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন, পার্কিং এলাকা ও আবাসিক স্থাপনায় গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৪ জন নেপালি, ৪৯ জন ভারতীয় এবং ৩৩ জন লাতভিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

দুর্যোগে বিধ্বস্ত নেপালের বহু এলাকায় এখনো মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষে হারানো স্বজন ও বেঁচে যাওয়া সম্পদের সন্ধান করছেন।

এক সপ্তাহ পর নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই বিপর্যয়ে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবু কাদা-পাথরের স্তূপ সরিয়ে এবং পাহাড়ের গভীরে থাকা টানেলে পৌঁছে শেষবারের মতো জীবনের চিহ্ন খুঁজে চলেছেন উদ্ধারকারীরা।

সূত্র: নেপাল নিউজ, রয়টার্স ও হিন্দুস্থান টাইমস

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত