কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১৫: ৩১
২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশটিতে ইবোলায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন মারা যায়। ছবি: সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। খবর বিবিসির।

ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া অন্তত ২৪৬ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হলেও এটি এখনও বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলেও জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

রোববার (১৭ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসাস বলেন, আক্রান্ত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা কত এবং এর প্রাদুর্ভাব কোন কোন এলাকায় ছড়িয়েছে, তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানিয়েছে, ইবোলার বর্তমান ধরন (স্ট্রেন) বুন্দিবুগিও ভাইরাসের কারণে ছড়াচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, ভাইরাসের এই ধরনটির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো অনুমোদিত কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) এখনও তৈরি হয়নি।

ডব্লিউএইচও বলেছে, পরীক্ষা করে এখন পর্যন্ত আটজনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া, স্বর্ণখনি সমৃদ্ধ শহর মংওয়ালু ও রামপারার বহু মানুষ আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভাইরাসটি কঙ্গোর বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় ২ জনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। কঙ্গোর সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভ্রমণের কারণে এই রোগ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঙ্গো ও উগান্ডাকে অবিলম্বে জরুরি অপারেশন সেন্টার খোলার পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। এর মাধ্যমে আক্রান্তদের সন্ধান ও সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, রোগের বিস্তার বন্ধে শনাক্ত রোগীদের দ্রুত আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত দুটি ‘বুন্দিবুগিও’ ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না।

সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোকে সীমান্ত বন্ধ না করার বা বাণিজ্য ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার অনুরোধ করেছে।

ডিআর কঙ্গোতেই ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, বাদুড়ের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়ায়। কঙ্গোর ইতিহাসে এটি ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব।

আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। এর ফলে তীব্র রক্তক্ষরণ, অঙ্গ বিকলসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা। এখনো এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই।

গত ৫০ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ডিআর কঙ্গোতে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা যায় ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। তখন প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ প্রাণ হারান। গত বছর দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় কাসাই প্রদেশে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মারা যান ৪৫ জন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত