গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘বিতাড়নে’ ট্রাম্পের সমর্থন চায় ইসরায়েল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ২২
ঘরবাড়ি হারিয়ে গাজাবাসীর ঠাঁই হয়েছে এখন অস্থায়ী তাবু। ছবি: এপি
ঘরবাড়ি হারিয়ে গাজাবাসীর ঠাঁই হয়েছে এখন অস্থায়ী তাবু। ছবি: এপি

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন চাইছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণে রাজি করাতে ট্রাম্পের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। খবর দ্য গার্ডিয়ান

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেট আয়োজিত এক সম্মেলনে কাটজ জানান, এই অঞ্চলের ভবিষ্যতের জন্য এটিই ‘একমাত্র সমাধান’। ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরিয়ে নিতে ইসরায়েলি সরকার ‘সমুদ্রপথে, আকাশপথে এবং সম্ভাব্য সব উপায়ে’ প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে ট্রাম্প গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। ওই পরিকল্পনায় গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে পরে তিনি সেই ধারণা থেকে সরে আসেন। গত বছর হোয়াইট হাউসের তৈরি ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনাতেও বিতাড়নের কথা বলা হয়নি। এমন পদক্ষেপকে ব্যাপকভাবে জাতিগত নিধন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে কাটজ জানান, ট্রাম্প ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের প্রস্তাব বাতিল করেননি, বরং পরিকল্পনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন। এ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে তেল আবিবের ওয়াশিংটনের সমর্থন প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস। এদিকে, গাজা ছাড়তে বাধ্য হওয়া ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে মিসর অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বিতাড়নের এই পরিকল্পনা ইসরায়েলে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী মৌসুমের মধ্যে সামনে এসেছে। এ সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর ডানপন্থী মিত্ররা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

কেউ কেউ প্রকাশ্যেই উসকানিমূলক ও কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এক নারী কারাগারের একটি ভিডিও এক্সে পোস্ট করেছেন। কারাগারটির দুরবস্থার জন্য তিনি নিজেকেই দায়ী বলে দাবি করেন।

ভিডিওতে এক বন্দী বেন-গভিরকে বলেন, তাঁরা চিকিৎসাসেবা, গোসলের সুযোগ বা পরিষ্কার পোশাক পাচ্ছেন না। জবাবে বেন-গভির বলেন, ‘কারাগারে ভালো সুযোগ-সুবিধার দিন শেষ। এখানে সবকিছু আমার নির্দেশে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সন্তুষ্ট।’

বুধবার গাজা উপত্যকার ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে একটি ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান পরিদর্শন করেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ওই লাইন থেকে তারা সেনা প্রত্যাহার করবে না। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত