যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুতে টান, বিশ্ববাজারে বাড়ল দাম

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২: ৩৩
জ্বালানি তেল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনাও তেলের দামে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

বুধবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৩০ ডলার বা ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৮৭ দশমিক ৩৯ ডলারে ওঠে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ দশমিক ০৫ ডলার বা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ দশমিক ৩১ ডলারে।

আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ২৪ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মজুত কমে যাওয়া জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি অথবা সরবরাহ সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এতে সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।

তবে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের মজুত প্রায় ৯ লাখ ১৮ হাজার ব্যারেল এবং ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেটের মজুত ৩ লাখ ৫৫ হাজার ব্যারেল বেড়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা জ্বালানি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলা এবং জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দামের ঊর্ধ্বগতির আরেকটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ওপেক প্লাসের সম্ভাব্য উৎপাদন নীতিকে। রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে তিন মাসের জন্য উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে পারে জোটটি। এতে তেলের বাজারে নতুন সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুতের চিত্র, ওপেক প্লাসের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র : রয়টার্স, ফার্স্টপোস্ট

Ad 300x250

সম্পর্কিত