‘যন্ত্রণামুক্ত’ করছেন বিশ্বাসে ১৫ রোগী হত্যা, চিকিৎসকের যাবজ্জীবন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০০: ০৭
প্রতীকী ছবি

জার্মানিতে ১৫ রোগীকে হত্যার দায়ে চিকিৎসকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। একইসঙ্গে তাঁর চিকিৎসা পেশায় কাজ করার ওপর আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।

জার্মানির গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের নাম শুধু ‘ইয়োহানেস এম.’ প্রকাশ করা হয়েছে। বার্লিনের আদালত তাঁকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ১২ নারী ও তিন পুরুষ হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

তদন্তকারীদের ধারণা, এসব ঘটনায় শেষ নয়। প্রসিকিউটররা এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আরও ৭৬টি মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি জার্মানির ইতিহাসের অন্যতম বড় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড হবে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো।

আদালতে জানানো হয়, নিহতরা ২৫ থেকে ৯৪ বছর বয়সী এবং গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তবে মারা যাবেন- এমন গুরুতর অসুস্থতা ছিল না।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বাড়িতে গিয়ে রোগী দেখার সময় ওই চিকিৎসক তাদের সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন ওষুধে প্রাণঘাতী সংমিশ্রণ প্রয়োগ করতেন। অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করতে কয়েকটি ঘটনায় তিনি আগুন পর্যন্ত দিয়েছিলেন।

প্রসিকিউটররা জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তারের ঠিক আগে একদিনে তিনি দুই রোগীকে হত্যা করেন। প্রথমে বার্লিনের কেন্দ্রস্থলে ৭৫ বছর বয়সী এক পুরুষ এবং কয়েক ঘণ্টা পরে পাশের একটি জেলায় ৭৬ বছর বয়সী এক নারী হত্যা করেন। পরে ওই নারীর বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি।

গত মাসে অভিযুক্ত চিকিৎসক আদালতে স্বীকারোক্তি দেন, তিনি নিজের গুরুতর অসুস্থ ১২ রোগীকে হত্যা করেছেন। আদালতে এই চিকিৎসক বলেন, তিনি নিজেকে বিশ্বাস করিয়েছিলেন যে, সঠিক কাজই করছেন। রোগীদের ‘যন্ত্রণা ও অসুস্থতা’ থেকে মুক্তি দিচ্ছেন।

এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘সব সময়ই আমি ভেবেছি, সবার জন্য এটাই সবচেয়ে উত্তম।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত