চীন-পাকিস্তানের যৌথ সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান ভারতের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ৪৭
তুষারঢাকা কুনজেরাব পাসে পাকিস্তানি সীমান্তঘেঁষা এলাকায় চীনা সেনাদের মহড়া। ছবি: বিবিসি
তুষারঢাকা কুনজেরাব পাসে পাকিস্তানি সীমান্তঘেঁষা এলাকায় চীনা সেনাদের মহড়া। ছবি: বিবিসি

হিমালয় অঞ্চলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারে ‘জয়েন্ট বাউন্ডারি কমিশন’ গঠন করেছিল পাকিস্তান ও চীন। তবে নতুন এই যৌথ সীমান্ত চুক্তিকে সম্পূর্ণ অবৈধ দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বিবৃতিতে বলেন, ‘পাকিস্তান ও চীনের বৈধ সীমান্ত নেই। তথাকথিত এই যৌথ কমিশনকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’

তিনি আরও বলেন, ওই অঞ্চলে ভারতের ভূখণ্ডের ওপর পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারত্ব রয়েছে। সেই ভূখণ্ড নিয়ে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে চুক্তির আইনি অধিকার পাকিস্তানের নেই।

এই বিরোধের সূত্রপাত ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে। ওই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটারের শাকসগাম উপত্যকা চীনের কাছে হস্তান্তর করেছিল, যা ভারত লাদাখের অংশ দাবি করে। ভারত ওই চুক্তি কখনোই স্বীকৃতি দেয়নি।

১৯৬৩ সালের চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, কাশ্মীর বিরোধের চূড়ান্ত মীমাংসার পর যে দেশ ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তাদের সঙ্গে পুনরায় সীমানা নির্ধারণের আলোচনা করা হবে। বর্তমান চুক্তিটি সেই শর্তের পরিপন্থী বলে মনে করছে ভারত।

দিল্লির শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জ্যাকব জানান, এটি নতুন কিছু নয়, বরং ১৯৬৩ সালের চুক্তিতে থাকা পুরনো ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন। পাকিস্তান যখন অন্যান্য সীমান্তে অস্থিরতার মুখোমুখি, তখন চীন তাদের এই সীমান্তকে কাঠামোর মধ্যে আনতে চেয়েছে।

তবে জ্যাকব সতর্ক করেন, ভারতের এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। এই পদক্ষেপ ১৯৬৩ সালের চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদকে উপেক্ষা করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে চীনের প্রচার আধিপত্য থাকায় ভারতের প্রতিবাদ বিশ্বমঞ্চে অনেক সময় গুরুত্ব পায় না বলেও তিনি দাবি করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হোসেন হাক্কানি জানান, এই পদক্ষেপ একই সঙ্গে বাস্তবিক ও রাজনৈতিক। সীমান্ত সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) কৌশলগত অবকাঠামো এবং কারাকোরাম হাইওয়ের নিরাপত্তা জোরদার করবে।

তিনি বলেন, ভারত তার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মীরে হস্তক্ষেপ করেছে। এর জবাবে পাকিস্তানও চীনের সঙ্গে থাকা চুক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দ্বিধা করছে না।

হাক্কানি আরও বলেন, চীন বরাবরই কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানকে পাকিস্তানের চোখ দিয়ে দেখে। এই চুক্তি ভারতের সামনে ‘দ্বিমুখী সামরিক হুমকির’ ভয় আরও বাড়াবে।

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। এর পরপরই এই চুক্তি সামনে এনে চীন বুঝিয়ে দিল, বহুপাক্ষিক বৈঠকের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের মূল নীতির বদল ঘটবে না।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত