শ্রীলঙ্কায় স্মরণকালের বৃহত্তম গণকবর, শিশুসহ ৫৭২ কঙ্কাল উদ্ধার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

নিখোঁজ বাবার ছবি হাতে জয়ারুবি জয়াবালান। ছবি: বিবিসি
নিখোঁজ বাবার ছবি হাতে জয়ারুবি জয়াবালান। ছবি: বিবিসি

শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলের জাফনায় একটি গণকবর থেকে শিশুসহ ৫৭২ জনের কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। গৃহযুদ্ধের সময়ে হওয়া এসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে নতুন করে সরব হয়েছেন নিখোঁজদের স্বজনেরা।

জাফনার চেম্মানি এলাকায় একটি শ্মশান সম্প্রসারণের জন্য মাটি খনন করার সময় আকস্মিক এই গণকবরের সন্ধান মেলে। পরে প্রত্নতাত্ত্বিকদের খননকাজের তৃতীয় পর্যায়ে শিশু ও নবজাতকসহ ৫৭২ জনের কঙ্কাল উদ্ধার হয়। কঙ্কালগুলোর পাশ থেকে চুড়ি, স্কুলব্যাগ এবং শিশুর দুধের ফিডারের মতো ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। এটিকে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া বৃহত্তম গণকবর মনে করা হচ্ছে।

সিংহলি সরকারের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ১৯৮৩ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করে তামিল টাইগার বিদ্রোহীরা। দীর্ঘ ২৬ বছরের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলে ২০০৯ সাল পর্যন্ত। যুদ্ধে আনুমানিক এক লাখ নিহত হন এবং প্রায় ২৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন, যাঁদের অধিকাংশই তামিল।

১৯৯৫ সালে তামিল টাইগারদের (এলটিটিই) কাছ থেকে জাফনা উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী। এরপর পুরো চেম্মানি এলাকায় একাধিক সেনা ক্যাম্প ও তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। সে সময় অবরুদ্ধ জাফনাকে অনেকে ‘উন্মুক্ত কারাগার’ বলে বর্ণনা করতেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে গুম করার অভিযোগ ওঠে।

এই গণকবর আবিষ্কারের পর বহু পরিবার তাদের নিখোঁজ প্রিয়জনদের শেষ পরিণতির জবাব পাওয়ার আশা করছে। জাফনায় বসবাসরত জয়ারুবি জয়াবালান জানান, ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে যখন তাঁর বয়স মাত্র ১২ বছর, তখন চেম্মানি এলাকার চেকপোস্ট থেকে তাঁর বাবা কান্দাইয়া জয়াবালানকে সেনাবাহিনী তুলে নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন সেনা ক্যাম্প ও থানায় ঘুরেও পরিবারের সদস্যরা তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।

তিনি বলেন, ‘আমি অনেকের সঙ্গে চেম্মানি গণকবরে গিয়েছিলাম কিছু উত্তরের আশায়, কিন্তু কোনো প্রমাণ পাইনি। আমরা এই কঙ্কালগুলোর বিস্তারিত ফরেনসিক বিশ্লেষণ চাই।’

কান্দাইয়া নিখোঁজ হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে একই এলাকা থেকে ১৮ বছর বয়সী তামিল স্কুলছাত্রী কৃষান্থি কুমারস্বামী নিখোঁজ হন। ১৯৯৮ সালে কলম্বোর আদালত কৃষান্থিকে ধর্ষণ ও হত্যা এবং তাঁর পরিবার তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ সেনা সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই মামলার মরদেহ পরে চেম্মানি এলাকাতেই মাটিচাপা পাওয়া যায়। বর্তমানে আবিষ্কৃত গণকবর কৃষান্থিদের মরদেহের স্থান থেকে মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সোমারত্নে রাজাপাকসে আদালতে স্বীকার করেছিলেন, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিন থেকে চারশ মানুষকে চেম্মানিতে কবর দেওয়া হয়েছিল। তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে এক বছর পর খনন চালিয়ে ১০টির বেশি কঙ্কাল পাওয়া যায়। তবে তৎকালীন সরকার কোনো বিচারিক তদন্ত সামনে এগিয়ে নেয়নি।

শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার কমিশনের কমিশনার গেহান গুনতিলেকে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এটি স্বাভাবিক কবর নয়।’

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত